কক্সবাজার সৈকতে ভাঙন রোধে অবশেষে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সৈকতের ভাঙন থেকে কক্সবাজার শহর রক্ষা প্রকল্প নামে একটি প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রস্তাবনাটি বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাউবোর প্রধান কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।
কয়েক বছর ধরে সাগরের প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে সৈকতের বিভিন্ন এলাকার বালিয়াড়ি ধসে পড়েছে। বিশেষ করে সৈকতের লাবণি পয়েন্ট থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত এ ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
এতে উপড়ে গেছে লক্ষাধিক ঝাউগাছ। সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ বক্স, অস্থায়ী দোকান, ওয়াচ টাওয়ার এবং পর্যটন করপোরেশনের বেশ কিছু স্থাপনা ভাঙনের কবলে পড়েছে। এর বাইরে সৈকতের পাশের একাধিক রেস্তোরাঁ ও ভবনে ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে সৈকতের নাজিরারটেক থেকে লাবণি পয়েন্ট পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমুদ্রের ক্ষয় থেকে শহরকে রক্ষা করার জন্য কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সংরক্ষণ ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে পাউবো।
গত মাসে পাঠানো এ প্রস্তাবনার বিষয়টি নিশ্চিত করে পাউবোর কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি প্রকল্প তৈরি করেছি। প্রকল্পটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বর্তমানে প্রধান কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ভাঙন থেকে সমুদ্রসৈকতকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সৈকতের নাজিরারটেক থেকে লাবণি পয়েন্ট পর্যন্ত বিমানবাহিনীর ঘাঁটি, সরকারি মোটেল, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রের ক্রমাগত ভাঙন ও প্লাবন থেকে রক্ষার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
এদিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গত তিন বছরে তীব্র ভাঙনে সৈকতের আয়তনও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। পানিতে সৃষ্টি হচ্ছে গুপ্তখাল ও বড়োসড়ো গর্তের। গোসলে নেমে খাল বা গর্তে আটকা পড়ে প্রাণহানি ঘটছে পর্যটকদের। সৈকতে ভাঙন নিয়ে গবেষণার পর সম্প্রতি বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের পশ্চিম পাশের সৈকত ভাঙন রোধে টেকসই ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণসহ তিন ধরনের সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে।
তিন ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় এতে সৈকত রক্ষায় বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃতিকভাবে জন্মায় এমন গাছপালা রোপণ, পর্যটকদের পারাপারের রাস্তা নির্মাণ, ঘেরা-বেড়া তৈরি, জিওব্যাগ স্থাপন ইত্যাদি এবং ঢেউয়ের আঘাতে সৈকতের ক্ষয় রোধে বিচ গ্রোয়েন (বাঁধ) ও দেয়াল নির্মাণ।
এ ছাড়া ভাঙন রোধে পাহাড় নিধন বন্ধ, ভূমিধস এলাকা চিহ্নিত করা, পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানির নেমে আসার ছড়াগুলোর অবস্থান, গতিপথ শনাক্ত করা এবং পাহাড়ের গাছপালা উজাড় হওয়ার স্থান চিহ্নিত করার জন্য স্যাটেলাইট ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫ । ১২:৪৯ অপরাহ্ণ