ফটোসাংবাদিককে আটকে বিএনপি নেতা বললেন ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ১১:২১ অপরাহ্ণ

ঢাকার নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের কবিরপুর এলাকায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন দৈনিক আগামীর সময়ের ফটোসাংবাদিক মহুবার রহমান। একটি পোশাক কারখানার সামনে ছবি তুলতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যবস্থাপকের তোপের মুখে পড়েন তিনি। কেড়ে নেওয়া হয় তার মোবাইল ফোন। পরে তাকে আটকে রেখে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে। ওই নেতা এসে ফটোসাংবাদিককে প্যান্ট খুলে তল্লাশির হুমকি দেন।

 

ঘটনাটি আজ মঙ্গলবার দুপুরের। এদিন ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। কবিরপুর এলাকায় ছবি ও ভিডিও নিতে গিয়েছিলেন মহুবার। গিয়ে দেখতে পান টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক সেখানে। কাজে ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকদের অনেকেই। প্রথমে ইকোটেক্স গার্মেন্টসের সামনে তাদের কর্মস্থলে ফেরার ছবি নেন। আশানুরূপ না হওয়ায় যান একটু দূরে, পলমল গার্মেন্টসের সামনে। সেখানে চলছিল দুপুরের খাবারের বিরতি। শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরোবার সময় সড়ক বিভাজকে দাঁড়িয়ে ছবি ও ফুটেজ নেন তিনি।

 

এমন সময় কারখানার এক নিরাপত্তাকর্মী মহুবারকে ছবি তোলা শেষে দেখা করে যেতে বলেন। পরে ফটকের সামনে গেলে তার কাছে ছবি তোলার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। মহুবার প্রশ্ন করেন, কারখানার বাইরের ছবি তুলতে অনুমতি নিতে হবে কেন? তিনি শুধু শ্রমিকদের বের হওয়ার ছবি ও ফুটেজ নিয়েছেন।

 

এরপর কারখানার ব্যবস্থাপকদের একজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানিয়ে মহুবার বলেন, ‘ওই ব্যবস্থাপক আমাকে পাশের একটি ফটকের সামনে নিয়ে যান। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও ছাড়েনি। তিনি আমাকে কারখানার ভেতরে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। রাজি না হওয়ায় পাশের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে আমাকে আটকে রেখে ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। মুছে দেওয়া হয় ফোনে থাকা ছবি ও তাদের কথোপকথনের ভিডিও।’

 

এ সময় ওই ব্যবস্থাপক ফোন করে সেখানে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে আসতে বলেন। মহুবারের অভিযোগ, ‘ওই নেতা এসে বলে, ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক।’ পরে আমার ব্যাগ খুলে ক্যামেরাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হয়। তবে ক্যামেরায় নেওয়া ছবিগুলো পরীক্ষা করা হয়নি।’

 

এরপর ফোনটি ফেরত দিলেও তাকে জোর করে কারখানার ভেতরে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট অবরুদ্ধ রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেন, ‘দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাবার কথা ছিল। তবে তিনি আগেই ছাড়া পান।’ এ ঘটনায় অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন