দুই বছরেও প্রাণ ফেরেনি কক্সবাজার রেলস্টেশনে, আসছে বিদেশি দরপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫ । ১২:২৮ অপরাহ্ণ

 

কক্সবাজার রেলস্টেশন উদ্বোধনের দুই বছর পর সঠিক পরিচালনা ও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় এবার বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন উদ্বোধন করা হয়। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ও ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ নামে দুটি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে এখনো স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি।

রেলওয়ের হিসাবে, স্টেশনটি সম্পূর্ণ চালু হলে শুধু ইউটিলিটি খাতে মাসে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। এত ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ । তাই স্টেশনটি তৃতীয় পক্ষ বা অভিজ্ঞ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমরা চাই দক্ষ ও অভিজ্ঞ কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার রেলস্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব নিক। তবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান চাইলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে (জেভি) অংশ নিতে পারবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের মধ্যে ইতিমধ্যে তিন দফা চিঠি আদান–প্রদান হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।

আধুনিক নকশার ছয়তলা এই স্টেশন ভবনটি ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত। কাচঘেরা স্থাপনা, আইকনিক ছাদ, রেস্টুরেন্ট, ফুড কোর্ট, হোটেল কক্ষসহ নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বেশির ভাগই এখন অচল অবস্থায় আছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, স্টেশনটিতে টিকিট কাউন্টার এই বন্ধ এই খোলা, এস্কেলেটর অচল, আলো স্বল্পতা ও পর্যাপ্ত সেবা না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সঠিক কোন তদারকি নেই। যারা দায়িত্বে আছে তাদেরও সঠিক কোন জবাবদিহিতা নেই। কর্মকর্তারা এই আছে-এই নেই। সব কিছু যেন চলছে হাওয়ার উপরে।

২০১৮ সালে শুরু হওয়া ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকার দোহাজারী–কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করেছে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (CREC), চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (CCECC), তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।

স্থানীয়রা বলছেন, রেলস্টেশনটি দ্রুত চালু ও সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে এবং সরকারও পাবে প্রত্যাশিত রাজস্ব আয়। স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে সৃষ্টি হবে কর্মস্থল।

কক্সবাজার রেলস্টেশনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ চাইলে সব সম্ভব। দেশে আরো ভালো পরিচালক আছে। দেশের সম্পদ বিদেশে পরিচালনা করা এটা কোন দেশের জন্যই শুভকর নই।

কক্সবাজার রেলওয়ে প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অসম্মতি প্রকাশ করে জানাই,উর্ধতন কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নেবেন তাই অনুযায়ী আমাদের কাজ করতে হবে।

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন