খুঁজুন
, ,

কৃষিতে পলিনেট হাউজ: কোটি টাকার মুনাফা সম্ভব

ড. মো: ফোরকান আলী
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
কৃষিতে পলিনেট হাউজ: কোটি টাকার মুনাফা সম্ভব
শেয়ার করুন

কৃষি বাংলাদেশের চালিকাশক্তি। গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি। বৃষ্টিপাতে অসমতা। দিবা দৈর্ঘের পরিবর্তন। কৃষি ব্যবস্থা তথা শস্য আবর্ত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় কৃষি উৎপাদন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন কৃষি ভাবনায় প্রধান উপজীব্য বিষয় হওয়া দরকার। আমাদের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা অনেক সমস্যার অন্তরালে। চালের উৎপাদনে অগ্রগতি হলেও এখনও ডাল, মসলা ফসলসহ বহু কৃষি পণ্য আমদানি নির্ভর। মাথাপিছু চাষযোগ্য জমির স্বল্পতা। অনেক চাষযোগ্য জমির স্বরূপ পরিবর্তন এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব পৃথিবীর দেশগুলোর মধ্যে সর্বাধিক।

বলা হয় দারিদ্র্যের একটি কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি উন্নয়ন ও তার প্রয়োগ সময়ের দাবি। তাই পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক পলিনেট হাউজ প্রযুক্তি ব্যবহার কৃষিতে একটি নতুন প্রযুক্তি সংযোজন। এ প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রিত আলো ও পরিমিত সেচ প্রদানের মাধ্যমে বছরজুড়ে ফসল উৎপাদন করতে সহায়তা করছে। কৃষি উন্নয়নের বিস্ময় এই পলিনেট হাউজ। সাড়া বছর একাধিক উচ্চমূল্যের সবজি ও ফসল চাষ করে স্থায়ীত্বশীল কৃষির পথচলা বেগবান করছে। মূলত বৃষ্টিনির্ভর খরিপ-১ এবং খরিপ-২ মৌসুমে উচ্চমূল্যের ফলসহ বহুবিধ ফসল চাষের পথ সুগম করছে।

 

পলিনেট হাউজ

পলিনেট হাউজ কৃষককের জন্য ব্যবহার উপযোগী একটি নিয়ন্ত্রিত ঘর। সেখানে ফসলের ইকোলজী তথা পরিবেশ-প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে আলো, পানি, তাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রযুক্তির প্রয়োগ করে। যা কৃষকের ক্ষমতায়নের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

প্রযুক্তির প্রয়োগ

নিয়ন্ত্রিত সূর্যালোক: আলট্রা ভায়োলেট পলিনেটেড পলিসিট, ৫০% সূর্যালোক নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

নিয়ন্ত্রিত সারফেস সেচ: ফোঁটায়-ফোঁটায় স্প্রিংকাল-সেচ। ১-২ ঘোড়ার মোটর দিয়ে সেচের দুটি পথ (চ্যানেল) দিয়ে- (ক) গাছের গোড়ায় (মূলের চারিদিকে) সেচ প্রদান (১ ফুট দূরত্বে পাইপ, অ্যানকেল, নজেল ও ছিদ্র)।

(খ) পাইপলাইনের মাধ্যমে (স্প্রিংকলার-সেচ) হেডার ইরিগেশন।

নিয়ন্ত্রিত তরল সার প্রয়োগ: সময়মতো বাড়তি সার উপরিপ্রয়োগ করার উত্তম প্রযুক্তি। সারের অপচয়রোধ এবং দ্রুত সার প্রযোগ করা সম্ভব।

পলিনেট হাউজ অবকাঠামো: সিমেন্টের খুটি, আরএফএল পাইপ, লোহার ফ্রেম, ছাদে পলিথিন, ফোলডিং নেট (ইউপিভি), প্রফাইল, জিগজ্যাগ স্প্রিরিং ইত্যাদি।

