এলজিইডি’র হিসাবরক্ষকের ঘুষ দাবি ও হুমকি: ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫ । ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কক্সবাজার জেলা অফিসে দায়িত্বরত হিসাবরক্ষক মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ তুলেছেন এক ঠিকাদার।

লিখিত অভিযোগপত্রে মেসার্স এ. চৌধুরী কনস্ট্রাকশন-এর স্বত্বাধিকারী আবিদ উদ্দিন চৌধুরী উল্লেখ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় পেমেন্ট সার্টিফিকেট নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষক ১,০০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে মহিউদ্দিন তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং ভবিষ্যতে তাঁর কোনো বিল অনুমোদন করবেন না বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করারও ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইট পরিদর্শনে থাকায় তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানাতে না পারলেও পরে বিষয়টি লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হিসাবরক্ষক মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার অফিসে কর্মরত থাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি সময় বর্ধিতকরণ, বিল অনুমোদন, ভাউচার ছাড়সহ বিভিন্ন অজুহাতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ আদায় করে আসছেন। অভিযোগকারীর দাবি, ইতোমধ্যে এভাবে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এবং কোনো ঠিকাদারের সম্মান রক্ষা করছেন না।

অভিযোগকারী ঠিকাদার আবিদ উদ্দিন চৌধুরী আরো জানান, হিসাবরক্ষক মহিউদ্দিন রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জিম্মি করে রাখে ঠিকাদারদের। পাশাপাশি তাকে ঘোষ না দিলে মেলে না কোন ধরেন কাজের বিল।

এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ চারটি দপ্তরে অভিযোগের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে। দপ্তরগুলো হলো প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, ঢাকা; তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, এলজিইডি, চট্টগ্রাম; জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার; দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা অফিস, কক্সবাজার।

এ বিষয়ে হিসাবরক্ষক মহিউদ্দিনের সাথে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে (01711★★★865) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগ করার বিষয়টি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান বলছেন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে এমন কোন অভিযোগ ছিল না। আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারী ঠিকাদার সহ আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এলজিইডির একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, এলজিইডি’র কক্সবাজার অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও হয়রানি চলছে। সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন