সৌদি প্রবাসিদের লাখ লাখ টাকা মেরে দিয়ে দেশে এসে আত্মগোপনে চকরিয়ার ফারুক!
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশে পালিয়ে এসেছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের মো. ফারুক (২৮) নামের এক যুবক। প্রতারিত প্রবাসিরা তার গ্রামের বাড়ি চকরিয়ায় এসেও ফারুকের খোঁজ পাচ্ছেন না। উল্টো তারা প্রতারক ফারুকের বোনদের অশ্রাব্য গালিগালাজের মুখে পড়ছেন। ভূক্তভোগীরা জানতে পেরেছেন, ফারুক কক্সবাজারের চকরিয়ায় তার গ্রামের বাড়ি এবং রাজধানী ঢাকায় তার বোনের বাড়িতে আত্মগোপন করে আছেন। পরিবারের সবার সাথেই তার যোগাযোগ রয়েছে।
এই ফারুকের হাতে প্রতারণার শিকার হয়ে টাকা উদ্ধারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার দক্ষিণ লোহাগাড়ার হাজীর পাড়ার প্রবাসী চাকুরিজীবী মোহাম্মদ আবু সালেহ। তার অভিযোগ, সৌদি আরবের আবাহা প্রদেশে পেট্রোল পাম্পে বিনিয়োগের কথা বলে ৪৫ হাজার রিয়াল হাতিয়ে নিয়েছে সেই ফারুক, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা।
শুধু আবু সালেহ নয়, ফারুকের প্রতারণার শিকার হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন প্রবাসি। অভিযোগ উঠেছে, বেশ কয়েকজন প্রবাসি টাকা জমানোর একটি ‘লটারি’ করেছিলেন। সেই লটারির টাকাও মেরে দিয়েছে প্রতারক ফারুক।
ফারুকের প্রতারণার শিকার কুষ্টিয়ার প্রবাসি সাজ্জাদ ইসলাম জানান, লটারি সমিতি (প্রবাসী কল্যাণ সমিতি) থেকে ৬ লাখ টাকা মেরে দিয়েছে প্রতারক ফারুক। এছাড়াও বিকাশ ব্যবসায়ী উজ্জলের কাছ থেকেও আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাত করেছে ফারুক। আরও অনেকের সাথেই প্রতারণা করেছে এই ফারুক।
আবু সালেহের অভিযোগ, বাংলাদেশি পরিচয়ের সুত্র ধরে সৌদি আরবের আবাহা রাজ্যের ফরসা এলাকায় পেট্রোল পাম্পে বিনিয়োগের কথা বলে চকরিয়ার মো. ফারুক তার কাছ থেকে তিন দফায় ৪৫ হাজার রিয়াল নিয়েছে। পরে পেট্রোল পাম্পের লাভের অংশ হিসেবে প্রতিমাসে দেয়ার কথা ছিল ৫ হাজার রিয়াল। লাভ তো দূরের কথা, অন্যের কাছ থেকে ধার করে তাকে দেয়া টাকা মেরে দিয়ে দেশে পালিয়ে এসেছে চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলার মো. বারেকের ছেলে মো. ফারুক।
তিনি বলেন, যাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ফারুককে দিয়েছিলাম তাদের পাওনা ফেরত চাওয়ার প্যারা সইতে না পেরে দেশে এসে এখন হণ্যে হয়ে সেই ফারুককে খুঁজছি। দেশে এসে বেশ কয়েকবার ফারুকের চকরিয়ার বাড়িতে গিয়েছি। তার পরিবারের লোকজন তো ফারুকের খোঁজ তো দিলই না, উল্টো তার বোনেরা অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেছে।
আবু সালেহ জানান, তিনি সৌদির আবাহা রাজ্যের ফরসা এলাকায় যে পেট্রোল পাম্পে চাকুরি করতেন সেখানেই পাম্পের কর্মচারি ফারুকের সাথে পরিচয় হয় তার। পরে তিনি পেট্রোল পাম্পের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে কোম্পানির চাকুরিতে ঢুকে যান।
তার দাবি, সেই পরিচয়ের সুত্র ধরে ২০২৫ সালের জুনে পেট্রোল পাম্পে বিনিয়োগের লোভনীয় প্রস্তাব দেয় ফারুক। প্রতারক ফারুক তাকে বুঝাতে সক্ষম হয়- পাম্প মালিক তার তেলের বিনিয়োগ তুলে নিয়ে পাম্পটি তাকে চালানোর জন্য দিয়ে যাচ্ছেন। তেল কেনার টাকা পেলে পাম্পটি ফারুকই চালাতে পারবে। সেই কথায় বিশ^াস করে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে ১৫ হাজার রিয়াল করে তিনদফায় ৪৫ হাজার রিয়াল ফারুককে দেন। প্রতিমাসে ৫ হাজার রিয়াল লাভও দেয়ার কথা ছিল।
আবু সালেহ দাবি করছেন, লাভ তো দেয়ইনি, বরং মূলধনের ৪৫ হাজার রিয়ালও মেরে দিয়ে দেশে পালিয়ে এসেছে ফারুক। এখন হণ্যে হয়ে খোঁজেও তার খোঁজ পাচ্ছি না। ওদিকে আমার সৌদিতে ফেরার সময় হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে কথা বলতে আত্মগোপনে থাকা ফারুকের পারিবারিক মোবাইল নাম্বারে কল দিলেও ফোন বন্ধ থাকায় কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুন রশিদ বলেন, ফারুক নামের ছেলেটিকে চিনতে পেরেছি। সে প্রবাসে থাকতো। যতটুকু জেনেছি মাঝে মাঝে তাকে গ্রামে দেখা যায়।
তবে তিনি প্রবাসে কারো কাছ থেকে টাকা আত্মসাত করে পালিয়ে এসেছেন কিনা- বিষয়টি নিশ্চিত নন।

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৫:২৩ অপরাহ্ণ