খুঁজুন
, ,

শুধু ‘সরি’ বললেই কি মুছে যায় সব কষ্ট? ক্ষমা চাওয়ার ৪ ধাপ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
শুধু ‘সরি’ বললেই কি মুছে যায় সব কষ্ট? ক্ষমা চাওয়ার ৪ ধাপ
শেয়ার করুন

আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা শুধু ভুল স্বীকার নয়, সম্পর্ক মেরামতেরও একটি প্রক্রিয়া। মনোবিজ্ঞানী মলি হাওয়েসের মতে, কার্যকর ক্ষমা প্রার্থনার জন্য প্রথমে অন্যের কষ্ট মন দিয়ে শুনতে হয়, এরপর নিজের দায় স্বীকার, ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বাস্তব পরিবর্তন আনতে হয়।

কাউকে কষ্ট দেওয়ার পর ‘সরি’ বলা সহজ। কিন্তু সেই কথায় কি সব অভিমান দূর হয়? সব ভুল কি আগের মতো সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে পারে? বাস্তবে, শুধু মুখে দুঃখ প্রকাশ করলেই অনেক সময় ক্ষত সারতে চায় না। প্রয়োজন হয় নিজের কাজের প্রভাব বোঝা, দায় নেওয়া এবং আচরণে পরিবর্তন আনার।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী মলি হাওয়েস তার এ গুড অ্যাপোলজি: ফোর স্টেপস টু মেক থিংস রাইট বইয়ে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনার চারটি ধাপ তুলে ধরেছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও পরামর্শদানের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা যায়।

ক্ষমা চাওয়া কঠিন কেন?

মানুষের পক্ষে নিজের ভুল স্বীকার করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। হাওয়েসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্ক দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে চায়। নিজের সিদ্ধান্ত বা আচরণ ভুল ছিল কি না, তা নতুন করে পর্যালোচনা করতে মানসিক পরিশ্রম প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিজের ভুল এবং অন্যের ওপর তার প্রভাব বুঝতেও আমরা অনেক সময় ব্যর্থ হই।

এ ছাড়া নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ধরে রাখার প্রবণতাও ক্ষমা চাওয়ার পথে বাধা তৈরি করে। কেউ নিজেকে ভালো মানুষ মনে করলে অন্য কেউ তার আচরণে কষ্ট পেয়েছে— এ কথা মেনে নিতে তার অস্বস্তি হতে পারে। কারণ, নিজের ভালো মানুষ হওয়ার বিশ্বাসের সঙ্গে অন্যকে আঘাত করার বাস্তবতা সাংঘর্ষিক মনে হয়।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারণাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। আত্মবিশ্বাসী থাকা এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিলে মানুষ নিজের ভুল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে অনীহা বোধ করতে পারে।

প্রথম ধাপ: আগে শুনুন, পরে বলুন ‘সরি’

হাওয়েসের চার ধাপের প্রথমটিই অনেকের কাছে বিস্ময়কর। তার মতে, আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনার শুরুতে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলার প্রয়োজন নেই; বরং যাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে, তার অভিজ্ঞতা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।

এ পর্যায়ে নিজের উদ্দেশ্য, যুক্তি কিংবা চরিত্র ভালো প্রমাণ করার চেষ্টা মুখ্য নয়। বরং নিজের কাজ বা নিষ্ক্রিয়তা অন্য ব্যক্তির ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, সেটি বোঝাই প্রধান লক্ষ্য।

অনেক সময় আমরা মনে করি, নিজের আচরণে অন্য ব্যক্তি কতটা কষ্ট পেয়েছেন, তা আমরা জানি। কিন্তু বাস্তবে সেই ধারণা ভুল হতে পারে। এমনকি কাছের মানুষের অনুভূতি বুঝতেও আমরা ব্যর্থ হতে পারি।

তাই আত্মপক্ষ সমর্থন না করে অপর ব্যক্তিকে তার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ দেওয়া জরুরি। এতে তার কষ্টের প্রকৃত কারণ বোঝা সহজ হয়।

দ্বিতীয় ধাপ: নিজের দায় স্বীকার করুন

অন্যের অভিজ্ঞতা মন দিয়ে শোনার পর আসে দায় স্বীকারের পালা। হাওয়েসের মতে, এ সময় আত্মপক্ষ সমর্থন না করে নিজের আচরণের প্রভাব মেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

‘তুমি কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত’ কিংবা ‘তুমি আমাকে ভুল বুঝেছ বলে দুঃখিত’—এ ধরনের বক্তব্যে ক্ষমা প্রার্থনার দায়িত্ব অন্য ব্যক্তির অনুভূতি বা বোঝার ওপর ঠেলে দেওয়া হতে পারে।

