চাকমারকুল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী উপজেলা প্রশাসনের রশিদ ব্যবহার করে হাসিল উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, চলতি মৌসুমে এই হাটে প্রায় ৫ হাজার গরু বিক্রি হতে পারে। সে হিসাবে হাসিল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি টাকা। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি গরু থেকে ১ হাজার টাকা হাসিল নেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে জোরপূর্বক ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
এতে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই বিপুল অর্থ কি যথাযথভাবে সরকারি রাজস্ব খাতে জমা হবে, নাকি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পকেটে চলে যাবে? প্রশাসনের নীরবতা ও সরাসরি তদারকির অভাবে রামুতে হাসিল আদায়কে ঘিরে জনমনে নানা সন্দেহ ও ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
কলঘর বাজার পশুর হাট পরিচালনা করছে কারা, এ নিয়েও জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিধি অনুযায়ী পশুর হাট পরিচালনা ও হাসিল আদায়ের দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় তিন শতাধিক যুবক উপজেলা প্রশাসনের রশিদ বই ব্যবহার করে প্রকাশ্যে হাসিল উত্তোলন করছে। প্রতিটি গরুর ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই এ হাসিল আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, উপজেলা প্রশাসনের নামে ব্যবহৃত রশিদ বইয়ের মাধ্যমে এ অর্থ আদায়ের বৈধতা কতটুকু এবং এর দায়ভার নেবে কে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকা বেহাত করা হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নির্লিপ্ততা এবং রহস্যজনক নীরবতার কারণেই এসব অনিয়ম আরও স্পষ্টভাবে সংঘটিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ । ৪:৫৯ অপরাহ্ণ