পলিনেট হাউজ তৈরি করার অঞ্চলসমূহ

দেশের সবত্রই পলিনেট হাউজ তৈরি করা সম্ভব। তবে যে সকল অঞ্চলে বৈকি উষ্ণতার কারণে ফসল ফলানো যায় না এবং সময়মতো বীজ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না এমন অঞ্চল। বন্যা প্রবণ ফরিদপুর এবং হাওর/বিল অঞ্চল, লবণাক্ত প্রবণ খুলনা, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী অঞ্চল এবং খড়া প্রবণ রাজশাহী, দিনাজপুর এবং টাঙ্গাইল অঞ্চল ইত্যাদি।

 

পলিনেট হাউজ ও ফসল বিন্যাস

মৌসুমভিত্তিক কৃষি এবং প্রকৃতিনির্ভর সিদ্ধান্ত থেকে কৃষক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় স্বল্প সেচ ও কম খরচে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে। মূলত বৃষ্টিনির্ভর খরিপ-১ এবং খরিপ-২ ও রবি মৌসুমে নিবিড়ভাবে উচ্চমূল্যের ফলনসহ বহুবিধ ফসল চাষ করা সম্ভব। যেমন- মরিচ/ক্যাপসিকাম-গ্রীষ্মকালীন টমেটো-বেগুন, বেগুন- গ্রীষ্মকালীনটশসা-ধনেপাতা/পুদিনাপাতাসহ অন্যান্য সবজি। আগাম রবি ফসল চাষ করে চার বার ফসল উৎপাদনের নতুন মডেল তৈরি করা সম্ভব।

 

উচ্চমূল্যের ফসলের জন্য উপযোগী পলিনেট হাউজ তৈরিতে খরচ

এটি তৈরির খরচ নির্ভর করে এর আয়তন এবং উপকরণের উপর। প্রতি শতক জমিতে ৫০-৬০ হাজার টাকা হিসেবে পাঁচ শতক জমির উপর ১টি পলিনেট হাউজ তৈরিতে ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রয়েজন হয়। উপযুক্ত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের স্থায়ীত্ব ২০ বছর করা সম্ভব।

একটি ফসল চাষে আয়-ব্যয়

পরিক্ষণ ও গবেষণায় দেখা যায় ১০ শতক জমিতে গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষ করে ৬০০ চারাগাছ উৎপন্ন করা যায়। একই জমিতে টমেটো চাষে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিটি গাছ থেকে আড়াই কেজি ফল উৎপন্ন হলে মোট ১ হাজার ৫০০ কেজি টমেটো পাওয়া যায়। প্রতি কেজি টমেটোর মূল্য ৭৫ থেকে ১০০ টাকা হলে ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি হতে পারে। ১০ শতক জমিতে টমেটো চাষ করে তিন মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুনাফা হয়ে থাকে। মরিচ, ধনেপাতা এবং পুদিনাপাতায় এই লাভ আরও বেশি হয়ে থাকে। পলিনেট হাউজে ৩-ফসল এবং ৪-ফসল মডেল ব্যবহার করে বছরে বড় অংকের টাকা আয় করা সম্ভব।

 

পলিনেট হাউজের স্থায়িত্ব

একটি পলিনেট হাউজ তৈরি করে তার স্থায়িত্ব ১২ থেকে ১৫ বছর ধরা যায়। হিসেব অনুযায়ী একটি পলিনেট হাউজ তৈরি করে ১২ থেকে ১৫ বছরে কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। উপযুক্ত মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ এর স্থায়িত্ব ২০ বছর ধরে ব্যবহার করা সম্ভব। এলাকার অগ্রগামী কৃষক এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করতে পারে। এমনকি কৃষক সহজে স্থানীয় সম্পদ হিসেবে কাঠ, বাঁশ, সুতা ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি সম্প্রসাণ করতে পারে।

গবেষণায় দেখা যায়, পলিনেট হাউজ তৈরি করে ৩-৪টি ফসল নিবিড়ভাবে চাষ করা সম্ভব। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৮-১০ টন সবজি উৎপন্ন হলে এবং প্রতি কেজি সবজির মূল্য ৩০ টাকা হলে ৩ লাখ টাকা এবং প্রতি মৌসুমে ন্যূনতম ৯ লাখ টাকা আয় হতে পারে। একটি পলিনেট হাউজ থেকে কোটি টাকার নেট মুনাফা তৈরি করা সম্ভব।

 

১৮ কোটি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার এখন সময়ের দাবি। জাতিসংঘের এসডিজি কর্মসূচি ১৭টি এজেন্ডা এবং ১৬৯টি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এর ১ম এজেন্ডা পৃথিবীর সর্বত্র সব ধরনের দারিদ্রের অবসানসহ খাদ্য, পুষ্টি নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনমান অর্জন এবং টেকসই উৎপাদনের প্রসার। দেশে আগামীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় দিতে হচ্ছে অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধির দিকে। যা টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, জমির সঠিক ব্যবহার, আধুনিক জাতের সমন্বয় এবং প্রকৌশলগত বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভর করে।

বলা হয় ফসল চাষে আধুনিক সেচ প্রয়োগের ধারা চালু হয়েছে। নিয়ন্ত্রিত আলো ও পরিমিত সেচ প্রদানের কৃষি প্রযুক্তি এবং উন্নয়নের বিস্ময় এই পলিনেট হাউজ। সাড়া বছর একাধিক উচ্চমূল্যের সবজি ও ফসল চাষ করে স্থায়িত্বশীল কৃষির পথচলা বেগবান করবে। মূলত ভঙ্গুর বৃষ্টিনির্ভর খরিপ-১ এবং খরিপ-২ মৌসুমে উচ্চমূল্যের ফলসহ বহুবিধ ফসল চাষের পথ সুগম করে কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থান তৈরি করবে। বৈশ্বিক পরিবর্তনে পুষ্টি ও সুরক্ষিত জীবনব্যবস্থায় পলিনেট হাউজ কৃষির একটি আধুনিক সংযোজন।

আইনের মধ্যে হত্যার অধিকার পুলিশের আছে যদি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়: তথ্য উপদেষ্টা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
আইনের মধ্যে হত্যার অধিকার পুলিশের আছে যদি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়: তথ্য উপদেষ্টা
শেয়ার করুন

আইনি অধিকার ও সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট সাপেক্ষে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার রাখলেও, বিগত সরকারের আমলের মতো বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের পথে হাঁটবে না বর্তমান সরকার। সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশের বল প্রয়োগ করার আইনি অধিকার আছে। আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার অধিকার পুলিশের আছে, যদি সেই ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। যে কথাটা বারবার বলছি, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং প্রপোশনেট বল প্রয়োগের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, একটা জিনিস একটু আমরা মাথায় রাখবো, সেটা হচ্ছে কোনো একটা অস্থিরতা বা আনরেস্ট সরকার কীভাবে হ্যান্ডেল করবে? কীভাবে সেটাকে ডিল করবে?

সরকার আগের মতো আন্দোলন দমনের পথে যেতে চায় না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ আর কখনো হাসিনার পুলিশের মতো হবে না। আমি নাগরিক হিসেবে বলছি, সরকারে থাকা মানুষ হিসেবে বলছি না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোথাও কোথাও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বল প্রয়োগের ঘটনা দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনারা হয়তো দেখেছেন, কোথাও কোথাও ডিসপ্রপোশনেট বল প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, যে কথাটা বলতে চেয়েছি, আগে যেভাবে এগুলো দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে এই সরকার সেভাবে চাচ্ছে না। কারণ দিনের শেষে আমরা কিশোর গ্যাং বলি বা অন্য কাউকে বলি না কেন, এরা এই রাষ্ট্রের নাগরিক।

আন্দোলনকারীদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য আছে এবং সেটা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলেছেন, এটা কীভাবে হচ্ছে? এর সবকিছুই সেই বাহিনীর কাছে আছে। কিন্তু আমরা এটাকে এমনভাবে করতে চাই যেন জনগণের উপরে খুব কম ভয়-ক্ষতি হয়, খুব কম সমস্যা হয়।

