কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে পুলিশের কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পছে। ভোররাতে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চেইন্দা ঘোনারপাড়া সংলগ্ন মাকপাড়া এলাকায় অন্তত চারটি বসতঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। হামলায় কয়েকজন বাসিন্দা আহত হয়েছেন বলেও জানান সমাজকমিটির সর্দার আলি আক্কাছ।
ভুক্তভোগীদের দাবি ভোর প্রায় ৫টার দিকে শামসুল আলম,মৃত বজল আহমদ সহ চার বাড়িতে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পরিকল্পিতভাবে একের পর এক বাড়িতে হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সমাজ কমিটির সভাপতি আলি আক্কাছ বলেন,এ ধরনের ঘটনা আমাদের এলাকায় আগে খুব একটা ঘটেনি। ভোররাতে সংঘটিত এই ডাকাতির ঘটনায় পুরো এলাকাবাসী আতঙ্কিত। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার, নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চুরি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে।
উল্লেখ্য, ডাকাতির ঘটনার আগের সন্ধ্যায় দক্ষিণ মিঠাছড়ির পানেরছড়া এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মনিরুল ইসলাম ভূইয়া সহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ওই সভার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোদেস্তা বেগম রীনার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাফর আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি।”
রামু থানার এসআই বিমল কান্তি বলেন,ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দক্ষিণ মিঠাছড়িতে ডাকাতি, চুরি, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধ দমনে দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি চিহ্নিত অপরাধী ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে জনমনে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

মোহাম্মদ আবদুল্লা:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ । ৬:৪৯ অপরাহ্ণ