এর পরিবর্তে ‘আমার আচরণে তোমাকে কষ্ট দিয়েছি, তার জন্য আমি দুঃখিত’—এ ধরনের বক্তব্য বেশি দায়িত্বশীল। এতে নিজের কাজের কারণে অন্য ব্যক্তি কষ্ট পেয়েছেন, সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে কাউকে কষ্ট দেওয়ার অর্থ সব সময় এই নয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যায় করেছেন। ভুল বোঝাবুঝি বা অনিচ্ছাকৃত আচরণেও কেউ আঘাত পেতে পারেন। হাওয়েসের মতে, ক্ষমা চাওয়ার উদ্দেশ্য শাস্তি মেনে নেওয়া নয়; বরং নিজের আচরণের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সম্পর্ক মেরামতের দায়িত্ব নেওয়া।

তৃতীয় ধাপ: ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা

ক্ষমা প্রার্থনার তৃতীয় ধাপ হলো ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ। ব্যক্তিগত সম্পর্কে এই উদ্যোগ সব সময় অর্থ বা বস্তু দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রতীকী কোনো পদক্ষেপও সম্পর্কের ক্ষত সারাতে সাহায্য করতে পারে।

যেমন, কারও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান নষ্ট করে ফেললে আবার সেই অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা করা যেতে পারে। কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে নতুন করে সেই কাজটি সঠিকভাবে করার সুযোগ চাওয়া যেতে পারে।

অতীতের ঘটনা বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু একই অভিজ্ঞতা আরও ভালোভাবে তৈরি করার চেষ্টা করা যায়। হাওয়েসের মতে, এমন উদ্যোগ সম্পর্কের মানুষদের একসঙ্গে নতুন ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরির সুযোগ দেয়।

চতুর্থ ধাপ: একই ভুল যেন আবার না হয়

ক্ষমা চাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ প্রায়ই উপেক্ষিত ধাপ হলো আচরণে বাস্তব পরিবর্তন আনা। অন্য ব্যক্তি ক্ষমা করে দিলে কিংবা সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করলে অনেকেই মনে করেন, সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু একই আচরণ আবার ঘটলে পুরোনো কষ্ট নতুন করে ফিরে আসতে পারে।

শুধু ‘আর এমন হবে না’ বলে প্রতিশ্রুতি দিলেই যথেষ্ট নয়। যে পরিস্থিতি বা অভ্যাসের কারণে ভুলটি ঘটেছে, তা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে।

যেমন, সময়মতো দায়িত্ব পালন করতে না পারার কারণে সম্পর্কে সমস্যা তৈরি হলে শুধু ক্ষমা চাওয়ার বদলে সময় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বারবার কথা দিয়ে কথা রাখতে না পারলে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ধরন বদলানো এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা জরুরি।

হাওয়েসের মতে, পরিবর্তনের পক্ষে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে ভালো উদ্দেশ্যও ব্যর্থ হতে পারে। তাই ক্ষমা প্রার্থনার শেষ ধাপটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ব্যবস্থা তৈরি করা।

ভাঙা সম্পর্কও কি নতুনভাবে গড়ে উঠতে পারে?

জাপানি শিল্পধারণা ‘কিনৎসুকুরোই’-এর উদাহরণ দিয়ে হাওয়েস সম্পর্ক মেরামতের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। এ পদ্ধতিতে ভাঙা মাটির পাত্রের ফাটল সোনালি উপাদান দিয়ে জোড়া লাগানো হয়। ফলে ভাঙনের চিহ্ন পুরোপুরি আড়াল না হয়ে নতুন সৌন্দর্যের অংশ হয়ে ওঠে।

সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আঘাত বা ভুলের স্মৃতি থেকে যেতে পারে। কিন্তু সেই ক্ষত কীভাবে মেরামত করা হচ্ছে, তা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দুজন মানুষ যখন নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন, ক্ষতির দায় স্বীকার করেন এবং সম্পর্ক ঠিক করার জন্য একসঙ্গে কাজ করেন, তখন তাঁদের মধ্যে নতুন ধরনের বোঝাপড়া তৈরি হতে পারে। অতীতের ভুল তখন শুধু কষ্টের স্মৃতি হয়ে না থেকে সম্পর্ককে আরও ভালোভাবে বোঝার উপলক্ষও হতে পারে।

ক্ষমা গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাড়াহুড়া নয়

শুধু ক্ষমা চাওয়াই নয়, ক্ষমা গ্রহণের ক্ষেত্রেও সময় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সম্পর্ক ঠিক হয়ে যাক— এই আশায় মানুষ নিজের কষ্ট পুরোপুরি প্রকাশ করার আগেই ক্ষমা করে দেন। এতে সমস্যার প্রকৃত কারণ অমীমাংসিত থেকে যেতে পারে।

হাওয়েসের পরামর্শ, কষ্ট পাওয়া ব্যক্তির নিজের অনুভূতি বোঝা এবং প্রকাশ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় নেওয়া উচিত। তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলতে প্রস্তুত না থাকলে পরে আলোচনা করার সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

ক্ষমা গ্রহণ মানেই সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক করে ফেলতে হবে—এমন নয়। সম্পর্কের ক্ষত কতটা গভীর, কী ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে কী পরিবর্তন প্রয়োজন, তা বোঝার সুযোগ থাকা জরুরি।

হাওয়েসের মতে, আন্তরিকতা ছাড়া ক্ষমা চাওয়ার কোনো অর্থ নেই। শুধু পরিস্থিতি সামাল দিতে কিংবা অন্য ব্যক্তিকে শান্ত করতে এমন কথা বলা উচিত নয়, যা নিজের বিশ্বাস বা উপলব্ধির সঙ্গে মেলে না।

আবার কেউ যদি স্পষ্টভাবে সম্পর্কের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বা ওই ঘটনা নিয়ে আর কথা বলতে নিষেধ করেন, তাহলে তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করা প্রয়োজন। ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও অপর ব্যক্তির সীমারেখা অমান্য করা ঠিক নয়।

সরাসরি ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ না থাকলেও নিজের আচরণ নিয়ে ভাবা, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে একই ক্ষতি না করার চেষ্টা করা সম্ভব।

ফটোসাংবাদিককে আটকে বিএনপি নেতা বললেন ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
ফটোসাংবাদিককে আটকে বিএনপি নেতা বললেন ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক’
শেয়ার করুন

ঢাকার নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের কবিরপুর এলাকায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন দৈনিক আগামীর সময়ের ফটোসাংবাদিক মহুবার রহমান। একটি পোশাক কারখানার সামনে ছবি তুলতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যবস্থাপকের তোপের মুখে পড়েন তিনি। কেড়ে নেওয়া হয় তার মোবাইল ফোন। পরে তাকে আটকে রেখে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে। ওই নেতা এসে ফটোসাংবাদিককে প্যান্ট খুলে তল্লাশির হুমকি দেন।

 

ঘটনাটি আজ মঙ্গলবার দুপুরের। এদিন ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। কবিরপুর এলাকায় ছবি ও ভিডিও নিতে গিয়েছিলেন মহুবার। গিয়ে দেখতে পান টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক সেখানে। কাজে ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকদের অনেকেই। প্রথমে ইকোটেক্স গার্মেন্টসের সামনে তাদের কর্মস্থলে ফেরার ছবি নেন। আশানুরূপ না হওয়ায় যান একটু দূরে, পলমল গার্মেন্টসের সামনে। সেখানে চলছিল দুপুরের খাবারের বিরতি। শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরোবার সময় সড়ক বিভাজকে দাঁড়িয়ে ছবি ও ফুটেজ নেন তিনি।

 

এমন সময় কারখানার এক নিরাপত্তাকর্মী মহুবারকে ছবি তোলা শেষে দেখা করে যেতে বলেন। পরে ফটকের সামনে গেলে তার কাছে ছবি তোলার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। মহুবার প্রশ্ন করেন, কারখানার বাইরের ছবি তুলতে অনুমতি নিতে হবে কেন? তিনি শুধু শ্রমিকদের বের হওয়ার ছবি ও ফুটেজ নিয়েছেন।

 

এরপর কারখানার ব্যবস্থাপকদের একজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানিয়ে মহুবার বলেন, ‘ওই ব্যবস্থাপক আমাকে পাশের একটি ফটকের সামনে নিয়ে যান। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও ছাড়েনি। তিনি আমাকে কারখানার ভেতরে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। রাজি না হওয়ায় পাশের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে আমাকে আটকে রেখে ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। মুছে দেওয়া হয় ফোনে থাকা ছবি ও তাদের কথোপকথনের ভিডিও।’

 

এ সময় ওই ব্যবস্থাপক ফোন করে সেখানে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে আসতে বলেন। মহুবারের অভিযোগ, ‘ওই নেতা এসে বলে, ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক।’ পরে আমার ব্যাগ খুলে ক্যামেরাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হয়। তবে ক্যামেরায় নেওয়া ছবিগুলো পরীক্ষা করা হয়নি।’

 

এরপর ফোনটি ফেরত দিলেও তাকে জোর করে কারখানার ভেতরে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট অবরুদ্ধ রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেন, ‘দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাবার কথা ছিল। তবে তিনি আগেই ছাড়া পান।’ এ ঘটনায় অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দফাদার এখন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’, মহল্লাদার হবেন ‘গ্রাম পুলিশ’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
দফাদার এখন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’, মহল্লাদার হবেন ‘গ্রাম পুলিশ’
শেয়ার করুন

ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে সরকার। এখন থেকে ইউনিয়ন পরিষদের ‘দফাদার’ পরিচিত হবেন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ নামে আর ‘মহল্লাদার’ পরিচয় পাবেন ‘গ্রাম পুলিশ’ নামে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দীনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৯৬ ও ৪৮ ধারায় দেয়া ক্ষমতাবলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫-এর সংশোধন করা হয়েছে।

সংশোধনী অনুযায়ী, মূল বিধিমালার সর্বত্র ব্যবহৃত ‘দফাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: রিয়াদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: রিয়াদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল
শেয়ার করুন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাম্মি আহম্মেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার মামলায় আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পিটিআই। আগামী ১০ নভেম্বর মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আদালত সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।

 

সম্প্রতি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) ফিরোজ আহমেদ মুন্সী এই চার্জশিট দাখিল করেন।

 

চার্জশিটের বাকি আসামিরা হলেন- জানে আলম অপু, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন এবং অপর আসামি এক জন শিশু। মামলার ছয় আসামিই এখন জামিনে আছেন।

 

এছাড়াও, এই মামলায় আসামিদের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গুলশান থানায় মামলাটি করেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শাম্মী আহম্মেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর (৭৫)।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদীর গুলশান-২-এর ৮৩ নম্বর সড়কের বাসায় তার স্ত্রী সাবেক এমপি শাম্মি আহম্মেদকে গ্রেপ্তারে পুলিশের সঙ্গে অভিযান চালান আসামিরা। তাকে না পেয়ে পুলিশ চলে যায়। এরপর আবার সেই বাসায় গিয়ে শাম্মির স্বামীকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন আসামিরা।

 

২৬ জুলাই বিকেলে বাকি ৪০ লাখ টাকা আনতে ওই বাসায় যান আসামিদের কয়েকজন। বাদী তৎক্ষণাৎ গুলশান থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আবদুর রাজ্জাক, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন ও কিশোর আমিনুল ইসলামকে আটক করে। পরে গ্রেপ্তার হন জানে আলম অপু।

 

চার্জশিটে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আসামিরা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করতেন।

 

সমন্বয়ক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তারা নিয়মিত থানায় যাতায়াত করতেন। বিভিন্ন মামলার আসামি আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও তাদের অবস্থান–সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে সহযোগিতা করে পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তারা।

 

পরে মামলার আসামিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অগোচরে বিভিন্ন লোকজনকে আওয়ামী লীগের দোসর, সহযোগী বা সমর্থক আখ্যা দেন এবং তাদের মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি ও চাঁদা গ্রহণ করেন।

 

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আসামি আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ চাঁদার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দিতে তিনি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন।

 

বিভিন্ন সময় ‘ফ্যাসিবাদী লোকজনকে’ গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

 

জবানবন্দিতে রিয়াদ বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই রাতে শাম্মী আহমেদ গুলশানের বাসায় আছেন, এমন খবর পেয়ে তারা থানায় যান। পরে পুলিশের একটি দল তাদের সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে শাম্মীকে পাওয়া যায়নি।

 

রিয়াদ আদালতকে বলেন, বাসা থেকে ফেরার সময় জানে আলম অপু একটি ইয়ারপড নিয়ে এসেছিলেন। সেই ইয়ারপডে লেখা ছিল ‘শাম্মি ইয়ারপড’। সেটি ফেরত দেওয়ার জন্য তারা পরে আবার ওই বাসায় যান। অপু পানি খাওয়ার অজুহাতে ভেতরে ঢোকেন।

 

এরপর বাদীকে বলা হয়, তারা বুঝতে পারছেন তার স্ত্রী বাসায় আছেন এবং তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হবে। বাদী টাকা দিতে রাজি হলে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। বাদী ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তারা তাতে রাজি হন। পরে সেই টাকা নিয়ে তারা তার বাসায় গিয়ে সমান ভাগ করে নেন।

 

বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের বিষয়ে রিয়াদ বলেন, ২৬ জুলাই বিকেল ৫টায় তিনি ইব্রাহিম হোসেন, সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাবকে ওই বাসায় পাঠান।

 

তার ভাষ্যমতে, পুলিশ তাকে ফাঁদে ফেলার জন্য বাসায় যেতে বলে। তখন তিনি গোলচত্বরে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের কথা বিশ্বাস করে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বাদী থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে তাদের হাতেনাতে আটক করে।

 

জবানবন্দির শেষে রিয়াদ বলেছেন, ‘আমি গরিবের ছেলে। আমি টাকার লোভ সামলাতে পারিনি। আমি ক্ষমা চাই।’