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে শ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটা শেষ হবে, কারণ প্রাথমিকভাবে কিন্তু শ্রমিকরাও মাঠে নেমেছিলেন, কারণ তাদের কিছু ন্যায্য দাবি ছিল। এখন যেহেতু কমিশন তৈরি হয়েছে, আমরা আশা করি তাদের আমরা বোঝাতে পারব।

শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্য কেউ অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না, এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের পোশাকশ্রমিকরা মাঠে নেমেছেন, সেটার ভেতরে ঢুকে অন্যরা এ কাজটি করছে। তারা না নামলে এ সমস্যা হয় না।

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, মোবাইল কভারে লেখা ছিল ‘Death like autumn leaves’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, মোবাইল কভারে লেখা ছিল ‘Death like autumn leaves’
শেয়ার করুন

একটি মোবাইল ফোনের কভার। তাতে লেখা ‘Death like autumn leaves’। অর্থাৎ, শরতের ঝরা পাতার মতো মৃত্যু। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যুর পর সামনে এসেছে এমন একটি মোবাইল কভারের ছবি। কভারে লেখা কথাগুলো নতুন করে নাড়া দিয়েছে অনেককে। এটি মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘Stray Birds’ কাব্যগ্রন্থের একটি বিখ্যাত উক্তি- ‘Let life be beautiful like summer flowers and death like autumn leaves’ অর্থাৎ জীবন গ্রীষ্মের ফুলের মতো সুন্দর হোক, আর মৃত্যু হোক শরতের পাতার মতো।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় একটি লোকাল বাস উল্টে যায়। এ সময় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা তিন শিক্ষার্থী বাসটির নিচে চাপা পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত। আহত অপর দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি লরি পাশাপাশি যাওয়ার পর একটি লরি অন্যটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৮ নম্বরের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে গিয়ে তিন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ইভা জানান, দুর্ঘটনার শিকার তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকালে ক্যাম্পাসে আসছিলেন।

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি লরি ও বাসটি থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকেরা মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না: তথ্য উপদেষ্টা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না: তথ্য উপদেষ্টা
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে আছেন, সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি না। তবে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও এর অর্থ এই নয় যে, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পথ তাদের জন্য সুগম হবে।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

 

তার দাবি, এ ধরনের নাশকতার চেষ্টা শুধু ডিসেম্বরকে ঘিরে নয়, শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন চলতে পারে। তবে সরকার এসব চেষ্টা প্রতিহত করবে।

 

‎পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকা এবং এতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার আগেভাগে মজুরি কমিশন গঠন করেছে। ফলে আন্দোলনের মূল দাবির সমাধান হওয়ার কথা।

 

‎তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পাঁচ বছর পরপর পর্যালোচনার কথা। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পর্যালোচনা হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি কমিশন গঠনের কথা ছিল না। এরপরও সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় কমিশন করেছে।‎

 

‎আন্দোলনে সহিংস আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার অধীনস্থ বাহিনীগুলোর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন, এসব ঘটনার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন রয়েছে।

 

‎জাহেদ উর রহমান বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এখন কোনো কিছু করতে পারবে বলে সরকার বিশ্বাস করে না। তবে দলটির কাছে বিপুল অর্থ রয়েছে, যা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। এর সঙ্গে ডিসেম্বরের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত নন। তবে শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

 

‎‎শ্রমিক আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের বাইরে অন্যদের অংশগ্রহণ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার আগের মতো বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন দমাতে চায় না। এসব তরুণও রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও ভোগান্তি যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করছে সরকার। অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির অবসান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।‎

 

‎শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার তাকে ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি নিজে আসুন কিংবা তাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক, সরকারের চাওয়া একই। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আগাম জানাতে চাননি তিনি। পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।‎

 

‎পুলিশের বলপ্রয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশকে আইন মেনে এবং পরিস্থিতির তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চর্চা নিশ্চিত করছে সরকার।