রামুতে থানা কম্পাউন্ডে সাজাপ্রাপ্ত আসামির সাথে পুলিশ অফিসারের আড্ডা

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬ । ১১:৪১ অপরাহ্ণ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে যে আসামি বছরের পর বছর পলাতক, সেই ওয়ারেন্টভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামিই কি না থানার ‘সেকেন্ড অফিসারের’ রুমে বসে এসআইয়ের সাথে খোশগল্পে মত্ত! কক্সবাজারের রামু থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল আরেফিনের সাথে একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবু বক্কর ছিদ্দিক মাসুকের এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় খোদ এসআই আরেফিনের বিরুদ্ধে সরাসরি আর্থিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

 

গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের আদেশে এসআই মোহাম্মদ তৌহিদুল আরেফিনকে কক্সবাজার সদর কোর্টে বদলি করা হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি এখনো রামু থানাতেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়া এবং একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনিক নির্দেশ উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল থাকায় তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ আরও সন্দেহজনক হয়ে উঠেছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছবিতে এসআই আরেফিনের সাথে থানার গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে আড্ডায় বসা ওই ব্যক্তি রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের শ্রীমুরা এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আবু বক্কর ছিদ্দিক মাসুক।

 

​আদালত সূত্রে জানা যায়, আবু বক্কর ছিদ্দিক মাসুকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) রয়েছে। এর মধ্যে এসটি মামলা নং- ৪৪৭/১৬ এবং সিআর ৬১৪/১৪ মামলায় বিজ্ঞ আদালত মাসুককে ৮ মাসের কারাদণ্ড এবং ৮ লাখ টাকা জরিমানা করে সাজা ওয়ারেন্ট জারি করেন। এছাড়াও এসটি মামলা নং- ২৫৩৫ এবং সিআর- ৪৫৬/১৪ মামলাতেও তার বিরুদ্ধে আরও দুটি পরোয়ানা দীর্ঘদিন ধরে পেন্ডিং রয়েছে।

 

আইন অনুযায়ী একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে দেখা মাত্রই গ্রেফতার করার কথা। কিন্তু রামু থানার সেকেন্ড অফিসারের রুমে তাকে যেভাবে চেয়ারে বসিয়ে এসআই তৌহিদুল আরেফিন আতিথেয়তা দিয়েছেন, তা কোনো সাধারণ সৌজন্যতা নয়, বরং গভীর কোনো আঁতাতের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

অভিযোগ উঠেছে, এসআই তৌহিদুল আরেফিন এই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার না করার বিনিময়ে এবং তাকে থানায় আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আবু বক্কর সিদ্দিক মাসুক একজন চিহ্নিত এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও রামু থানার সেকেন্ড অফিসারের রুম ব্যবহার করে এসআই আরেফিনের সাথে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। মাসুককে গ্রেফতার না করার পেছনে এসআই আরেফিনের বড় অঙ্কের দুর্নীতির লেনদেন রয়েছে। মাসুক এখন থানায় বসে বিভিন্ন মামলার দালালি ও তদবির বাণিজ্য করছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে এসআই আরেফিনের নাম ভাঙিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

 

 

​থানার মতো একটি সুরক্ষিত সরকারি জায়গায়, বিশেষ করে সেকেন্ড অফিসারের রুমে একজন দাগী আসামি কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধরে আড্ডা দেয় এবং তদবির বাণিজ্য চালায়-তা নিয়ে খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরেই কানাঘুষা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এসআই তৌহিদুল আরেফিনের মতো কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণেই পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে থানায় ভিআইপি মর্যাদা দেওয়ার এই ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং বিভাগীয় তদন্তের দাবি উঠেছে।

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন