ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি নির্বাচনী প্রচারণাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী জানান, মতিঝিলে প্রচারণা শেষে রিকশায় ফিরছিলেন হাদি। এ সময় মোটরসাইকেলে এসে দু’জন হামলাকারী পাশ থেকে গুলি ছোড়ে। ফরাজীর দাবি—এই দুই যুবক কয়েক দিন ধরেই প্রচারণায় যুক্ত ছিল। তারা কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেয়নি; বরং হাদিকে “পছন্দ করি” এবং “প্রচারে থাকতে চাই”—এমন কথা বলে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে।
তিনি বলেন, “হাদি ভাই সবাইকে গ্রহণ করেন। তারা মাস্ক খুলে পরিচয় দিতে রাজি হয়নি। বারবার অনুরোধ করলেও মাস্ক না খোলায় বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি। জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথেই তারা পাশ থেকে গুলি চালায়।”
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরাজী কালো পাঞ্জাবি, কালো মাস্ক ও গলায় চাদর পরিহিত এক সন্দেহভাজন যুবকের ছবি ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, রমনা ডিসির সঙ্গে কথা বলার পর নতুন তথ্য মিলেছে। “খুনি যে দলেরই হোক, রেহাই পাবে না,” বলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত নভেম্বরেই শরিফ ওসমান হাদি দেশি–বিদেশি প্রায় ৩০টি নম্বর থেকে হত্যার হুমকি, বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি এবং পরিবারের নারীদের ওপর সহিংসতার আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছিলেন।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য মোহাম্মদ ওসামা বিবিসিকে জানান, মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি—যারা প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হাদির প্রচার টিমে যুক্ত হয়—এদের মধ্যেই একজন গুলি চালায়। কিছুদিন তাদের দেখা না গেলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তারা আবার টিমে সক্রিয় হয়।
এদিকে পুলিশ ও র্যাব সিসিটিভি ও বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের পরিচয় ও অবস্থান যাচাই করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তা জানান, সব তথ্য বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঢামেকে হাদির জরুরি অস্ত্রোপচার শুরু হয়। সিনিয়র চিকিৎসকদের একটি বিশেষায়িত দল অপারেশন সম্পন্ন করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ১০:৫৫ অপরাহ্ণ