মরহুম ফজলুল করিম মাস্টার (১৯৩৫–২০১৯)
ভারুয়াখালী ইউনিয়নের রূপকার, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, জননেতা ও সমাজসংস্কার
আজ ২৭ জুলাই। কক্সবাজারের সিনিয়র অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুল করিমের শ্রদ্ধেয় পিতা, ভারুয়াখালী ইউনিয়নের রূপকার, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, জননেতা ও সমাজসংস্কারক মরহুম ফজলুল করিম মাস্টার-এর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী।
ফজলুল করিম মাস্টার ছিলেন এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি শিক্ষা, প্রশাসন, সমাজসেবা ও রাজনীতিতে সমান দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রেখে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। কর্মময় জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
১৯৫৭ সালে শিক্ষকতা জীবন শুরু করে তিনি রামু খিজারী উচ্চ বিদ্যালয়, পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ভারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়, সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পৌর প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং আমেনা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর হাত ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থী আলোকিত জীবনের পথ খুঁজে পেয়েছেন।
১৯৭৩ সালে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে অবিভক্ত চৌফলদণ্ডী–ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অসামান্য ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারুয়াখালীর লবণশিল্প পরিদর্শনে এলে স্থানীয় চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সফরসঙ্গী হওয়ার বিরল সম্মান লাভ করেন।
১৯৭৫ সালের মার্চ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার মহকুমার প্রথম শ্রেণির অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বিচারক হিসেবে তাঁর সততা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছিল।
মরহুম ফজলুল করিম মাস্টারের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ভারুয়াখালী একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত নবগঠিত ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আজও সর্বজনস্বীকৃত “ভারুয়াখালী ইউনিয়নের রূপকার” হিসেবে স্মরণীয়।
স্থানীয় নেতৃত্বের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি জেলার রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ফজলুল করিম মাস্টার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কক্সবাজার জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও অনন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের স্নেহধন্য ছিলেন।
২০১৯ সালের ২৭ জুলাই তিনি ইন্তেকাল করেন। তবে তাঁর কর্ম, আদর্শ, সততা ও জনসেবামূলক অবদান আজও ভারুয়াখালী তথা কক্সবাজারের মানুষের হৃদয়ে অম্লান। তিনি শুধু একজন শিক্ষক বা জনপ্রতিনিধি নন, ছিলেন একটি প্রজন্মের প্রেরণা এবং জনকল্যাণে নিবেদিত এক আলোকিত ব্যক্তিত্ব।
৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মরহুম ফজলুল করিম মাস্টারকে স্মরণ করছি। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল নেক আমল কবুল করুন, তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনকে ধৈর্য ও শক্তি ধারণের তাওফিক দান করুন।
আমিন।

এডভোকেট শহিদুল্লাহ্ কায়ছার
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬ । ৭:৩৫ অপরাহ্ণ