প্যারিস, মার্সেই, বোর্দো ও মন্টপেলিয়ারে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন।
যদিও সামগ্রিকভাবে বিঘ্ন তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরে সীমাবদ্ধ। অধিকাংশ গ্রেপ্তার হয়েছে প্যারিসে বা এর আশপাশে, যেখানে প্রায় এক হাজার মুখোশধারী বা বালাক্লাভা পরিহিত বিক্ষোভকারী গার দ্য নর রেলস্টেশনের বাইরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।
কিছু বিক্ষোভকারী স্টেশনে ঢোকার চেষ্টা করলেও নিরাপত্তাকর্মীরা কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ঠেকিয়ে দেন। অনেক বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও লেকোর্নুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্লোগান দেন, কেউ কেউ গাজার যুদ্ধবিরোধী প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্লক্যঁ তু’ আন্দোলনের জন্ম হয়। তারা বাইরুর প্রস্তাবিত ৪৪ বিলিয়ন ইউরোর বাজেট কাটছাঁটের বিরুদ্ধে মানুষকে উৎসাহিত করার পর এ আন্দোলন গতি লাভ করে।
আন্দোলনটির স্পষ্ট বামপন্থী চরিত্র রয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে সরকারি সেবায় বিনিয়োগ বাড়ানো, উচ্চ আয়ের ওপর কর আরোপ, ভাড়া স্থগিতকরণ ও ম্যাখোঁর পদত্যাগ।
আন্দোলনকারীরা বুধবারের বিক্ষোভের আগে ‘কঠোরতা, অবজ্ঞা ও অপমানের’ বিরুদ্ধে অসহযোগমূলক কার্যকলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
গার দ্য নরডের বাইরে তরুণ বিক্ষোভকারীরা বিবিসিকে বলেন, তারা ফ্রান্সজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষের সঙ্গে ‘সংহতি’ জানাতে রাস্তায় নেমেছেন।
২৫ বছর বয়সী অ্যালেক্স বলেন, ‘আমরা এসেছি কারণ ম্যাখোঁ যেভাবে দেশের ঋণ পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন তাতে আমরা ক্লান্ত।’ তিনি আরো জানান, নতুন প্রধানমন্ত্রীও হয়তো ‘একই চক্র’ পুনরাবৃত্তি করবেন।
ম্যাখোঁর ঘনিষ্ঠ লেকোর্নু দুই বছরের কম সময়ে দেশের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী। তার নিয়োগ ইতিমধ্যেই ডান ও বাম উভয় দলের সমালোচনার মুখে পড়েছে। ফ্রান্সের ঝুলন্ত পার্লামেন্টে অধিকাংশ সাংসদের কাছে গ্রহণযোগ্য বাজেট উপস্থাপন করাই হবে তার প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ—যা তার দুই পূর্বসূরির পতন ঘটিয়েছিল।
২০২৪ সালে ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫.৮ শতাংশে পৌঁছায়, তবে গভীরভাবে বিভক্ত অ্যাসেম্বলির তিনটি ভিন্ন মতাদর্শী গোষ্ঠী এই সংকট মোকাবিলার উপায় নিয়ে একমত হতে পারছে না।
দ্য র্যাডিক্যাল-লেফট ফ্রান্স আনবাউড দল ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা যত দ্রুত সম্ভব লেকোর্নুর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনবে। তবে প্রস্তাবটি পাশ করাতে অন্যান্য দলের সমর্থন দরকার। আপাতত সবচেয়ে বড় সংসদীয় দল কট্টোর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি বলেছে, তারা বেশি আশা ছাড়াই ‘লেকোর্নু কী বলেন তা শুনবে’।
ক্ষমতা হস্তান্তরের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে লেকোর্নু বাইরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফরাসিদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আমরা পারব। যে অস্থিরতা ও রাজনৈতিক সংকট আমরা পার করছি তা সংযম ও বিনয়ের দাবি রাখে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদেরকে আরো সৃজনশীল ও আরো দায়িত্বশীল হতে হবে এবং বিরোধী দলের সঙ্গে কাজের ধরনে পরিবর্তন আনতে হবে।’ এরপর তিনি রাজনৈতিক দল ও ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে সঙ্গে বৈঠক শুরু করার ঘোষণা দেন।

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ । ৮:৩৫ অপরাহ্ণ