খুঁজুন
, ,

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে ‘হরমুজ’ আবার বন্ধের ঘোষণা ইরানের

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে ‘হরমুজ’ আবার বন্ধের ঘোষণা ইরানের
শেয়ার করুন

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে ফারস নিউজ ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে পুনরায় ‘পূর্বের অবস্থায়’ ফিরে যাবে এবং সশস্ত্র বাহিনী পুরো এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করবে।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং বলা হয়, ইরানের বন্দর ও নৌপথে চলাচলে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

এর আগে, ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে এই জলপথ ‘উন্মুক্ত থাকবে না’। তার এমন পোস্টের পর এমন ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে নতুন এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হবার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর
শেয়ার করুন

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতেই তিনি শব্দটি উল্লেখ করেছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকালে রাধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপির বক্তব্যে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও শিরোনাম পুলিশ সদর দপ্তরের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

 

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশ সদস্যদের অপরাধী ও সংঘবদ্ধ হামলাকারীদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চার পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

এতে আরও বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইন, বিশেষ করে দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১ অনুযায়ী পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, আইজিপি মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এ শব্দ ব্যবহার করেননি।

 

একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির মন্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। অসাবধানতাবশত ওই মন্তব্য করেছেন তিনি।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

টেকনাফে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে যুবলীগ নেতা খোকনের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় ঠিকাদারের ওপর হামলা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
টেকনাফে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে যুবলীগ নেতা খোকনের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় ঠিকাদারের ওপর হামলা
শেয়ার করুন

টেকনাফে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণকাজে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদার আবু বকর ছিদ্দিকের ওপর দফায় দফায় হামলা, মারধর, গলা চেপে হত্যাচেষ্টা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোকন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এর আগেও ঠিকাদারকে কয়েকবার আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

 

এ ঘটনায় গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকায় দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মাঠে হামলার অভিযোগ এনে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার আবু বকর ছিদ্দিক। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল এলাকার বাসিন্দা।

 

এজাহারে আমজাদ হোসেন খোকনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

অভিযুক্ত অপর ৫ জন হলেন, জিয়াউর রহমান, জিল্লুর রহমান, সাকের উল্লাহ, সাইফুল্লাহ ও কামাল হোসেন।

 

অভিযুক্ত খোকন সহ সকলে একাধিক মামলার আসামি।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবু বকর ছিদ্দিক দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উত্তর শীলখালী এলাকায় একটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পান। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি নির্মাণকাজ শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই আমজাদ হোসেন খোকনের নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের কাজে বাধা দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে খোকন তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে ওই এলাকায় কোনো ঠিকাদারি কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদার। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া এবং প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

 

এজাহারে বলা হয়েছে, ২৪ অক্টোবর আশ্রয়কেন্দ্রটির ছাদ ঢালাইয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। এ উপলক্ষে সকাল ১০টার দিকে ঠিকাদার আবু বকর ছিদ্দিক তাঁর সহযোগী নুরুল আলম হেলালীকে সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকায় যান। সেখানে উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির, দুর্যোগ ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পের জেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে খোকন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ঢালাইয়ের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করতে বলেন। এ সময় ঠিকাদার কাজ বন্ধ করার কারণ জানতে চাইলে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং আগের দাবিকৃত ২০ লাখ টাকা না দিলে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।

 

এজাহারে আরও বলা হয়, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঠিকাদারকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে হত্যা এবং লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে খোকন মুঠোফোনে তাঁর সহযোগীদের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্য অভিযুক্তরা এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজন দা, কিরিচ ও লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

 

এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ঠিকাদারকে জাপটে ধরে মারধর করেন। তাঁকে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল ও ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। অন্যরা তাঁর হাত-পা চেপে ধরলে খোকন তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর পকেটে থাকা শ্রমিকদের মজুরির জন্য রাখা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়।

ঠিকাদার ও শ্রমিকদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় পুনরায় নির্মাণকাজ করতে গেলে তাঁকে অপহরণ করে হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

পরে সহকর্মীরা আহত ঠিকাদারকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঠিকাদারের দাবি, ঘটনার ভিডিও মুঠোফোনে সংরক্ষিত রয়েছে এবং অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। এর আগেও তাঁকে কয়েকবার আটকে রেখে হয়রানি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এসব ঘটনার কারণে সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ।

 

এব্যাপারে যুবলীগ নেতা বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

 

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আ. লীগের দখলে অর্ধেক, বাকি অর্ধেকে বিএনপিপন্থিদের মার্কেট নির্মাণ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
আ. লীগের দখলে অর্ধেক, বাকি অর্ধেকে বিএনপিপন্থিদের মার্কেট নির্মাণ
শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের পূর্বদেলুয়ায় ‘ক’ গেজেট ভুক্ত সরকারি জায়গার অর্ধেক আগে দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) স্থানীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে। এবার বাকি অর্ধেক জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট শরিফুল ইসলাম ও আইয়ুব আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

সরকারি জায়গায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানো হলেও সেটি খুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এরপরও নির্মাণকাজ চলমান থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের পূর্বদেলুয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পূর্বদেলুয়া মৌজায় প্রায় ২৯ শতাংশ সরকারি জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ জায়গা আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলী দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাকি ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছেন বিএনপিপন্থি শরিফুল ইসলাম ও আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন। ইতোমধ্যে ভবনের একতলার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়টি একাধিকবার বড়হর ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জায়গাটি সরকারি সম্পত্তি উল্লেখ করে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে সেই সাইনবোর্ড খুলে ফেলে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভবন মালিক ও বিএনপি-সংশ্লিষ্ট শরিফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মানুষজন হুমকি দিয়েছিল, তাই নায়েব ব্যানার টানিয়ে দিয়েছিল। নায়েব কাগজ দেখে বলছে সব ঠিক আছে। আমরা মামলা করেছি কেসের নথি জমা দিয়েছি। রায় তাড়াতাড়ি পাবো। আমরা ১৫ কিনেছি, ১৫ই খাই। গেজেটে এসেছে তাই সমস্যা।

 

তিনি আরও বলেন, এইসব বিষয়ে নিউজ করার দরকার নেই। আমরা ভাই ভাই, আমি আমিনের কাজ করছি। সামান্য এই বিষয় নিয়ে নিউজ করার দরকার নাই।

 

এবিষয়ে বড়হর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মো. মঈন উদ্দীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ওনারা (শরিফুল ইসলাম গং) জোর করে ভবন নির্মাণ করেছেন। তারা তো বিএনপিই করে, আগে অর্ধেক আওয়ামী লীগ দখল করেছিল। এখন বিএনপি ক্ষমতায় আছে, ওরা বিএনপি করে, তাই ওরা তুলেছে এই। জায়গা তো আমাদেরই। এটি সরকারি জায়গা, আমরা সাইনবোর্ড দিয়েছিলাম। তবে রাতের আঁধারে সেটি তুলে দেওয়া হয়েছে। ওরা যে সরিয়ে ফেলেছে, সেই রিপোর্টও এসিল্যান্ড অফিসে দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে উল্লাপাড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ফোন করলেও তারা রিসিভড করেননি।

 

তবে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা. নুর নাহার বেগম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় দখলের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। তদন্ত করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বলে দেব। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তবে দখলদারকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।