টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তিতে চরম অসন্তুষ্টি, আমরণ অনশনের হুমকি জনতার বিক্ষোভের মুখে গণশুনানি পণ্ড; কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা অবরুদ্ধ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ । ৬:১৩ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তিকরণকে কেন্দ্র করে জনমনে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয়দের তীব্র বিক্ষোভ, ভাংচুর এবং হট্টগোলের মুখে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণী গণশুনানি পণ্ড হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকালে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদেও গোপনে গণশুনানি আয়োজনের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক নেতারা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন বিভক্তি হলে আমরণ অনশন করব,বর্গকিলোমিটারের অজুহাতে বিভক্তি চাই না,ইউনিয়ন বিভক্তি হলে নাগিরক সেবা ব্যাহত হবে”—এমন নানান স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, কোনো বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে এই ঐতিহ্যবাহী মডেল ইউনিয়নকে ভাগ করা যাবে না। বিভক্তি হলে আমরণ অনশনের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।

 

গতকাল বিকেল ৩টায় হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদে সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত পূর্বনির্ধারিত গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে পরিষদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে তালা খোলা হলেও গণশুনানি শুরুর সাথে সাথেই শত শত মানুষ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।

 

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা পরিষদ কার্যালয়ের বাইরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে পরিষদের দফাদারসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তাসহ উপস্থিত রাজনৈতিক নেতাদের ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে।

 

এসআই আনোয়ার হোসেন জানান,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপদে উদ্ধার করে। ভাঙচুরে বেশ কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।

 

অন্যদিকে, একই দিন সকালে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের গণশুনানি নিয়েও নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা গেছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম অপি অভিযোগ করে বলেন,কোনো ধরনের আগাম প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই একেবারে চুপিসারে হ্নীলায় গণশুনানি সম্পন্ন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে আমাদের মতো বিএনপি নেতাদেরও মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

 

ইউনিয়ন বিভক্তিকরণের বিরোধিতা করে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন,পরিষদ জনগণের সেবার জন্য। হোয়াইক্যংয়ের সাধারণ মানুষ ইউনিয়ন বিভক্তির পক্ষে নয়, তারা অখণ্ড ইউনিয়ন চায়। ইউনিয়ন আলাদা হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়বে। তাই সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হোক।তবে বিষয়টি নিয়ে হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান,হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পৃথকীকরণে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তার পরিচালনায় গণশুনানি শুরু হওয়ার আগেই স্থানীয়দের তোপের মুখে ব্যাপক হট্টগোল ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পাঠিয়ে কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের উদ্ধার করা হয়।

 

ইউনিয়ন বিভক্তির এই প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের আশঙ্কা করছেন টেকনাফের সচেতন মহল।

স্বত্ব ২০২৪-২০২৫ টেলিগ্রাম নিউজ | সম্পাদক : জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট করুন