সৈকতে ভেসে এল রহস্যময় ৬ গোলাকার বস্তু

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ । ৫:৫০ অপরাহ্ণ

অস্ট্রেলিয়ার নর্থ কুইন্সল্যান্ডের সৈকতে সন্দেহজনক ৬ গোলাকার বস্তু ভেসে এসেছে। এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, এগুলো মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ এবং সম্ভবত ‘স্পেস বল’ হতে পারে যা, প্রায়শই রকেট উৎক্ষেপণের পর অবশিষ্ট থেকে যায়। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

 

 

রোববার (৫ জুলাই) দেশটির স্পেস এজেন্সি নিশ্চিত করেছে, রহস্যময় এসব বস্তুর প্রকৃতি ও উৎস নির্ধারণে তারা কাজ করছে। এর আগে পুলিশ জানায়, বস্তুগুলোতে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

 

 

প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, টাউনসভিলের ফরেস্ট বিচ এলাকায় সৈকতে ভেসে আসা বস্তুগুলো দেখতে বড় আকারের গোলকের মতো। সৈকতে মোট ছয়টি গোলাকার বস্তু পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কুইন্সল্যান্ড ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়। এর মধ্যে পাঁচটিকে নিরাপদে ড্রামের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর ষষ্ঠ বস্তুটিকে রোববার নিরাপদ করার কাজ চলছিল বলে জানান বিভাগের এক মুখপাত্র।

 

 

তবে পুলিশ আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। তবে, এ ধরনের আরও বস্তু পাবার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ফায়ার ডিপার্টমেন্ট। তারা এক বিবৃতিতে জানায়, আগামী কয়েক দিনে এ এলাকায় আরও ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে। বর্তমানে স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।

 

 

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির দেয়া তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ধ্বংসাবশেষগুলোর প্রকৃতি এবং এগুলোর উৎস এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে।

 

 

পুলিশ এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে কাজ করা অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির এক মুখপাত্রও নিশ্চিত করেছেন, বস্তুগুলোকে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বলে মনে করা হচ্ছে। ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির মহাকাশ প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং মহাকাশের আবর্জনা বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক অ্যালিস গোরম্যান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করে বলেছেন, বস্তুগুলোর গায়ে আগুনে পোড়া বা দগ্ধ হওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এটি ইঙ্গিত করে যে এগুলো সম্ভবত কোনো রকেটের একটি ধাপের অংশ, হয়তো প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপের। রকেটের বাকি অংশ যখন মহাকাশে পেলোড পৌঁছে দিতে এগিয়ে যায়, তখন এই অংশটি পৃথিবীতে ফিরে আসে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে এগুলো রকেটের জ্বালানি সিস্টেমের অংশ। এগুলো চাপযুক্ত জ্বালানি সংরক্ষণের পাত্র, যা টাইটেনিয়াম অ্যালয়ের তৈরি এবং যার গলনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি। এগুলো আসলে স্পেস বল নামে পরিচিত। উৎক্ষেপণের বহু বছর পরও এগুলো খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।’

 

 

তবে গোরম্যান বলেন, ‘বস্তুগুলো মহাকাশ শিল্পের অংশ নাও হতে পারে। এগুলোর উৎস সামুদ্রিকও হতে পারে। যদি এগুলো সত্যিই স্পেস বল হয়, তাহলে এর ভেতরে কিছু পরিমাণ হাইড্রাজিন থেকে যেতে পারে, যা অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি।’ তিনি ধারণা প্রকাশ করেন, এগুলো রাশিয়ার ফ্রেগাট রকেটের অংশ হতে পারে। কারণ ওই রকেটের জ্বালানি হিসেবে একই ধরনের চাপযুক্ত জ্বালানি পাত্র ব্যবহার করা হয়।

 

 

বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে ৩০ হাজারেরও বেশি ধ্বংসাবশেষ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে কার্যকর উপগ্রহ থেকে শুরু করে রকেট উৎক্ষেপণের পর অচল হয়ে পড়া বিভিন্ন যন্ত্রাংশও রয়েছে। গোরম্যান বলেন, ‘মহাকাশের আবর্জনা সাধারণত সমুদ্রের ওপর দিয়েই পৃথিবীতে ফিরে আসে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া একটি বিশাল স্থলভাগ হওয়ায় আমাদের দেশেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মহাকাশের আবর্জনা এসে পড়ে।’

 

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশে উৎক্ষেপণের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় মহাকাশের আবর্জনাও ক্রমেই বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। গত পাঁচ বছরে যত মহাকাশ উৎক্ষেপণ হয়েছে, তা মানব ইতিহাসের আগের সব সময়ের মোট উৎক্ষেপণের চেয়েও বেশি।’

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন