ইরানের একটি পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে তাড়াহুড়ো করে আরও ১৭৫ রুশ কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই মস্কোর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
আর্মেনিয়ায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, বুশেহর কেন্দ্রের কর্মীরা নুরদুজ-আগারাক সীমান্ত দিয়ে আর্মেনিয়ায় প্রবেশ করেন এবং সোমবার একটি বিশেষ ফ্লাইটে মস্কোর উদ্দেশে রওনা হন।
দূতাবাস জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আর্মেনিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন মোট ৫০৯ জন রুশ নাগরিক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রোসাটম কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মস্কো আর্মেনিয়ার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। রবিবার রোসাটমের প্রধান অ্যালেক্সেই লিখাচেভ বলেন, বুশেহরে কর্মরত বেশিরভাগ রুশ নাগরিককে সফলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে আরও একটি ধাপে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘‘হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য তাঁর দেওয়া আলটিমেটামের চূড়ান্ত সময় ঘনিয়ে ঘনিয়ে আসছে। আজ রাতে একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো পুনরুদ্ধার করা যাবে না।’’
নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যাল দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুমকি দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি চাই না এটি ঘটুক, কিন্তু এটি সম্ভবত ঘটবে। তবে, এখন যেহেতু আমরা সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক শাসনের পরিবর্তন করেছি, যেখানে ভিন্ন, অধিকতর বুদ্ধিমান এবং কম কট্টরপন্থীরা আছে, হয়তো কিছু বিপ্লবী চমৎকার কিছু ঘটতে পারে।’’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘কে জানে? আজ রাতেই আমরা জানতে পারব—বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত আসছে। ৪৭ বছরের শোষণ, দুর্নীতি, এবং মৃত্যুর, অবশেষে অবসান হবে। ইরানের জনগণকে ঈশ্বর আশীর্বাদ করুন!”
এদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণা এবং ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে রুশকর্মীদের তাড়াহুড়ো করে নিজ দেশে চলে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—আজ রাতে কী ঘটতে যাচ্ছে ইরানে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও আল-জাজিরা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ৯:০৬ অপরাহ্ণ