রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জানান, তার চোখ বেঁধে জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে।
তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে পুলিশ কেন জানতে চাইবে? বাংলাদেশের আইন পুলিশকে এমন এখতিয়ার দেয়নি।’
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, জনগণের পক্ষে, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে এবং ইসলামের পক্ষে কথা বলার সাহস মহান আল্লাহ তাকে দিয়েছেন। বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন, একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ করার এখতিয়ার পুলিশকে কে দিয়েছে?
তিনি বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির প্রতিবাদ করেছিলাম। এজন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আমার কথা হয়। আমি তাদের স্পষ্টভাবে বলি, আমাকে গ্রেপ্তার করতে হলে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখাতে হবে। কারণ আমি কোনো অন্যায় করিনি এবং আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো কিছু মেনে নেব না। একপর্যায়ে আমাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেপ্তারে বিষয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই; কিন্তু আমার প্রশ্ন, আমাকে রিমান্ডে নেওয়া হলো কেন?
আখতারুজ্জামান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা পুলিশের দায়িত্ব নয়। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ অবশ্যই তদন্ত করবে এবং অপরাধের তথ্য উদ্ঘাটন করবে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনুসন্ধানের নামে জিজ্ঞাসাবাদ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর আমাকে উচ্চ আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে জামিন পাওয়ার পরও বিষয়টি চেম্বার আদালতে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের আইনি ব্যবস্থা পরিচালনা করতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এভাবে দেশ পরিচালনা করতে চাইলে বাংলাদেশের মানুষ তা গ্রহণ করবে না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে যাব। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবো, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও তাকে চিন্তা করতে হবে।
প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী ভাই-বোনদের সমস্যা সমাধানে আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের জন্য একটি রিসিপশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রবাসীদের সমস্যা, অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার মুক্তিলাভের পর সংবর্ধনা আয়োজন এবং কারাভোগের সময়ে পাশে থাকার জন্য জামায়াতে ইসলামী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমার সংগ্রামে যারা সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ৮:২১ অপরাহ্ণ