চুরির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পরিবারের! 

প্রতিবেদক: এম বশির উল্লাহ
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের অভ্যন্তরে নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিচ থেকে দক্ষিণ রাজঘাট এলাকার মনির নামে এক যুবকের লা*শ উদ্ধারের হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন মনির। পরে আজ প্রকল্পের ভেতরে একটি কোম্পানির নির্মাণাধীন ভবনের নিচে তার লা-শ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, মনিরকে চু*রির সন্দেহে আ*টক করে মারধর করা হয়েছিল। একপর্যায়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং পরে ঘটনাটি আড়াল করতে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে এমন আশঙ্কা করছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যে নির্মাণাধীন ভবনের নিচে মনিরের লাশ পাওয়া গেছে, তার আশপাশে সংশ্লিষ্ট নির্মাণশ্রমিকরা ছোট ছোট ঘর তৈরি করে অবস্থান করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকাংশই উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

মনির যদি সত্যিই ওই নির্মাণাধীন ভবন বা প্রকল্পের কোনো স্থাপনা থেকে চুরি করে থাকেন, তাহলে তাকে আটক করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ ছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোনো ব্যক্তিকে মারধর বা হত্যা করার অধিকার কারও নেই।

মনির গত দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি কোথায় ছিলেন, কারা তাকে আটক করেছিল, তার ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন হয়েছিল কি না, এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা জরুরি।

এ বিষয়ে আমাদের গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তবে মনিরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চুরির অভিযোগ সত্য হলেও কোনো ব্যক্তিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হত্যা করার বৈধ অধিকার নেই। তাই মনিরের মৃ*ত্যুর ঘটনাটি দুর্ঘটনা, স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হ*ত্যাকাণ্ড তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন