খুঁজুন
, ,

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শেয়ার করুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ -এর কোনো সরাসরি আইনি ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এর রাজনৈতিক সমঝোতার গুরুত্ব কোনো আইনি ভিত্তির চেয়েও অনেক বেশি।

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) সময় যে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হলো, তার কি কোনো আইনি ভিত্তি আছে? নাই। কিন্তু এই রাজনৈতিক সমঝোতাটা আইনি ভিত্তির চেয়েও বেশি।’

 

সনদটির আইনি স্বীকৃতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যখন প্রশ্ন উঠেছিল জনগণ এটি চায় কি চায় না এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের শেষ দিকে এসে এর আইনি ভিত্তি দেয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তখন বিষয়টি একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নিয়ে আসার প্রয়োজন দেখা দেয়।’

 

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য সে সময় নানা ধরনের আলোচনা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা তখনও বলেছিলাম আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে যাই। কিন্তু কেউ আর রাজি হলো না। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হলে তারাও এই দায়িত্ব নিতে চায়নি। আদালত থেকে বলা হয়েছ-এটি একটি রাজনৈতিক বিষয়, আপনারাই রাজনৈতিকভাবে এর সমাধান করুন।’

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আর কোনো জুলাই জাদুঘর না হয় সে জন্য চাই রাজনৈতিক ঐক্য ও বিরোধী দলের সহযোগিতা। জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের উত্থানের পথ বন্ধ করতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক ঐক্যই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

 

তিনি আরও বলেন,‘ এ রাষ্ট্রে যেন আর কোনো ‘জুলাই’ সংঘটিত না হয়, সে জন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে লংমার্চের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। বিচার কার্য পরিচালনায় বিচারকরা যথেষ্ট স্বাধীন। সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী দেশ ও জনগণ। জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হলে তারাও সার্বভৌম হবে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে সরকার। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে অনেক সংকট এড়ানো সম্ভব। রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি না করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানাই।’

ক্যান্সার ধরা পড়ার ‘১৫ মিনিটের মধ্যেই’ হিনাকে বিয়ে করেন প্রেমিক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
ক্যান্সার ধরা পড়ার ‘১৫ মিনিটের মধ্যেই’ হিনাকে বিয়ে করেন প্রেমিক
শেয়ার করুন

দীর্ঘ ১৩-১৪ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, কিন্তু বিয়ের পরিকল্পনা ছিল না কখনোই। তবে মারণব্যাধি ক্যান্সার বদলে দিল জীবনের সব হিসাব।

অসুস্থতার খবর জানার পরই দীর্ঘদিনের প্রেমিক রকি জয়সওয়ালের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অভিনেত্রী হিনা খান। আর সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবে রূপ নিতে সময় লেগেছিল মাত্র ১৫ মিনিটেরও কম!

সম্প্রতি টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার নতুন অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে হাজির হয়েছিলেন হিনা। সেখানেই নিজের বিয়ের পেছনের গল্প শোনান অভিনেত্রী। জানান, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক হলেও বিয়ে নিয়ে কখনো আলাদা করে পরিকল্পনা করেননি তারা।

কিন্তু ক্যান্সার ধরা পড়ার পর জীবনের অনিশ্চয়তা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

হিনা জানান, ২০২৫ সালের ৪ জুন মুম্বাইয়ে নিজেদের বাড়ির ছাদে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করেন তারা। সে সময় তৃতীয় পর্যায়ের স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল অভিনেত্রীর। জীবনের কঠিন সেই সময়েই সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দুজন।

অনুষ্ঠানে বিয়ের দিনের একটি ছবি দেখানো হলে পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে যান হিনা। জানান, সিদ্ধান্তটি ছিল একেবারেই আকস্মিক। আগে থেকে বিয়ের কোনো প্রস্তুতি বা আয়োজন ছিল না তাদের। দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময়ের সম্পর্ক একপর্যায়ে ১৩-১৪ বছরে গড়ায়। তবু বিয়ের কথা ভাবেননি তারা।

কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত? এর ব্যাখ্যায় হিনা জানান, শারীরিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় রকিকে দুটি বিকল্প দিয়েছিলেন তিনি। হয় তাকে ছেড়ে নিজের জীবন নতুন করে শুরু করতে হবে, পছন্দমতো কাউকে বিয়ে করতে হবে; নয়তো তাকেই বিয়ে করতে হবে। কারণ, পরদিন কী ঘটবে, সে নিশ্চয়তা তার কাছে ছিল না।

 

হিনার এই কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে অসুস্থতার সময় জীবনের অনিশ্চয়তা এবং ভালোবাসার মানুষটিকে পাশে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। তার প্রস্তাবে সম্মতি জানান রকিও। এরপর আর দেরি করেননি তাঁরা।

 

অনুষ্ঠানে সানিয়া মির্জা জানতে চান, তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সত্যিই কি মাত্র ১৫ মিনিটে শেষ হয়েছিল? উত্তরে হিনা জানান, ১৫ মিনিটও নয়, তার চেয়েও কম সময়ে সম্পন্ন হয়েছিল বিয়ের আয়োজন।

 

ক্যান্সারের মতো কঠিন বাস্তবতার মুখেও ভালোবাসা ও সম্পর্কের প্রতি এমন সিদ্ধান্ত হিনার জীবনের এক আবেগঘন অধ্যায় হয়ে রয়েছে। তার এই গল্প নতুন করে আবেগাপ্লুত করেছে ভক্তদের।

বললেন রুহুল কবির রিজভী গায়ের জোরে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায় বিরোধী দল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ
বললেন রুহুল কবির রিজভী গায়ের জোরে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায় বিরোধী দল
শেয়ার করুন

সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা না করে ও আইন না মেনেই বিরোধী দল গায়ের জোরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জুলাই সনদে কিছু বিষয়ের জন্য সাধারণ আইন প্রয়োজন, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের প্রশ্ন জড়িত। সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে তো একটা আইনি রূপ লাগবে। কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন না করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায়। তারা যেটা বলছে, তা গায়ের জোরে বাস্তবায়ন করতে হবে। এখানে কোনো আইনের দরকার নেই, সংবিধানের দরকার নেই।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শামসুল হুদা স্মরণে এ সভার আয়োজন করে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন।

রিজভী বলেন, জুলাই সনদে বিএনপি এবং আরও অনেক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি রয়েছে। এগুলো আলোচনা করে আগে নিষ্পত্তি করি। কিন্তু তারা কোনো কথাই শুনতে চায় না।

 

​স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শামসুল হুদা ছিলেন প্রায় ৪০ বছরের পরীক্ষিত ও বিনয়ী এক রাজনীতিক। কোনোদিন কারও সঙ্গে ঝগড়া করেননি বা সংঘর্ষে জড়াননি। আজকে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন বাড়ছে, তখন তার মতো অভিভাবকতুল্য নীতি-আদর্শে অটল নেতার অভাব আমরা তীব্রভাবে অনুভব করি।

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা, দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন প্রমুখ।

 

এর আগে সকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রিজভী বলেন, জামায়াতের লংমার্চ করার যৌক্তিকতা কি তা জনগণ জানে না, আমরাও বুঝতে পারছি না। তেল, গ্যাসের সংকট কি বিএনপি সরকারের তৈরি করেছে? সরকার গ্যাস কি বাংলাদেশ থেকে পাচার করে দিয়েছে? এই সংকট আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধের কারণে। সরকার বিকল্প উৎস হিসেবে মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস আনা শুরু করেছে। সারা দেশে জ্বালানি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসছে। এটাতে লংমার্চ কর্মসূচি দেওয়ার কিছু নেই।

তিনি বলেন, সরকার ইতিবাচক রাজনীতি শুরু করেছে। এতে বিরোধী দলের রাজনৈতিক শূন্যতা বা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মানুষের কাছে কিছু একটা দেখাতে হবে, এজন্য লংমার্চে কর্মসূচি দিয়েছে বিরোধী দল। এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। জনগণের কাছেও গ্রহণযোগ্যতাও নেই।

টাকার লোভে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু লোক: মির্জা আব্বাস

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
টাকার লোভে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু লোক: মির্জা আব্বাস
শেয়ার করুন

বিএনপির কিছু লোক টাকার বিনিময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসা শুরু করেছেন। আপনারা দয়া করে চোখ-কান খোলা রাখবেন, কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। টাকার বিনিময়ে আমাদের বিএনপির কিছু লোক তাদের আশ্রয় দিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, সবাইকে একযোগে প্রতিহত করা হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর শাহজাহানপুরে ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

ভারতে অবস্থানরত কিছু আওয়ামী লীগ নেতার দেশে ফেরার গুঞ্জন নিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা শুনছি আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ভারত থেকে এসে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর আমাদের দলের ভেতরকার কিছু লোভী মানুষ টাকার লোভে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। সাফ কথা- বিএনপির যে শত্রু, সে আমারও শত্রু। দলের ভেতরের কেউ যদি এদের সহযোগিতা করেন, আমাদের জানাবেন, সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষের মিত্ররা কখনো আমাদের বন্ধু হতে পারে না। খুব সাবধানে কাজ করতে হবে। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ গায়ের রং বদলাতে চাইলে দল তাদের কোনো ছাড় দেবে না।

 

মির্জা আব্বাস বলেন, এক শ্রেণির লোক নিজেদের কোমরে জোর না পেয়ে আওয়ামী লীগের সাথে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল-মিটিং করার চেষ্টা করছে এবং দেশে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে কোনো বাধা নেই, আপনারা রাজনীতি করুন। কিন্তু অপকর্ম করলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা তা হাত গুটিয়ে বসে দেখবে না, শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।

 

এসময় দেশের কল্যাণে বিরোধীদলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।