মাকে ভিডিওতেও এনে বাবার বিরুদ্ধে ১৮ বিয়ের অভিযোগ তাশরীফের

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

নিজের মাকে ভিডিওতে এনে বাবার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের অভিযোগ তুললেন আলোচিত বক্তা ও সামাজিক মাধ্যমে ‘উসকানি’ দেওয়া জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। ভিডিওতে তাশরীফের মা পরিচয় দেওয়া এক নারী অভিযোগ করেছেন হেদায়েতুল্লাহ ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ে করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তাশরীফের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক ভিডিওতে এসব অভিযোগ করেন তার মা। ভিডিওতে ওই নারী বলেন, তাশরীফ তার বাবার ভরণ-পোষণ বা খোঁজখবর নেন না বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার দাবি, তাশরীফ প্রতি মাসে বাবাকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দেন। তবে সম্প্রতি পারিবারিক ঝগড়াঝাটির কারণে দু-তিন মাস ধরে সেই টাকা দেওয়া হচ্ছে না।

তাশরীফের মা অভিযোগ করেন, তার বাবা চান না ছেলে তার চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকুক। তিনি বলেন, মানুষের বিভিন্ন কথায় তাশরীফের বাবার সঙ্গে ছেলের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। মানুষ তাকে বলে, তোর ছেলে এত উপরে থাকবে আর তুই এভাবে থাকবি কেন। মানুষের এসব কথা শুনে তিনি তাশরীফের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন।’

এ সময় তাশরীফের বাবা মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ একাধিক বিয়ে করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, তিনি হেদায়েতুল্লাহর ঘরে থাকাকালে সাতটি বিয়ে করেছেন এবং পরে শুনেছেন, সব মিলিয়ে তিনি ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ে করেছেন।

তাশরীফের বিরুদ্ধে তার বাবার অভিযোগকে ‘সাজানো ষড়যন্ত্র’ বলেও মন্তব্য করেন তার মা। তিনি অভিযোগ করেন, তাশরীফ বাবার বাড়িতে গেলে ঠিকমতো খাবারও পান না। একই সঙ্গে নিজের ওপর স্বামীর নির্যাতন এবং বাবার বাড়ি থেকে সম্পদ আনার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

তাশরীফের বিরুদ্ধে নিজের অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ জানান, তিনি কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন এবং অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছেন। তার দাবি, ছেলের ছোটবেলায় শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে তাকে চিকিৎসা করিয়েছেন। ছেলের কাছে টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু ছেলে জমি কেনার কথা বলে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে মানুষের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। তবে চিকিৎসার পরও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি এবং এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি। এখন তোমার সব হইছে, পর হইলাম আমি। সে আজকে আমার খোঁজখবর লয় না, আমারে সে দেহে না, আমারে টাকা-পয়সা দেয় না। আমি কষ্টের ভিতরে আছি।’

এ ছাড়া ছেলের পরামর্শে ইমামতির চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেন হেদায়েতুল্লাহ। তার দাবি, তাশরীফ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য দোয়া চেয়ে তাকে ক্ষমা করতে বলেন। পরে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে ইমামতির চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন। ছেলের কথায় চাকরি ছাড়লেও পরে তাকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হেদায়েতুল্লাহ আরও বলেন, ছেলের ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেও তিনি সহযোগিতা পাননি। ছেলেকে বারবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

তাশরীফের বিরুদ্ধে আলোচিত দীপু দাস হত্যায় সামাজিক মাধ্যমে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি চড়কাণ্ডে আলোচিত শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধেও সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দিয়ে উসকানি দিয়েছিলেন, পরে ক্ষমা চান তাশরীফ।

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন