সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: রিয়াদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:৫০ অপরাহ্ণ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাম্মি আহম্মেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার মামলায় আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পিটিআই। আগামী ১০ নভেম্বর মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আদালত সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।

 

সম্প্রতি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) ফিরোজ আহমেদ মুন্সী এই চার্জশিট দাখিল করেন।

 

চার্জশিটের বাকি আসামিরা হলেন- জানে আলম অপু, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন এবং অপর আসামি এক জন শিশু। মামলার ছয় আসামিই এখন জামিনে আছেন।

 

এছাড়াও, এই মামলায় আসামিদের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গুলশান থানায় মামলাটি করেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শাম্মী আহম্মেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর (৭৫)।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদীর গুলশান-২-এর ৮৩ নম্বর সড়কের বাসায় তার স্ত্রী সাবেক এমপি শাম্মি আহম্মেদকে গ্রেপ্তারে পুলিশের সঙ্গে অভিযান চালান আসামিরা। তাকে না পেয়ে পুলিশ চলে যায়। এরপর আবার সেই বাসায় গিয়ে শাম্মির স্বামীকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন আসামিরা।

 

২৬ জুলাই বিকেলে বাকি ৪০ লাখ টাকা আনতে ওই বাসায় যান আসামিদের কয়েকজন। বাদী তৎক্ষণাৎ গুলশান থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আবদুর রাজ্জাক, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন ও কিশোর আমিনুল ইসলামকে আটক করে। পরে গ্রেপ্তার হন জানে আলম অপু।

 

চার্জশিটে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আসামিরা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করতেন।

 

সমন্বয়ক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তারা নিয়মিত থানায় যাতায়াত করতেন। বিভিন্ন মামলার আসামি আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও তাদের অবস্থান–সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে সহযোগিতা করে পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তারা।

 

পরে মামলার আসামিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অগোচরে বিভিন্ন লোকজনকে আওয়ামী লীগের দোসর, সহযোগী বা সমর্থক আখ্যা দেন এবং তাদের মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি ও চাঁদা গ্রহণ করেন।

 

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আসামি আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ চাঁদার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দিতে তিনি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন।

 

বিভিন্ন সময় ‘ফ্যাসিবাদী লোকজনকে’ গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

 

জবানবন্দিতে রিয়াদ বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই রাতে শাম্মী আহমেদ গুলশানের বাসায় আছেন, এমন খবর পেয়ে তারা থানায় যান। পরে পুলিশের একটি দল তাদের সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে শাম্মীকে পাওয়া যায়নি।

 

রিয়াদ আদালতকে বলেন, বাসা থেকে ফেরার সময় জানে আলম অপু একটি ইয়ারপড নিয়ে এসেছিলেন। সেই ইয়ারপডে লেখা ছিল ‘শাম্মি ইয়ারপড’। সেটি ফেরত দেওয়ার জন্য তারা পরে আবার ওই বাসায় যান। অপু পানি খাওয়ার অজুহাতে ভেতরে ঢোকেন।

 

এরপর বাদীকে বলা হয়, তারা বুঝতে পারছেন তার স্ত্রী বাসায় আছেন এবং তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হবে। বাদী টাকা দিতে রাজি হলে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। বাদী ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তারা তাতে রাজি হন। পরে সেই টাকা নিয়ে তারা তার বাসায় গিয়ে সমান ভাগ করে নেন।

 

বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের বিষয়ে রিয়াদ বলেন, ২৬ জুলাই বিকেল ৫টায় তিনি ইব্রাহিম হোসেন, সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাবকে ওই বাসায় পাঠান।

 

তার ভাষ্যমতে, পুলিশ তাকে ফাঁদে ফেলার জন্য বাসায় যেতে বলে। তখন তিনি গোলচত্বরে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের কথা বিশ্বাস করে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বাদী থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে তাদের হাতেনাতে আটক করে।

 

জবানবন্দির শেষে রিয়াদ বলেছেন, ‘আমি গরিবের ছেলে। আমি টাকার লোভ সামলাতে পারিনি। আমি ক্ষমা চাই।’

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন