এবার শুঁটকিতেও মিলল ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বংলাদেশের মানুষের চিরায়ত ঐতিহ্যবাহী খাবার শুঁটকি মাছ। দেশের মিঠা ও লবনাক্ত পানিতে উৎপাদিত বিপুল মাছের একটি অংশ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য শুঁটকি করে রাখা হয়, যা আমাদের দেশের জনপ্রিয় খাবার।

 

সম্প্রতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) একদল গবেষক উপকূলীয় এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের শুঁটকির ওপর গবেষণা করে ৯ ধরনের প্লাস্টিক কণার (মাইক্রোপ্লাস্টিক) অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন। কক্সবাজার, টেকনাফ,সুন্দরবনের দুবলার চর ও কুয়াকাটার ছয় প্রজাতির মাছের শুঁটকির নমুনা সংগ্রহ করে তুলনামূলক গবেষণা করে ২৪ টি নমুনার প্রতিটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আজম খানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এ গবেষণাকার্য। গবেষণা সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিলেন বিভাগটির স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী কাজী নুসরাত জাহান ঐশী, হাবিবুর রহমান পিয়াস, নাদিয়া ইসলাম রিয়া ও সানজিদা জুঁথি।

দেশের শুঁটকি উৎপাদনের প্রধান ৪টি বড় স্থানে (কক্সবাজার, টেকনাফ,সুন্দরবনের দুবলার চর ও কুয়াকাটা) এই গবেষণাকার্য পরিচালিত হয়।জনপ্রিয় শুঁটকি মাছের মধ্যে লইট্টা মাছ,ছুরি মাছ, পোয়া মাছ,ফাইস্যা, হরিনা চিংড়ী ও বাগদা চিংড়ি’র মধ্য থেকে ৬টি প্রজাতিকে বাছাই করা হয়। ৪টি সাইট এবং প্রজাতি মিলিয়ে মোট ২৪টি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।গবেষণায় প্রাপ্ত ২৪টি নমুনার প্রতিটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মেলে।

 

গবেষণায় সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে কুয়াকাটাতে এবং এরপরেই রয়েছে কক্সবাজার। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পলিমার হ্যাজার্ড ইনডেক্স ব্যবহার করে দেখা গেছে, কুয়াকাটাতে পাওয়া শুঁটকিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সূচকের মান ২ হাজার ৬৪২ দশমিক ৭ এবং কক্সবাজারে পাওয়া শুঁটকিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সূচকের মান ১ হাজার ৪৬১ দশমিক ১।গবেষণায় প্রাপ্ত ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া গেছে পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC) ও পলিস্টাইরিন (PS)।

গবেষক অধ্যাপক ড. মোঃ আসরাফুল আজম এনপিবি নিউজকে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘ আমরা প্রতিনিয়ত যেই ডেইলি বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার করছি, এগুলো ডাম্পিং হচ্ছে কোস্টাল এরিয়াতে এবং নট অনলি আমাদের ডেইলি নিডসের গুলা, এখানে মিউনিসিপ্যাল ওয়েস্ট আছে, সিটি কর্পোরেশনের ওয়েস্ট আছে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডাম্পিং গুলা হচ্ছে। হওয়ার পরে কোস্টাল ওয়াটারে এটা কণাতে পরিণত হয়।

 

কিন্তু এসব প্লাস্টিক যেহেতু ডিকম্পোজ হয় না আর মাছ যখন একটা অ্যাকুয়াটিক এনভায়রনমেন্টে চলে বা অ্যাকুয়াটিক হেবিট্যাটে যাদের হেবিট্যাট, তখন এসব প্লাস্টিক খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে তাদের শরীরে প্রবেশ করে।

 

তিনি আরও বলেন মাছ শুকানোর পদ্ধতিতে রশির ব্যবহার ও ডিপিং করার সময়ও মাইক্রোপ্লাস্টিক শুঁটকির মধ্যে আসে।এছাড়াও,ফিশিং করার সময় অনেক নেট নষ্ট হয়ে যায়, এসব নষ্ট নেট কোস্টাল এরিয়াতে রয়ে যাওয়ার ফলে খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মাছের শরীরে এটা ঢুকে পড়ে।বিপণন প্রক্রিয়ায় প্লাস্টিকের ব্যবহারও শুঁটকিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির অন্যতম কারণ বলে জানান অধ্যাপক ড.আসরাফুল আজম।

মাইক্রোপ্লাস্টিক হতে নিরাপদ থাকার উপায় জানতে চাইলে তিনি বলেন,প্রথমত, আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।প্লাস্টিকের রিসাইক্লিং যে প্রসেস, এই পদ্ধতিগুলোকে আমাদের অবশ্যই মেইনটেইন করতে হবে। এবং যত্রতত্র তথা কোস্টাল ওয়াটার বা কোস্টাল বডিতে আমরা যাতে এগুলা ডাম্পিং না করি, সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এগুলাকে স্ট্রিক্টলি হ্যান্ডেল করা উচিত।

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন