৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ইয়াবা কারবারিকে এসি গাড়ির ব্যবস্থা করলেন টেকনাফ ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ । ৭:১০ অপরাহ্ণ

টেকনাফ থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নূরের বিরুদ্ধে আলোচিত মাদক কারবারিকে ঘুষের বিনিময়ে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ইয়াবা কারবারি জুবাইরের স্ত্রী ফাইজাকে বিশেষ এসি গাড়িতে আদালতে হাজির করার ব্যবস্থা করেন তিনি। শনিবার দুপুরে এসি নোহা গাড়িতে করে টেকনাফ থেকে তাকে কক্সবাজার আদালতে আনা হয়। এএসআই দিলদারের নেতৃত্বে তার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা ফাইজাকে আদালতে নিয়ে আসেন।

যদিও অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। ওসি আবু জায়েদ মো. নূর বলেন,“এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। টাকা লেনদেনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।” যদি বিশেষ গাড়ি ব্যবস্থা করার বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ওসি।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে টেকনাফের জুবায়ের বাড়িতে টানা আট ঘণ্টার বিশেষ অভিযান চালায় বিজিবি। এসময় আলোচিত ইয়াবা কারবারি জুবাইরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার স্ত্রী ফাইজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ১৯ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা, ১৩০ গ্রাম ইয়াবা পাউডার এবং নগদ ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করে বিজিবি। এছাড়া জুবাইরের সহযোগী আয়ুব আলিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি।

এরপর ফাইজাকে আদালতে হাজির করতে টেকনাফ থানা থেকে বিশেষ এসি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। এ নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে—এসি গাড়ির সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ফাইজার পরিবারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেন টেকনাফ থানার ওসি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা অভিযোগে সমালোচনায় আছেন ওসি আবু জায়েদ মো. নূর। সম্প্রতি একটি বড় ইয়াবা চালান গায়েব হওয়ার ঘটনাতেও তার নাম উঠে এসেছে।

টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবারিদের অভয়ারণ্য হিসেবে কুখ্যাত। সীমান্ত এলাকায় প্রায় প্রতিটি অভিযানেই মাদকের বিপুল চালান ধরা পড়ছে, আবার অনেক চালান অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠছে। স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের দায়মুক্তি আর কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশেই এ ব্যবসা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
###

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন