খুঁজুন
, ,

বিএনপি ও জামায়াত জুলাই আন্দোলনে ছিল না: ফয়জুল করীম

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি ও জামায়াত জুলাই আন্দোলনে ছিল না: ফয়জুল করীম
শেয়ার করুন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই রাজপথে ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিএনপি ও জামায়াত এই আন্দোলনে ছিল না। কিন্তু আন্দোলন সার্থক হওয়ার পর যে যার মতো নিজেদের আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড দাবি করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা গোপনে কারোর সঙ্গে আঁতাত বা কন্ট্রাক্ট করে আন্দোলন করেনি। রাজপথে থেকে সশরীরে আন্দোলন করেছে। সবার বাঁচার পথ থাকলেও আমাদের বাঁচার পথ ছিল না।

 

বুধবার (০৫ আগস্ট) বিকেলে নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে তাদের কোনো বিবৃতি বা অংশগ্রহণ ছিল না। তারেক রহমান দেশেই ছিলেন না। ফখরুল সাহেব বলেছেন, আন্দোলন আমাদের না। জুলাই বিপ্লবের আগে শফিক সাহেবকে এ দেশের মানুষ ভালোভাবে চিনতই না। যদি আন্দোলন সার্থক না হতো তাহলে তাদের বের হওয়ার অনেক জায়গা ছিল। এরা আওয়ামী লীগকে বলত আমরা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত না, আমরা আপনাদের পক্ষে ছিলাম।

 

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, আজকে অনেকে রাজা হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। মন্ত্রী হয়ে ক্ষমতায় গিয়েছেন। আমরা রাস্তায়, ট্যাংকের সামনে ছিলাম। ফাঁসির রশির তোয়াক্কা না করে দেশ, ইসলাম, মানুষের বৈষম্য, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জীবনের মায়া ত্যাগ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে।

 

 

প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করে ফয়জুল করীম বলেন, মানুষকে জাঁতাকলে পিষ্ট করার জন্য আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে ছিল?

 

সম্প্রতি বিভিন্ন ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির বলেন, সরকারি দল, বিরোধী দল আবার মারামারি শুরু হয়ে গেছে। অন্যায় করলে সংসদে ফয়সালা করুন, ক্যাম্পাসে মারামারি করেন কেন? হল ছাড়তে বাধ্য করা, ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা- এগুলো কেন করছেন। এর জন্য কি আন্দোলন হয়েছে, ছাত্ররা জীবন দিয়েছে।

 

তিনি সরকারকে বলেন, আসলে আপনার শিক্ষা হয়নি। মিঠা কথায় পেট ভরে না। নরম নরম কথা বলবেন আর গ্যাস, তেল, বিদ্যুতের দাম বাড়াবেন, বাংলাদেশের মানুষ নীরব আছে। তবে নীরবতা যখন ভাঙবে বিগত সরকারের মতো আপনাকেও দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। যদি ভালো কাজ করেন তাহলে বন্ধু, আর যদি খারাপ কাজ করেন, ইসলামের সঙ্গে গাদ্দারি করেন, দেশের জনগণের সাথে বেইমানি করেন, যদি খুন হয়, গুম হয়, মায়েরা ধর্ষিত হয়, বিধবা হয়, তাহলে আন্দোলন হবে, সংগ্রাম হবে।

 

এর আগে ইসলামী আন্দোলন বরিশাল মহানগর শাখা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের মহানগর শাখার সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ লোকমান হাকিম।

 

সমাবেশ শেষে নগরীতে গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অশ্বিনী কুমার হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

আ. লীগের দখলে অর্ধেক, বাকি অর্ধেকে বিএনপিপন্থিদের মার্কেট নির্মাণ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
আ. লীগের দখলে অর্ধেক, বাকি অর্ধেকে বিএনপিপন্থিদের মার্কেট নির্মাণ
শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের পূর্বদেলুয়ায় ‘ক’ গেজেট ভুক্ত সরকারি জায়গার অর্ধেক আগে দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) স্থানীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে। এবার বাকি অর্ধেক জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট শরিফুল ইসলাম ও আইয়ুব আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

সরকারি জায়গায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানো হলেও সেটি খুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এরপরও নির্মাণকাজ চলমান থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের পূর্বদেলুয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পূর্বদেলুয়া মৌজায় প্রায় ২৯ শতাংশ সরকারি জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ জায়গা আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলী দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাকি ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছেন বিএনপিপন্থি শরিফুল ইসলাম ও আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন। ইতোমধ্যে ভবনের একতলার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়টি একাধিকবার বড়হর ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জায়গাটি সরকারি সম্পত্তি উল্লেখ করে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে সেই সাইনবোর্ড খুলে ফেলে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভবন মালিক ও বিএনপি-সংশ্লিষ্ট শরিফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মানুষজন হুমকি দিয়েছিল, তাই নায়েব ব্যানার টানিয়ে দিয়েছিল। নায়েব কাগজ দেখে বলছে সব ঠিক আছে। আমরা মামলা করেছি কেসের নথি জমা দিয়েছি। রায় তাড়াতাড়ি পাবো। আমরা ১৫ কিনেছি, ১৫ই খাই। গেজেটে এসেছে তাই সমস্যা।

 

তিনি আরও বলেন, এইসব বিষয়ে নিউজ করার দরকার নেই। আমরা ভাই ভাই, আমি আমিনের কাজ করছি। সামান্য এই বিষয় নিয়ে নিউজ করার দরকার নাই।

 

এবিষয়ে বড়হর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মো. মঈন উদ্দীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ওনারা (শরিফুল ইসলাম গং) জোর করে ভবন নির্মাণ করেছেন। তারা তো বিএনপিই করে, আগে অর্ধেক আওয়ামী লীগ দখল করেছিল। এখন বিএনপি ক্ষমতায় আছে, ওরা বিএনপি করে, তাই ওরা তুলেছে এই। জায়গা তো আমাদেরই। এটি সরকারি জায়গা, আমরা সাইনবোর্ড দিয়েছিলাম। তবে রাতের আঁধারে সেটি তুলে দেওয়া হয়েছে। ওরা যে সরিয়ে ফেলেছে, সেই রিপোর্টও এসিল্যান্ড অফিসে দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে উল্লাপাড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ফোন করলেও তারা রিসিভড করেননি।

 

তবে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা. নুর নাহার বেগম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় দখলের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। তদন্ত করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বলে দেব। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তবে দখলদারকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যালকের অ্যাকাউন্টে লেনদেন করেন সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
শ্যালকের অ্যাকাউন্টে লেনদেন করেন সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল
শেয়ার করুন

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১১ শত কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। সংস্থাটি বলছে, দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ সম্পদের তথ্য গোপন করতে শ্যালকের ব্যাংক হিসাবে এসব সম্পদ জমা করেন। এ ঘটনায় মনিরুল, তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা ও শ্যালকসহ চারজনকে আসামি করে দুটি মামলা করেছে দুদক।

 

আওয়ামী শাসনামলজুড়ে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম। ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়ে পালানো এই কর্মকর্তার দুর্নীতি অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিপুল সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তার শ্যালক রেজাউল করিম শাহীনের ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার ৪৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য পায় সংস্থাটি। এছাড়া ২৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ মিললেও কোনো আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি শ্যালক শাহীন।

দুদকের উপ-পরিচালক মোজাম্মিল হোসেন জানান, মনিরুল ও তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা তাদের সম্পদ গোপন করতে শ্যালককে হস্তান্তর করেন। সিপাহী বাবা শাহীনকে ২৫ কোটি টাকা দান করেছেন দেখানো হয়েছে, যার কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।

একইভাবে মনিরুলের শ্যালক শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার হিসাবেও দুদক খুঁজে পেয়েছে ৫৮ কোটি টাকার বেশি মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য। এছাড়া অবৈধ সম্পদ পেয়েছে ১৫ কোটি টাকার বেশি।

এদিকে, সাবেক এই এসবি প্রধান মনিরুলের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি এনজিওতে অর্থ পাচার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলেও জানায় দুদক।

বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা
শেয়ার করুন

নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের কথা বললেও অন্যদের বেলায় জামায়াতে ইসলামী সেই নীতি অনুসরণ করতে চায় না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। পিরোজপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেছেন, বিরোধী দলে থাকতেই যারা একজন মানুষকে নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দেন, রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে পেলে তারা কী করবেন?

