পেকুয়া কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ । ৫:৪০ অপরাহ্ণ

পেকুয়া কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান নির্বাচিত ডিরেক্টর পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাফর আলম।

শনিবার দুপুরে ১৫(২০২৫-২০২৬)/০৫ সূত্রে সাময়িক বহিষ্কার আদেশের প্রেক্ষিতে লিখিত কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দাখিল করেন ডিরেক্টর জাফর আলম। জবাবে তিনি বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

সমিতির ম্যানেজার রহিম উদ্দিন লিখিত জবাবটি গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে এর অনুলিপি পাঠানো হয় যুগ্ম-নিবন্ধক সমবায়, চট্টগ্রাম জেলা সমবায় কর্মকর্তা, কক্সবাজার এবং উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা, পেকুয়ার দপ্তরে।

জাফর আলম লিখিত জবাবে উল্লেখ করেন, সদস্যদের সঞ্চয়, ডিপিএসসহ বিভিন্ন প্রকল্পে জমা টাকা ফেরত না দিয়েও বর্তমান কমিটি মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ক্যাশ থেকে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকারও বেশি তুলে নিজেদের মতো ব্যবহার করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, তারল্য সংকট থাকা সত্ত্বেও কল্যাণ ফান্ড এর নামে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, অথচ সেই ফান্ডে কোনো টাকা জমা নেই। দীর্ঘদিন ধরে ঋণ খেলাপি সদস্যদের লভ্যাংশ মওকুফ করে অনুগতদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে নিয়মিত ঋণগ্রহীতারাও ঋণ পরিশোধ বন্ধ করে দিয়েছেন, ফলে ঋণ আদায়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এছাড়া, মামলার খরচের হিসাব জানতে চাওয়াসহ তারল্য সংকটে থাকা অবস্থায় সংস্কার কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আপ্যায়ন বিল দেখানো নিয়মে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

জাফর আলম আরও বলেন, বিগত ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভায় নিয়মিত ৩৩০০ সদস্য/সদস্যার উপস্থিতির কথা উল্লেখ থাকলেও পরে হাতের লেখায় আরও ১১০০ অনিয়মিত ও খেলাপি সদস্যকে উপস্থিত দেখিয়ে ভাতার টাকা আত্মসাত করা হয়।
সভায় অনিয়মের বিরোধিতা করলে তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এসব অনিয়ম রেজুলেশন খাতায় লিপিবদ্ধ করতে চাওয়ায় টানা তিন মাস তাকে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয়নি। পরে কোনো প্রকার নিয়ম না মেনে সমবায় আইন ও সমিতির উপ-আইন উপেক্ষা করে তাকে সাময়িক বহিষ্কারের নোটিশ পাঠানো হয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করেন তিনি।

জাফর আলম জানান, তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বিপুল ভোটে ডিরেক্টর নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি পেকুয়া বাজার সমিতিতেও একই দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করলে শুরুতে সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলেও, কিছুদিনের মধ্যেই সভাপতি তারেক ছিদ্দিকী ও সম্পাদক জসিম উদ্দিন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমাকে রেজুলেশনে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয়নি। তিনটি রেজুলেশনে স্বাক্ষর না করাকে অজুহাত করে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে লিখিতভাবে এর জবাব দাখিল করেছি।

সমিতির একাধিক সদস্য জানান, বর্তমানে সমবায় আইনের তোয়াক্কা না করে সভাপতি ও সম্পাদক ক্যাশ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদে তুলে নিয়েছেন, অথচ গ্রাহকদের প্রাপ্য টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। ডিপিএস মেয়াদপূর্তি বা উত্তোলনও বন্ধ রাখা হয়েছে, অথচ সংস্কার কাজের নামে ব্যয় অব্যাহত আছে।

এক ডিরেক্টর জানান, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে অন্য সদস্যদেরও বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পেকুয়া উপজেলা সমবায় অফিসার মোস্তফা জামান বলেন, পেকুয়া কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে আর্থিক অনিয়ম পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন