মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে ৩ সন্তানের জননী রোজিনা আকতার (৩০) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
বুধবার (২০ আগষ্ট) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের তিতা মাঝির পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ীতে তিনি গলায় ফাঁস লাগান। পরে নিহত রোজিনা আকতার এর মায়ের চিৎকার শোনে স্থানীয়রা এসে রুমের দরজা ভেঙে তাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করেন।
রোজিনা আকতার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড তিতা মাঝির পাড়া এলাকার হাফেজ মোয়াজ্জেম হোসেন এর স্ত্রী। এবং চকরিয়া কোনাখালী ৫নং ওয়ার্ড সিকদার পাড়া এলাকার হাবিব উল্লাহ মেয়ে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১ মাস ১২ দিন ধরে রোজিনা আকতার এর স্বামী হাফেজ মোয়াজ্জেম হোসেন জেল হাজতে রয়েছেন। তার স্বামী জেলে থাকায় তিনি মাসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পাশ্ববর্তী লোকজনের উপর কয়েকবার হামলা চানান তিনি। গত এক সাপ্তাহ ধরে রোজিনা আকতারকে স্থানীয় ডাক্তার ও বদ্য দিয়ে চিকিৎসা চলছে বলে জানান। এদিক দুপুরে হঠাৎ রোজিনা আকতার সবার অগোচরে বাসার দরজা আটকিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলেও জানান।
নিহত রোজিনা আকতার এর পিতা হাবিব উল্লাহ জানান, আমার মেয়ে সাপ্তাহখানেক ধরে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। তার অদ্ভুত আচরণে বদ্য দিয়ে চিকিৎসা চালাচ্ছি। হঠাৎ আজ দুপুরে ঘরের দরজা আটকিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে বসে। তার ৩ টা মাসুম বাচ্চা রয়েছে।নিহতের বড় ছেলে রকিবুল হাসান তানভীর জানান, বাইরে আমি খেলা করছিলাম। হঠাৎ চেচামেচি শোনে ঘরে এসে দেখি মা দরজার বন্ধ করে রেখে। আমার চাচারা এসেছে ঘরের দরজা খুলে দেখি মা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে।
মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ীর এসআই সুমিত বড়ুয়া জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা একটি আত্নহত্যার মতো ঘটনা। কিন্তু প্রকৃত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে হলে লাশের সুরহাল রিপোর্ট না আশার আগ পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছেনা। আমরা খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠাই। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট আসলে আপনাদেরকে অবশ্যই আমরা জানাবো।

এম.বশির উল্লাহ, মহেশখালী:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫ । ১০:৪০ অপরাহ্ণ