রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকুরিচ্যুত ‘স্থানীয়’ শিক্ষকরা নিজেদের অধিকার আদায়ে নেমেছিলেন আন্দোলনে।
সর্বদলীয় সমর্থন পাওয়া এই আন্দোলন বুধবার (২০ আগস্ট) সারাদেশে আলোচনায় পরিণত হয়, আন্দোলনকারীদের উপর চলে পুলিশি নিপীড়ন।
আন্দোলনে সংহতি জানানো ২৪ ‘এর বৈষম্যবিরোধী নেত্রী জিনিয়া শারমিন রিয়া সহ ২৭ জন’কে আটক করে উখিয়া থানা পুলিশ।
জিনিয়া’কে প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা করে প্রিজন ভ্যান তুলতে দেখা যায় স্বয়ং উখিয়া থানার ওসি আরিফ হোসাইন’কে।
৭ ঘন্টার পর সর্বদলীয় বৈঠকের মাধ্যমে মুচলেকা দিয়ে জিনিয়া সহ অন্যদের মুক্তি মিললেও ওসি আরিফ রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে।
কথিত ‘উপরের’ নির্দেশে পেশী শক্তি দেখিয়ে আটক, আন্দোলনকারী নারী শিক্ষক’কে পেঠানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা আরিফের বিরুদ্ধে।
জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের সাবেক সমন্বয়ক ফাতেমা খানম লিজা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আফরোজা নামে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী’কে মাটিতে ফেলে লাঠিচার্জ করা হয়েছে। এই ওসি আরিফ’কে অপসারণ করতেই হবে।’
কক্সবাজারের ছাত্র প্রতিনিধি এস এস সাগরের ভাষ্য – ‘ উখিয়া থানার ওসি আরিফের বিরুদ্ধে বিগত সময়ে শত অভিযোগ থাকার পরেও তাকে বহাল তবিয়তে রাখার কারণেই গতকাল প্রকাশ্যে ছেলে-মেয়েদের পেটানোর স্পর্ধা সে দেখাতে পেরেছে৷ ‘
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ উখিয়ার জনগণ ওসি আরিফকে ওন করতে পারবেনা আর। ভালোবাসতে পারবেনা। বিশ্বাস করতে পারবেনা।’
সাগর আরো বলেন, ‘এতোকিছুর পরেও উখিয়া থানার ওসি যদি বহাল থাকে তাহলে উখিয়াতে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে। উখিয়া থানার ওসি আরিফকে অপসারণ করতে হবে।’
➡ ‘ইয়াবা উদ্ধার’ অভিযান নিয়ে বিতর্কের পরও জুলাই মাসে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি!
গত ২৮ জুলাই, ৫০ হাজার ইয়াবা সহ কুতুপালং থেক তিন জন’কে গ্রেফতার করে উখিয়া থানা পুলিশ, জব্দ করা হয় বিলাসবহুল গাড়ি।
এই ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা করেন উখিয়ার তৎকালীন উপ পরিদর্শক (এসআই) সৌরভ হোসেন।
এসআই সৌরভ আলোচিত অভিযানের সপ্তাহ খানেক আগেই বদলি আদেশ পেয়েছিলেন, কিন্তু ওসি’র ইচ্ছায় এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
মামলার নথি বলছে, ‘ওসি মহোদয়’কে অবগত করে’ এই অভিযান পরিচালনা করেন সৌরভ।
অভিযানের ১২ দিন পর ওসি আরিফ ছাড়পত্র দেন সৌরভ’কে, যিনি বর্তমানে রাঙ্গামাটির একটি থানায় কর্মরত আছেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সেই অভিযানে প্রকৃতভাবে উদ্ধার হয়েছিলো ১ লাখ ইয়াবা। কথিত সোর্সের যোগসাজশে ৫০ হাজার ইয়াবা সরিয়ে ফেলেন সৌরভ ও তার সহযোগীরা।
সোর্স ও তার সহযোগীদের ১০ হাজার ইয়াবা বাবদ ১০ লক্ষ টাকা ভাগ করে দেওয়া হয় এবং বাকি ৪০ হাজার ইয়াবা বিক্রি করিয়ে পাওয়া ৪০ লাখ টাকার মধ্যে বড় অংশ সৌরভ নিজের কাছে রেখে ওসি সহ অন্য পুলিশ সদস্যদের বন্টন করেন।
অভিযানে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বিতর্কিত এই অভিযান পরিচালিত হওয়ার মাস ‘জুলাইয়ে’ কক্সবাজার জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ৯ থানার মধ্যে ‘ শ্রেষ্ঠ ওসি ‘ নির্বাচিত হন আরিফ হোসাইন।
গত ১৪ আগস্ট জেলা পুলিশ সুপার সাইফউদ্দীন শাহীন, ওসি আরিফের হাতে ‘শ্রেষ্ঠ ওসি’র স্মারক তুলে দেন।
আলোচিত এই অভিযান প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
জসীম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ অভিযানে আটক আসামীদের রিমান্ডে এনে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করার চেষ্টা করা হবে। ‘
পুলিশের কোনো সদস্য যদি ইয়াবা ‘বিক্রি’তে জড়িত থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ওসি আরিফ ও এসআই সৌরভের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ কল রিসিভ করেননি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সে বছর ১৮ সেপ্টেম্বর উখিয়া থানায় যোগদান করেন আরিফ হোসাইন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫ । ৫:০৭ অপরাহ্ণ