রাষ্ট্রপতি ৯ মে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। সফরকালে তিনি টেলিফোনে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পরে জানতে পারে। এরপরই রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে সরকারের উচ্চপর্যায়, বঙ্গভবন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার টেলিফোনে কথোপকথনের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসার পর থেকেই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ডেইলি স্টার। তবে সম্ভাব্য পদত্যাগের পেছনে শুধু ওই ফোনালাপ নয়, আরও জটিল রাজনৈতিক বিবেচনাও রয়েছে বলে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ৯ মে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। সফরকালে তিনি টেলিফোনে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পরে জানতে পারে। এরপরই রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে বিএনপির ওই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিষয়টি কেবল একটি ফোনালাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন—এমন তথ্য সামনে আসার পর সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
গত ১০ জুলাই রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। একই সময়ে দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ।
বিএনপির ওই নেতা আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। এর মাধ্যমে সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সংকেত দিতে চাইতে পারে।
এদিকে, গত ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ঠিক কবে পদত্যাগ করবেন কিংবা তার উত্তরসূরি কে হবেন—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়াটা এখন “স্বাভাবিক প্রক্রিয়া”। সূত্রটি বলেছে, “তিনি আজ বা কাল থাকবেন না, এটাই স্বাভাবিক।”
একই সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতির আগের রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টার তথ্য সরকারের অসন্তোষের অন্যতম কারণ। গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী সময়ের কোনো ব্যক্তিকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বহাল রাখাকে সরকার আর সমীচীন মনে করছে না বলেও ওই সূত্রের দাবি।
বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, “এক-দুই দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে শুনছি।” তবে একই সঙ্গে জানা গেছে, আগামী ২৯ জুলাই চারটি দেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতির একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে পদত্যাগ করতে চান। সে সময় তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।
পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ । ৪:০৪ অপরাহ্ণ