খুঁজুন
, ,

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ, লোডশেডিং কি কমবে?

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ, লোডশেডিং কি কমবে?
শেয়ার করুন

সারাদেশে লোডশেডিং চলছে। তা রীতিমতো অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। যাদের পরীক্ষা প্রস্তুতি ও পড়াশোনা প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পকারখানার উৎপাদন কমে যাচ্ছে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়ছেন লোকসানে। প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষ, যাদের রুজি-রোজগার সরাসরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল, তারা পড়েছেন গভীর আর্থিক সংকটে।

 

এই সংকট থেকে উত্তরণে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে শহরের বর্জ্য বা ময়লা থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি (ওয়েস্ট-টু-এনার্জি) একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। প্রতিদিন দেশের বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। যার সিংহভাগই যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে খোলা জায়গায় ফেলে রাখা হয় বা পোড়ানো হয়, যা পরিবেশ দূষণেরও কারণ। এই বর্জ্যকে যদি বায়োগ্যাস বা তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়, তাহলে একদিকে জ্বালানি সংকট কিছুটা লাঘব হবে, অন্যদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যারও সমাধান হবে।

আশার কথা, ঢাকাসহ কয়েকটি বড় শহরে এরই মধ্যে এ ধরনের প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তার পরিসর এখনো সীমিত বলে মনে হয়। সরকার যদি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে দেশের প্রতিটি বড় শহর ও পৌরসভায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প সম্প্রসারণ করে, পাশাপাশি রুফটপ সোলারের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বাড়ায়, তাহলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে। এদিকে দেশে প্রথমবারের মতো বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

রাজধানীর আমিনবাজারে চীনা বিনিয়োগে বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৮ সালের আগস্টে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। তবে প্রকল্পের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ২৫ টাকায়। চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রকল্পে সরকার তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ কিনছে।

দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নতুন নয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে নেওয়া এ ধরনের প্রকল্পের কোনোটিই উৎপাদনে যেতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার আমিনবাজার ও মাতুয়াইলের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় সাধারণত ১২-১৪ টাকা এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের গড় ব্যয় ২২-২৪ টাকার মতো।

 

আন্তর্জাতিকভাবে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রকল্পভেদে ভিন্ন হলেও ভারতের সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রকল্পে তা ইউনিটপ্রতি ৬-৮ রুপির মধ্যে; বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮-১১ টাকা। চীনে প্রতি ইউনিট বর্জ্য বিদ্যুৎ সরকার কেনে (বেঞ্চমার্ক ট্যারিফ) শূন্য দশমিক ৬৫ ইউয়ানে, যা ১১-১২ টাকা।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘ট্যারিফ দিয়ে বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা বাদ পড়ে যায়। এখানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মূল বিষয়। বিদ্যুৎ বাইপ্রডাক্ট। তাই দামটা বেশি মনে হলেও পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তুলনা করলে তা সহনীয়। আমিনবাজার প্রকল্পে চীনের সিএমইসি গ্রুপ বিনিয়োগ করবে। প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো রেখে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বহুবছর ধরে শোনা যাচ্ছে। এর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। আমিন বাজারে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ থেকে বোঝা যাচ্ছে, এর বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে। এটি একটি সুসংবাদ। এখন বর্জ্য পরিবেশ দূষণের কারণ হবে না। এটি যে কাজে লাগানো যায় এবং পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখা যায়, তার নজির হচ্ছে এ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

 

বিশ্বের বহু দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর বেশিরভাগই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এক্ষেত্রে চীন এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে। চীন বর্জ্য থেকে প্রতিবছর ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৪৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ৭১ হাজার ৭১৪, জার্মানি ৫৭ হাজার ২০০, যুক্তরাজ্য ৪১ হাজার ৭৯৪ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এছাড়া ব্রাজিল, জাপান, ইটালি, থাইল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইডেনসহ আরও অনেক দেশ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

পার্শ্ববর্তী ভারত উৎপাদন করে ৪৫ হাজার ৭৯৫ গিগাওয়াট। উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশও বহু আগে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উপাদন করছে। আমরাই শুধু পিছিয়ে আছি। অথচ আমাদের বর্জ্যের অভাব নেই। এসব বর্জ্য স্তুপ আকারে ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে, তেমনি নদী-নালা, জলাশয় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ঢাকায় ৩ থেকে ৪ হজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

 

ঢাকার আমিন বাজার বর্জ্য ফেলার প্রধান একটি স্থান। সেখানে গেলে দেখা যায়, বর্জ্য ফেলতে ফেলতে বিশাল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধে সেখানের আশপাশের পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াত করতেও সমস্যা হচ্ছে। রাজধানীর সব বর্জ্য যে সেখানে ফেলা হয়, তা নয়। অন্যান্য স্থানেও ফেলা হয়। অনেক সময় রাজধানীর বর্জ্য সঠিকভাবে পরিস্কার করা হয় না। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশনেরই দায় রয়েছে। নাগরিক অসচেতনতাও রয়েছে। যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ফলে রাজধানীর অনেক এলাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে। এমনকি ব্যস্ততম সড়কের পাশে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ফেলার স্থান করা হয়েছে।

 

সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব বছরের পর বছর ধরে চলছে। এই বর্জ্য কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা অনেক কথা বলেছেন। তাদের কথামতো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্জ্য থেকে শুধু যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, তা নয়, পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাসও উৎপাদন করা যায়। বিশেষ করে খাদ্য ও পশুবর্জ্য থেকে এই গ্যাস উৎপাদন করা যায়।

বিশ্বের বহুদেশে এ গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। আমাদের দেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ। দেশে দিন দিন বিদ্যুৎ সংকট প্রকট হয়ে উঠছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশিরভাগ জ্বালানি নির্ভর হওয়ায় উৎপাদন খরচও বেশি হচ্ছে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে ডলার সংকটে ভুগতে হচ্ছে। এ সংকট সহসা কাটবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ফলে সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

এক্ষেত্রে বর্জ্য একটি উপকরণ হয়ে আছে। বিনাপয়সায় এ বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগালে তাতে বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। দেরিতে হলেও সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে সরকার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা যাতে ঘোষণা কিংবা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। কথার কথায় পরিণত না হয়, এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে লোডশেডিংয়ের এই দুর্ভোগ থেকে জনগণ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় শুধু আমদানি বা জ্বালানি তেলনির্ভরতা না বাড়িয়ে টেকসই ও দেশীয় উৎসে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।