র‍্যাবের এজাহারে মূল আসামি, পুলিশের চার্জশিটে ‘অদৃশ্য’ হয়ে গেলেন মহেশখালীর এনাম

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ । ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

মহেশখালীতে কথায় কথায় গুলি ছোড়া, একাধিক হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামি এনামুল হক ওরফে এনামকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অস্ত্র মামলার চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই (তদন্ত কর্মকর্তা) নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে।

পুলিশের তথ্যমতে, এনামুল হকের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানাসহ কক্সবাজারে রয়েছে একাধিক মামলা, যার মধ্যে হত্যা, অস্ত্র ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরেই সে প্রভাব ও অর্থের জোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সহায়তা নিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি দাখিলকৃত এক মামলার অভিযোগপত্রে দেখা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ এনামের নাম চার্জশিট থেকে রহস্যজনকভাবে বাদ দিয়েছেন। অথচ র‍্যাব এজাহারে উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থল থেকে আটককৃত ৩জন আসামির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথা পলাতক আসামি মুজিবুর রহমানের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আলোচিত এনাম চেয়ারম্যান অস্ত্র ও এনোমেশন সরবরাহ করতেন। যার র‍্যাবের দায়ের করা এজাহারে এনামকে মূল গডফাদার হিসেবে বিবেচিত করা হয়।

এদিকে তদন্ত কর্মকরতার দাখিলকৃত মামলার চার্জশিট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কক্সবাজার র্যাব-১৫ কর্তৃক দাখিলকৃত মামলার এজাহারে নাম-ঠিকানাসহ ৫নং আসামি হিসেবে উল্লেখ ছিলো এনামুল হকের নাম। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন আটককৃত ৩ জন আসামির মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনায় পলাতক আসামি এনামের সঙ্গে কোনো যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ‘যোগাযোগ প্রমাণিত না হওয়ায়’ তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মহেশখালীর সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনের দায়ের করা মামলাগুলিতে কখনো কি আসামিদের কললিস্ট যাচাই করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়? তাছাড়া এ ধরনের কোনো মামলায় আসামিকে কললিস্টের অজুহাত দেখিয়ে হত্যা ও অস্ত্র মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে তা এখন পর্যন্ত মহেশখালীর মানুষ দেখেনি।

মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলীর বাসিন্দা নুরুল হাসেম জানান যে, এনাম চেয়ারম্যান ২০০৪ সালে তার বাবা বকসুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করলে থানায় এনাম চেয়ারম্যানসহ তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা করেন। উক্ত হত্যা মামলাটি আপোষ না দেওয়ায় বিগত ২০১১ সালে তার ছোট ভাই জয়নাল আবেদীনকেও প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করে। বিগত ১৬ বছর আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় খুন-গুমসহ বিভিন্ন নারকীয় অপরাধসহ ত্রাসের রাজস্ত কায়েম করে আসছিল। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর নিজেকে বিএনপি-জামাত নেতা দাবী করে পূর্বের ন্যায় নারকীয় অপরাধ করে আসতেছে।
অভিযুক্ত মহেশখালীর হোয়ানকের সাবেক চেয়ারম্যান এনামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। তবে চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ দিতে কোন তদবির এবং আর্থিক লেনদেন করেন নি বলে দাবি করেন তিনি। এবিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে ( তদন্ত কর্মকর্তা) এসআই নুর মোহাম্মদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে লেনদেনের কথা অস্বীকার করে বলেন, তদন্তে যা পেয়েছি তাই দিয়েছি। তাহলে র‍্যাব কি ভুল অপরাধী শনাক্ত করে মামলায় নাম দিয়েছিল এনামকে..? এমন প্রশ্নে উত্তরে নুর বলেন, আমি এয়ারপোর্টে ব্যাস্ত আছি ভাই পরে কথা বলব বলে ফোন কেটে দেন।

এদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস খান বলেন, মামলার তদন্তে তো অনেক প্রসেসিং আছে, সব কার্যক্রম শেষ করার পর তদন্তে যেটা সত্য সেটাই রিপোর্ট দেওয়া হয়। এইখানেও তাই হয়েছে। এইখানে কারো পক্ষ বিপক্ষ নেওয়ার প্রশ্ন উঠে না।

তবে আলোচিত এই মামলার বাদী র‍্যাব-১৫ এর ওয়ারেন্ট অফিসার ওয়াজ উদ্দিন বলেন, আটক করা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এনাম চেয়ারম্যানকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ মামলা থেকে বাদ দিলে সে বিষয়ে উর্ধ্বতন মহলের সাথে আলাপ করে করণীয় ঠিক করা হবে।

 

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন