পশ্চিম ডিগলিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতিতে স্বেচ্ছাচারিতা, মানা হচ্ছে না সমবায় আইন

ইয়াছিন আরাফাত:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫ । ১১:১১ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের উখিয়ায় পশ্চিম ডিগলিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতিতে সদস্য ভর্তি ও নির্বাচনী কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সমবায় আইন অনুসারে নতুন সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেটি মানা হয়নি। গোপনে প্রভাবশালী সভাপতি ও ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে একাধিক সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সমবায় সমিতির কয়েকজন কর্তাব্যক্তি স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে নিজেদের অনুগতদের সদস্যপদ দিয়েছেন। ফলে প্রকৃত কৃষক ও পানির উপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়েছে।

এছাড়া সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো সদস্যকে অন্তত ১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু নিয়ম উপেক্ষা করে একাধিক নতুন সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং তারা নির্বাচনে প্রার্থীতা বৈধতা না পেলেও এলাকায় প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

সমবায় আইন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সমবায় অফিসের অডিট রিপোর্টে অফিসারের স্বাক্ষর হওয়া তালিকায় কোন সদস্যের নাম না থাকলে সেই সদস্যকে ভোট প্রয়োগ বা নির্বাচনী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

কিন্তু এই সমিতির অডিট রিপোর্টে অফিসারের স্বাক্ষরিত তালিকায় কামরুল ইসলাম রাজীব নামে এক ব্যক্তির নাম না থাকলেও কৌশলে মনোনয়ন ফরম নিয়ে বৈধতার আগেই চালাচ্ছে নির্বাচনী প্রচারনা। এ নিয়ে সমবায় কার্যালয়ে অভিযোগ ও দায়ের করেছেন সমিতির এক সদস্য। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সমবায় অফিস তার মনোনয়ন বাতিল করলেও জেলায় পুনরায় আবেদন করেন রাজীব।

ডিগলিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সভাপতি জাহেদুল ইসলাম বলেন, নিয়োগের বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি। কিন্তু রাজীব আমাদের সদস্য।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা সমবায় অফিসার মোস্তফা কামালের সাথে টেলিগ্রামের প্রতিবেদক মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, সমবায় আইন অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রীয়া চলবে। গায়ের জোরে কিছু করা যাবে না। একজন অভিযোগ দিয়েছে। এ বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুনানীর আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন