মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে আয়োজিত র্যালি ও সমাবেশে অংশ নিয়েছেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফোরকান উল্লাহ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার মতিঝিল ও পল্টন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা থাকার তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে নানা মন্তব্য।
গত ২২ আগস্ট ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে রামু থানার উদ্যোগে আয়োজিত মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশে অংশ নেন ফোরকান উল্লাহ। মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
কর্মসূচিতে ফোরকান উল্লাহর অংশগ্রহণের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো মাদক মামলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
*দুটি মাদক মামলা*
মামলার নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল মতিঝিল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় ফোরকান উল্লাহকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। মামলার এফআইআর নম্বর ৩৫/১৭৪। নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই পল্টন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। ওই মামলার এফআইআর নম্বর ৩৮/৩০৭। এ মামলাতেও ফোরকান উল্লাহ আসামি।
তবে দুটি মামলার বর্তমান আইনগত অবস্থান কী, সেগুলোর বিচারিক কার্যক্রম কোন পর্যায়ে রয়েছে কিংবা কোনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় হয়েছে কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, ২০১৭-১৮ সালের দিকে ফোরকান উল্লাহর বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলা থাকার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছিলেন। তবে মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তাঁদেরও বিস্তারিত জানা নেই।
*‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ দাবি ফোরকানের*
মাদক মামলার বিষয়ে জানতে ফোরকান উল্লাহর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তাঁর দাবি, তিনি ওই মামলাগুলোতে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে পরে তিনি প্রতিবেদককে ফোন করেন। এ সময় তিনি সরাসরি দেখা করে কথা বলার অনুরোধ জানান।
*‘বিষয়টি আগে জানা ছিল না’*
ফোরকান উল্লাহর বিরুদ্ধে মাদক মামলা থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে রামু উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল বশর বাবু বলেন, ‘এ বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক মামলা থাকার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে সিনিয়রদের অবহিত করে সাংগঠনিকভাবে আলোচনা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অনেক মানুষ অংশ নেন। সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে চেনা সম্ভব হয় না। তিনি এ থানায় নতুন যোগদান করেছেন, তাই সবার সঙ্গে এখনো পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়নি।
ওসি আরও বলেন, ‘দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। তবে বিট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আয়োজকদের বলা হয়েছিল, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি যেন কর্মসূচিতে অংশ না নেন।’
ফোরকান উল্লাহর বিরুদ্ধে মাদক মামলা থাকার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না বলেও জানান ওসি।
*মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে সতর্কতার দাবি*
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীর মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আয়োজকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে, তাঁদের মামলার বর্তমান আইনগত অবস্থান যাচাই করে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
তাঁদের দাবি, ফোরকান উল্লাহর বিরুদ্ধে থাকা মাদক মামলাগুলোর বর্তমান আইনগত অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মামলাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও আদালতের কার্যক্রম যাচাই করে প্রকৃত তথ্য সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