রাজধানীর উত্তরায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলাকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমাকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে অবরুদ্ধ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তুলে স্থানীয় লোকজন তাকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে পুলিশের দাবি, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। জরিমানার রসিদ দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা থেকে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
অন্যদিকে, কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, এটি নিছক ভুল বোঝাবুঝি নয়; ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান ঠেকাতেই পরিকল্পিতভাবে ম্যাজিস্ট্রেটকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে মব সৃষ্টি করা হয়। তাদের ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে একটি পক্ষ ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে লোকজনকে উত্তেজিত করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনতার হাতে হেনস্তার শিকার হন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের মোড়ের পাকার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় হকার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করছিল ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের একপর্যায়ে একটি ফলের দোকানে জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা। তবে জরিমানার রসিদ দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানির সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে সেখানে লোকজন জড়ো হয়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে তারা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবরুদ্ধ করেন এবং মারধর করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর এশিয়া পোস্টকে বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে আটক করা হয়নি; বরং পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে সেখানে গিয়েছিলেন। সিটি করপোরেশনের একটি দল হকার উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওসি বলেন, পাকার মাথা এলাকায় একটি ফলের দোকানে জরিমানা করেছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। তবে জরিমানার রসিদ দিতে দেরি হওয়ায় দোকানির সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সেখানে লোকজন জড়ো হন। পরে পুলিশের একটি দল গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি খালিদ মুনসুর বলেন, এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। জরিমানার রসিদ দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত বাগ্বিতণ্ডার সূত্রপাত হয়েছিল। সময়মতো রসিদ দিতে না পারায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন উপস্থিত ছিলেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, অভিযানটি প্রথমে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় পরিচালিত হয়েছিল। সেখানে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান শুরু করার সময় তাদের অবহিত করা হয়নি।
ওসি আরও জানান, পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ম্যাজিস্ট্রেট সেখান থেকে চলে যান। বুধবার বিকেলেই তিনি চলে গেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের পুরো দলই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।
এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সরকারি অভিযান পরিচালনার সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? উচ্ছেদ অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে যদি কাউকে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে জনতাকে উত্তেজিত করা হয়ে থাকে, তাহলে এর পেছনে কারা ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

টেলিগ্রাম প্রতিবেদক:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:২৬ পূর্বাহ্ণ