ক্যাথলিক স্কুল ও বিভিন্ন ধর্মের দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন নেটিভ আমেরিকান রিজার্ভেশনে বড় হওয়া আদিবাসী নারী অ্যাঞ্জেলা। জন্মগতভাবে অত্যন্ত আধ্যাত্মিক পরিবারে বেড়ে ওঠা অ্যাঞ্জেলা জানান, অন্যান্য ধর্মের নানা মতবাদ তাকে বিভ্রান্ত করলেও ইসলামের শিক্ষার মাঝে তিনি তার দীর্ঘদিনের আত্মিক জিজ্ঞাসার প্রকৃত উত্তর খুঁজে পেয়েছেন।
এবাউট ইসলামকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে মার্কিন তরুণী অ্যাঞ্জেলা নিজের অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেছেন।
অ্যাঞ্জেলা বলেন, ‘আমার নাম অ্যাঞ্জেলা। সত্যি বলতে, আমার ইসলামের পথে যাত্রা ঠিক কোথা থেকে শুরু হয়েছিল, তা আমি নিজেও খুব একটা জানি না। আমি একজন আমেরিকান হিসেবে বেড়ে উঠেছি। আমার শৈশব কেটেছে একটি আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকায়। জায়গাটি হয়তো আপনাদের অনেকের কাছেই পরিচিত নয়। তবে আমরা ছিলাম খুবই আধ্যাত্মিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার দাদা-দাদি সব সময় সৃষ্টিকর্তার কথা বলতেন। তারা আমাকে নানা গল্প শোনাতেন। ছোটবেলা থেকেই আমি এসব কথা শুনে বড় হয়েছি। আমার বয়স যখন ১০ বছর, তখন আমাদের সব আদিবাসী শিশুকে একটি ক্যাথলিক আবাসিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। সম্ভবত তাদের ধারণা ছিল, এভাবে আমাদের আরও বেশি আমেরিকান করে তোলা যাবে। সেখানে আমি দুই বছর কাটিয়েছি। কিন্তু সেখানকার কোনো কিছুই আমার কাছে বোধগম্য ছিল না। ওই দুই বছরে আমি শুধু একটি বিষয়ই বুঝতে পেরেছিলাম আমি নিশ্চিতভাবেই ক্যাথলিক নই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আমাকে প্রশ্ন করতে শুরু করল, ‘তোমার ধর্ম কী?’ আমি বলতাম, ‘সত্যি বলতে, আমি জানি না।’
ওই তরুণী বলেন, ‘আমরা আধ্যাত্মিক জীবনযাপন করি, কিন্তু এর কোনো নির্দিষ্ট নাম নেই। এটি আমাদের জীবনযাপনেরই একটি অংশ। আমরা দিনের প্রতিটি মুহূর্ত প্রার্থনার মধ্যে কাটাই। আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠরা সব সময় বলতেন, আমাদের এমনভাবে চলতে হবে, যেন প্রতিটি পদক্ষেপই একটি প্রার্থনা। তাদের কথা ছিল, প্রতিটি পদক্ষেপ যেন প্রার্থনা হয়। আর তুমি যদি এভাবে জীবনযাপন করতে পারো, তাহলে বুঝবে তুমি সঠিকভাবে জীবন কাটাচ্ছ।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাদের এই জীবনধারার কোনো নির্দিষ্ট নাম ছিল না। তাই যখন কেউ প্রশ্ন করত, ‘তোমার ধর্ম কী?’ তখন আমি বেশ বিভ্রান্ত হয়ে পড়তাম। সব ধর্ম সম্পর্কে জানার চেষ্টা একসময় আমি অন্য ধর্মগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করলাম। সব ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করতে লাগলাম। যে ধর্ম সম্পর্কেই কিছু জানার সুযোগ পেতাম, আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইতাম, ‘এটা আসলে কী?’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে জানতে গিয়ে একপর্যায়ে আমার মনে হতো, ‘এটা তো ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না।’ আমি দিনে যতবারই প্রার্থনা করি না কেন, কখনোই তো সৃষ্টিকর্তা হয়ে যেতে পারব না। এটা তো সম্ভব নয়। এভাবেই সময় গড়িয়ে যাচ্ছিল। একসময় একজন মুসলিমের সঙ্গে আমার পরিচয় হলো। আমরা কথা বলতে শুরু করলাম। আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘আরে! তুমি সত্যিই এসব করো? আমিও তো এমনটাই করি। ধীরে ধীরে আমার মনে হতে লাগল, ইসলাম সম্পর্কে আরও বেশি করে পড়াশোনা করা প্রয়োজন। আমি ইন্টারনেটে গিয়ে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব পড়তে শুরু করলাম। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, সবকিছুই আমার কাছে বেশ অর্থবহ মনে হতে লাগল। এর বেশির ভাগ বিষয়ই ছিল এমন, যা আমি আমার দাদা-দাদির কাছ থেকে আগেই শুনেছিলাম।’
পবিত্র কোরআন পাঠ প্রসঙ্গে অ্যাঞ্জেলা বলেন ‘আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে লাগলাম। একদিন একটি মুদি দোকানে গিয়ে ছোট্ট একটি বইয়ের ঝুড়ি দেখতে পেলাম। সেখানে মানুষ তাদের পুরোনো বই জমা দিত। অন্যরা সেসব বই কিনত, আর বিক্রির অর্থ দান করা হতো দাতব্য কাজে। বইয়ের স্তূপের একেবারে ওপরে ছিল ইসলামবিষয়ক বেশ কয়েকটি বই। আমি মনে মনে বললাম, ‘বাহ! দারুণ তো।’
তিনি বলেন, ‘আমি পুরো স্তূপের বইগুলো কিনে বাড়ি ফিরলাম। এরপর সেগুলো পড়তে শুরু করলাম। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, ‘এ তো সত্যিই অর্থবহ।’ এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম, পবিত্র কোরআন পড়ার চেষ্টা করব। আমি কোরআন পড়তে শুরু করলাম। প্রথম দিকে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিলাম। কারণ, কোরআনে পড়া অনেক বিষয় আমার দাদার কাছ থেকে শোনা কথার সঙ্গে মিলে যাচ্ছিল না। কিছু বিষয় আমার কাছে ভিন্ন মনে হচ্ছিল। তবুও আমি কোরআন পড়তে থাকলাম। একসময় আমার মনে হলো, ‘বাহ! আমি তো সারা জীবন ধরেই এসব করে আসছি। অথচ কখনো জানতামই না।’ ধীরে ধীরে সবকিছু আমার কাছে পরিষ্কার হতে লাগল। ইসলামকে আমার কাছে অর্থবহ মনে হতে শুরু করল। আর আজ আমি এখানে।’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ৬:৩৬ অপরাহ্ণ