খুঁজুন
, ,

পরমাণু হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র, নাগরিকদের সতর্ক করল ইরান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
পরমাণু হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র, নাগরিকদের সতর্ক করল ইরান
শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের আশঙ্কার মধ্যে পারমাণবিক হামলার ভয়াবহতার মুখে দাঁড়িয়েছে ইরান। সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলা থেকে সাধারণ মানুষের প্রাণ রক্ষা করার উপায় ও করণীয় সম্পর্কে সতর্ক করে একটি বিশেষ শিক্ষামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরান সরকার। এই ভিডিও প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ আট মিনিটের একটি শিক্ষামূলক ভিডিও এবং এ সংক্রান্ত বিস্তারিত পরামর্শ প্রকাশ করে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন রাজনৈতিক উপস্থাপক টাকার কার্লসনের বার্তা এবং গত ১৬ অক্টোবর খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারির পর থেকেই এই শঙ্কা চরম রূপ নেয়।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ববাসী এবারই প্রথম এত গভীরভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসাত্মক হুমকির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্ভাব্য এই বিপর্যয় এড়াতে এবং হামলা চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে সাধারণ নাগরিকেরা কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবেন, তা ভিডিওটিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

 

ভিডিওতে আশ্রয় নেওয়া, তেজস্ক্রিয় দূষণ এড়ানো ও তেজস্ক্রিয় ধূলিকণা বা ফলআউট থেকে সুরক্ষার উপায় তুলে ধরা হয়েছে। নাগরিকদের ভূগর্ভস্থ কক্ষ বা বেসমেন্টে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জানালা থেকে দূরে থাকতে এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ বাইরের বাতাস ঘরের ভেতরে প্রবেশ করায়, এমন বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

কেউ খোলা জায়গায় আটকা পড়লে তার করণীয় কী, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে ভিডিওতে। প্রাথমিক বিস্ফোরণের ধাক্কা কেটে গেলে বাসিন্দাদের নিকটতম মজবুত ভবনে প্রবেশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মিশর ও সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যমগুলোও এ নির্দেশনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হামলার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে। এ সময় প্যাকেটজাত খাবার ও বোতলজাত পানি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যানবাহনের ভেতরে আশ্রয় নিতে নিষেধ করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মিশরীয় সংবাদমাধ্যম ভেটো জানিয়েছে, নির্দেশাবলীতে ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়কেন্দ্রের ভেতরে থাকার প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

 

রিয়াদ-ভিত্তিক সৌদি নিউজ ৫০ আরও বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জনগণকে পরামর্শ দিয়েছে যে, ওই ২৪ ঘণ্টা পর তাদের চারপাশ নিরাপদ থাকবে বলে যেন তারা ধরে না নেয়।

 

تطور لافت وغير مسبوق.. الإعلام الإيراني ينشر تعليمات إرشادية للمواطنين الإيرانيين استعداداً لاحتمال هجوم نووي: • تجنّب النظر مباشرة إلى الضوء الشديد الناتج عن الانفجار. • عند الوجود خارج المباني وتعذّر الدخول فورًا، يجب الاحتماء خلف حاجز والاستلقاء على الأرض مع تغطية الرأس والوجه. • بعد مرور موجة الانفجار، يجب الدخول إلى أقرب مبنى، وتجنّب البقاء للمشاهدة أو التصوير، وعدم الاحتماء داخل السيارات. • التوجّه إلى القبو أو الأجزاء الداخلية من المبنى، بعيدًا عن النوافذ والجدران الخارجية. • إغلاق الأبواب والنوافذ وإيقاف أجهزة التكييف والتهوية التي تسحب الهواء من الخارج. • خلع الملابس الخارجية المعرّضة للتلوث دون نفضها، ووضعها في كيس محكم الإغلاق بعيدًا عن الأشخاص، دون الخروج للتخلص منه. • الاستحمام بالماء الفاتر والصابون، واستخدام الشامبو العادي دون البلسم. • عند تعذّر الاستحمام، يجب تنظيف الوجه واليدين والأجزاء المكشوفة من الجسم بالماء أو المناديل المبللة. • الاعتماد على المياه المعبأة والأطعمة المغلّفة، والاستعداد للبقاء داخل الملجأ لمدة لا تقل عن 24 ساعة. • عدم افتراض زوال الخطر بعد مرور 24 ساعة، والالتزام بالتعليمات الرسمية وإرشادات الطوارئ بشأن الخروج الآمن. • في حال اندلاع حريق داخل المبنى أو وجود خطر انهياره، يجب الانتقال إلى ملجأ أكثر أمانًا. • مراجعة التعليمات مع أفراد الأسرة مسبقًا لتعزيز الجاهزية وتقليل المخاطر المحتملة. –