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তাসনিম জারা জানান, গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। তিনি সরকারি গেজেটভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবে তার দাফন ঘিরে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাসনিম জারা লেখেন, ‘আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে কবর খুঁড়তে কাউকে ডেকে আনতে হয় না। খবর পেয়ে পাড়ার ছেলেরা কোদাল হাতে নিজেরাই চলে আসে। কেউ বাঁশ কেটে আনে, কেউ চাটাই। মৃত মানুষের দাফনে দেরি করতে নেই, এটা শুনেই বড় হয়েছি।’

 

তিনি অভিযোগ করেন, মানিক পশারীর মৃত্যুর পর স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন এবং মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দেন, তাকে পিরোজপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এতে মরদেহ নিয়ে দিনভর উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে হয় পরিবারকে।

 

মৃতের মেয়ে সীমু আক্তারের বক্তব্য তুলে ধরে তাসনিম জারা জানান, বাড়িতে প্রথমে একটি কবর খোঁড়া হলেও কয়েকজন এসে তা ভরাট করে দেন। পরে সীমু আক্তার তার ফুফুদের নিয়ে নতুন করে কবর খোঁড়েন। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অন্য কেউ কবর খুঁড়তে এগিয়ে আসেননি।

 

তিনি লেখেন, ‘যে কোদাল পাড়ার ছেলেদের হাতে থাকার কথা, সেদিন তা ছিল মৃত ব্যক্তির মেয়ে আর বোনেদের হাতে।’

 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতের পর পুলিশ পাহারায় পরিবারের সদস্যদের খোঁড়া কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়া পরিবারের বাইরের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

 

পোস্টে তাসনিম জারা আরও উল্লেখ করেন, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তাকে গার্ড অব অনার ও পিরোজপুরে দাফন করতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন। অথচ দাফনের পর একই নেতা দাবি করেন, জামায়াতের নেতারা লাশের রাজনীতি করেন না।

 

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, কোনো ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের নিষ্পত্তি দাফন আটকে দিয়ে কিংবা মাইকে ঘোষণা দিয়ে করা যায় না।

 

তিনি লেখেন, ‘মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, সেই প্রশ্ন আপনি চাইলে তুলতে পারেন। তোলার জায়গাও আছে। যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান আছে, আদালত আছে।’

 

মৃত ব্যক্তির প্রতি সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণত জানাজার আগে মৃতের পরিবারের সদস্যরা তার ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু পিরোজপুরের ঘটনায় সেই সুযোগও পায়নি মানিক পশারীর পরিবার। এমনকি নিজের গ্রামে তার জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

জামায়াতের ভূমিকার সমালোচনা করে তাসনিম জারা লেখেন, ‘পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না’ এই কথাটা ওনারা এমনভাবে বলেন, যেন এই মাটির দলিল ওনাদের নামে লেখা। যেন একজন মানুষ নিজের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে শুয়ে থাকবেন কি না, সেই অনুমতিও তাদের কাছ থেকে নিতে হবে।’

 

একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় দল হিসেবে জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। অথচ এখন সেই দলের নেতাকর্মীরাই কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন কিংবা কার কবর কোথায় হবে, তা নির্ধারণ করতে চাইছেন।

 

তাসনিম জারা আরও বলেন, একসময় জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশেও দেশ ছাড়ার স্লোগান দেওয়া হতো। এমন বক্তব্য কতটা অন্যায়, তা তাদের বোঝার কথা। কিন্তু বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেই তারা সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

পোস্টের শেষাংশে জামায়াতের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাসনিম জারা লেখেন, ‘নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে জামায়াত ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, ডিউ প্রোসেস আর মানবিক মর্যাদার কথা বলেন। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে সেটা করতে নারাজ।’

 

তিনি আরও লেখেন, ‘ভোটের আগে আর বক্তৃতায় ইনসাফের কথা বলেন। কিন্তু একজন মৃত মানুষের সঙ্গে ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। বিরোধীদলে থাকতেই নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ওনাদের হাতে গেলে কী করবেন?’

 

তবে তাসনিম জারার এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাদের কোনো নতুন বক্তব্য ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।