 

— أخبار السعودية (@SaudiNews50) November 3, 2026

সৌদি নিউজ ৫০-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ভবনে আগুন লাগলে বা সেটি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকলে অন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে।

 

মিশরীয় সংবাদমাধ্যম সাদা এল বালাদ জানিয়েছে যে, লোকজনকে বিস্ফোরণ দেখা বা তার ছবি তোলার জন্য বাইরে থাকতে এবং যানবাহন আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, তেজস্ক্রিয় কণা বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে বিস্ফোরণস্থল থেকে অনেক দূরে থাকা মানুষেরাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

 

দেশটির সতর্কবার্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয় কণার ঝুঁকির ওপর। ইস্ফাহান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আদেলজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, তেজস্ক্রিয় পদার্থ বায়ুমণ্ডলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে ও বিস্ফোরণস্থল থেকে দূরে থাকা মানুষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ফটোসাংবাদিককে আটকে বিএনপি নেতা বললেন ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
ফটোসাংবাদিককে আটকে বিএনপি নেতা বললেন ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক’
শেয়ার করুন

ঢাকার নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের কবিরপুর এলাকায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন দৈনিক আগামীর সময়ের ফটোসাংবাদিক মহুবার রহমান। একটি পোশাক কারখানার সামনে ছবি তুলতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যবস্থাপকের তোপের মুখে পড়েন তিনি। কেড়ে নেওয়া হয় তার মোবাইল ফোন। পরে তাকে আটকে রেখে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে। ওই নেতা এসে ফটোসাংবাদিককে প্যান্ট খুলে তল্লাশির হুমকি দেন।

 

ঘটনাটি আজ মঙ্গলবার দুপুরের। এদিন ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। কবিরপুর এলাকায় ছবি ও ভিডিও নিতে গিয়েছিলেন মহুবার। গিয়ে দেখতে পান টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক সেখানে। কাজে ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকদের অনেকেই। প্রথমে ইকোটেক্স গার্মেন্টসের সামনে তাদের কর্মস্থলে ফেরার ছবি নেন। আশানুরূপ না হওয়ায় যান একটু দূরে, পলমল গার্মেন্টসের সামনে। সেখানে চলছিল দুপুরের খাবারের বিরতি। শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরোবার সময় সড়ক বিভাজকে দাঁড়িয়ে ছবি ও ফুটেজ নেন তিনি।

 

এমন সময় কারখানার এক নিরাপত্তাকর্মী মহুবারকে ছবি তোলা শেষে দেখা করে যেতে বলেন। পরে ফটকের সামনে গেলে তার কাছে ছবি তোলার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। মহুবার প্রশ্ন করেন, কারখানার বাইরের ছবি তুলতে অনুমতি নিতে হবে কেন? তিনি শুধু শ্রমিকদের বের হওয়ার ছবি ও ফুটেজ নিয়েছেন।

 

এরপর কারখানার ব্যবস্থাপকদের একজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানিয়ে মহুবার বলেন, ‘ওই ব্যবস্থাপক আমাকে পাশের একটি ফটকের সামনে নিয়ে যান। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও ছাড়েনি। তিনি আমাকে কারখানার ভেতরে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। রাজি না হওয়ায় পাশের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে আমাকে আটকে রেখে ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। মুছে দেওয়া হয় ফোনে থাকা ছবি ও তাদের কথোপকথনের ভিডিও।’

 

এ সময় ওই ব্যবস্থাপক ফোন করে সেখানে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে আসতে বলেন। মহুবারের অভিযোগ, ‘ওই নেতা এসে বলে, ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক।’ পরে আমার ব্যাগ খুলে ক্যামেরাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হয়। তবে ক্যামেরায় নেওয়া ছবিগুলো পরীক্ষা করা হয়নি।’

 

এরপর ফোনটি ফেরত দিলেও তাকে জোর করে কারখানার ভেতরে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট অবরুদ্ধ রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেন, ‘দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাবার কথা ছিল। তবে তিনি আগেই ছাড়া পান।’ এ ঘটনায় অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দফাদার এখন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’, মহল্লাদার হবেন ‘গ্রাম পুলিশ’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
দফাদার এখন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’, মহল্লাদার হবেন ‘গ্রাম পুলিশ’
শেয়ার করুন

ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে সরকার। এখন থেকে ইউনিয়ন পরিষদের ‘দফাদার’ পরিচিত হবেন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ নামে আর ‘মহল্লাদার’ পরিচয় পাবেন ‘গ্রাম পুলিশ’ নামে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দীনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৯৬ ও ৪৮ ধারায় দেয়া ক্ষমতাবলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫-এর সংশোধন করা হয়েছে।

সংশোধনী অনুযায়ী, মূল বিধিমালার সর্বত্র ব্যবহৃত ‘দফাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: রিয়াদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: রিয়াদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল
শেয়ার করুন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাম্মি আহম্মেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার মামলায় আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পিটিআই। আগামী ১০ নভেম্বর মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আদালত সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।

 

সম্প্রতি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) ফিরোজ আহমেদ মুন্সী এই চার্জশিট দাখিল করেন।

 

চার্জশিটের বাকি আসামিরা হলেন- জানে আলম অপু, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন এবং অপর আসামি এক জন শিশু। মামলার ছয় আসামিই এখন জামিনে আছেন।

 

এছাড়াও, এই মামলায় আসামিদের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গুলশান থানায় মামলাটি করেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শাম্মী আহম্মেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর (৭৫)।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদীর গুলশান-২-এর ৮৩ নম্বর সড়কের বাসায় তার স্ত্রী সাবেক এমপি শাম্মি আহম্মেদকে গ্রেপ্তারে পুলিশের সঙ্গে অভিযান চালান আসামিরা। তাকে না পেয়ে পুলিশ চলে যায়। এরপর আবার সেই বাসায় গিয়ে শাম্মির স্বামীকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন আসামিরা।

 

২৬ জুলাই বিকেলে বাকি ৪০ লাখ টাকা আনতে ওই বাসায় যান আসামিদের কয়েকজন। বাদী তৎক্ষণাৎ গুলশান থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আবদুর রাজ্জাক, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন ও কিশোর আমিনুল ইসলামকে আটক করে। পরে গ্রেপ্তার হন জানে আলম অপু।

 

চার্জশিটে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আসামিরা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করতেন।

 

সমন্বয়ক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তারা নিয়মিত থানায় যাতায়াত করতেন। বিভিন্ন মামলার আসামি আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও তাদের অবস্থান–সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে সহযোগিতা করে পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তারা।

 

পরে মামলার আসামিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অগোচরে বিভিন্ন লোকজনকে আওয়ামী লীগের দোসর, সহযোগী বা সমর্থক আখ্যা দেন এবং তাদের মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি ও চাঁদা গ্রহণ করেন।

 

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আসামি আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ চাঁদার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দিতে তিনি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন।

 

বিভিন্ন সময় ‘ফ্যাসিবাদী লোকজনকে’ গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

 

জবানবন্দিতে রিয়াদ বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই রাতে শাম্মী আহমেদ গুলশানের বাসায় আছেন, এমন খবর পেয়ে তারা থানায় যান। পরে পুলিশের একটি দল তাদের সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে শাম্মীকে পাওয়া যায়নি।

 

রিয়াদ আদালতকে বলেন, বাসা থেকে ফেরার সময় জানে আলম অপু একটি ইয়ারপড নিয়ে এসেছিলেন। সেই ইয়ারপডে লেখা ছিল ‘শাম্মি ইয়ারপড’। সেটি ফেরত দেওয়ার জন্য তারা পরে আবার ওই বাসায় যান। অপু পানি খাওয়ার অজুহাতে ভেতরে ঢোকেন।

 

এরপর বাদীকে বলা হয়, তারা বুঝতে পারছেন তার স্ত্রী বাসায় আছেন এবং তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হবে। বাদী টাকা দিতে রাজি হলে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। বাদী ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তারা তাতে রাজি হন। পরে সেই টাকা নিয়ে তারা তার বাসায় গিয়ে সমান ভাগ করে নেন।

 

বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের বিষয়ে রিয়াদ বলেন, ২৬ জুলাই বিকেল ৫টায় তিনি ইব্রাহিম হোসেন, সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাবকে ওই বাসায় পাঠান।

 

তার ভাষ্যমতে, পুলিশ তাকে ফাঁদে ফেলার জন্য বাসায় যেতে বলে। তখন তিনি গোলচত্বরে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের কথা বিশ্বাস করে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বাদী থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে তাদের হাতেনাতে আটক করে।

 

জবানবন্দির শেষে রিয়াদ বলেছেন, ‘আমি গরিবের ছেলে। আমি টাকার লোভ সামলাতে পারিনি। আমি ক্ষমা চাই।’