খুঁজুন
, ,

রোহিঙ্গা স্থানান্তর বন্ধ, ভাসানচর প্রকল্প ছিল ‘ভুল সিদ্ধান্ত’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা স্থানান্তর বন্ধ, ভাসানচর প্রকল্প ছিল ‘ভুল সিদ্ধান্ত’
শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা স্থানান্তর বন্ধ, ভাসানচর প্রকল্প ছিল ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয় কিছু রোহিঙ্গা পরিবারকে/সংগৃহীত
কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প এলাকা থেকে রোহিঙ্গাদের একাংশ সরিয়ে বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ ভাসানচরে নেয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। দ্বীপ বাসযোগ্য করতে নেওয়া হয় দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকার প্রকল্প। পরিকল্পনা ছিল প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তর করার।

২০২০ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কার্যক্রম। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে বিগত সরকারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। গত ১৪ মাসে একজন রোহিঙ্গাকেও সেখানে নেওয়া হয়নি। আপাতত আর কোনো রোহিঙ্গা সেখানে নেওয়া হবে না বলেই জানা যায়।

আমরা চাই রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাক। যদি তাদের ভাসানচরে রেখে দিই, তাহলে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে।- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী বিষয়ক সেলের প্রধান মো. নাজমুল আবেদীন

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৭৩১ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে। তবে এদের মধ্যে প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে সেখান থেকে পালিয়ে গেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী বিষয়ক সেলের প্রধান মো. নাজমুল আবেদীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর সম্পূর্ণ বন্ধ। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আর কোনো রোহিঙ্গাকে সেখানে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে রোহিঙ্গারাও কক্সবাজার ছেড়ে ওই দ্বীপে যেতে আগ্রহী নয়।

আপাতত রোহিঙ্গাদের পাঠানো হচ্ছে না। তবে পরবর্তীসময়ে পাঠানো হবে কি না সেটা টাইম টু টাইম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপার।- প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার

স্থানান্তর না করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাক। যদি তাদের ভাসানচরে রেখে দিই, তাহলে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে।’

নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘যারা ইতোমধ্যে ভাসানচরে গেছেন, তাদের জন্য চলমান প্রকল্পগুলো অব্যাহত থাকবে যাতে তারা প্রয়োজনীয় সব সুবিধা পান। দ্বীপ হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা কিছুটা জটিল—এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার পাঠাতেও কষ্ট হয়। তারপরও সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের সব রকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

সরকার বলেছিল রেশন, দোকান, গবাদিপশু বা চাষের জমি দেবে। কিন্তু এককালীন জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা আর সামান্য রেশন ছাড়া কিছুই পাইনি। জরুরি চিকিৎসাও মেলে না।– রোহিঙ্গা নারী নূর কলিমা

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আপাতত রোহিঙ্গাদের পাঠানো হচ্ছে না। তবে পরবর্তীসময়ে পাঠানো হবে কি না সেটা টাইম টু টাইম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপার।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার বিষয়ক অনুবিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অংশীদাররা ভাসানচর প্রকল্পকে সমর্থন করেননি। একটি দ্বীপে শরণার্থীদের সীমাবদ্ধ করে রাখার বিষয়টি নিয়ে তাদের উদ্বেগ ছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এমন সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি।’

আমরা এখানে ভালো আছি। দ্বীপ হলেও বাড়িঘর, বাজার—সব আধুনিকভাবে নির্মিত। সবচেয়ে বড় কথা, এখানে আরসা বা আরএসও’র মতো সংগঠনের হুমকি, চাঁদাবাজি, অপহরণ নেই।-ভাসানচর বাজার কমিটির সভাপতি নূর মোস্তফা

তিনি আরও বলেন, ‘আগের সরকার নীতিগতভাবে একগুঁয়ে ছিল—তারা মনে করেছিল এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভিন্ন কিছু করে দেখাতে পারবে। কিন্তু বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। আগের সরকারের সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা আর রাখতে চায় না।’

তার ভাষায়, ‘বর্তমান সরকারের মতে, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই ভুল সংশোধন করে সঠিক সিদ্ধান্তে ফিরেছে। এখন নতুন করে কাউকে নিতে গেলে বাড়িঘর তৈরি ও অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগ লাগবে। তাই আপাতত নতুন স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে যারা ইতোমধ্যে সেখানে গেছে, তাদের ফেরানোরও কোনো চিন্তা নেই। সরকার তাদের জীবনমান উন্নয়নে মনোযোগী এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থাসহ (ইউএনএইচসিআর) বিভিন্ন সংস্থা সেখানে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’

ভাসানচরের ৮৩ নম্বর ক্লাস্টারে থাকেন রোহিঙ্গা নারী আমিনা খাতুন। দীর্ঘদিন ধরে মাসিকজনিত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ভুগছেন তিনি। সরকারি ২০ শয্যার হাসপাতালে বারবার চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হতে পারেননি।

৯৩ নম্বর ক্লাস্টারে দুই সন্তান ও স্বামীসহ থাকেন নূর কলিমা (২৪)। জন্ডিসে ভুগছেন তিনি। হাসপাতালে গেলে তাকে এক পাতা প্যারাসিটামল দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। নূর কলিমা বলেন, ‘যে রোগেই যাই, শুধু প্যারাসিটামল দেয়। অন্য কোনো ওষুধ তাদের কাছে নেই।’

দুই বছর আগে সরকারের আহ্বানে ভাসানচরে যান নূর কলিমা ও তার স্বামী হারুণ শাহ (২৩)। হাসান শরীফ নামে এক রোহিঙ্গা ২০২০ সালে স্ত্রী ও সাত সন্তান নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন।

নূর কলিমা বলেন, ‘সরকার বলেছিল রেশন, দোকান, গবাদিপশু বা চাষের জমি দেবে। কিন্তু এককালীন জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা আর সামান্য রেশন ছাড়া কিছুই পাইনি। জরুরি চিকিৎসাও মেলে না।’

হাসান শরীফ বলেন, ‘অনেকে সাগরে মাছ ধরে। কখনো ভালো মাছও পায়, কিন্তু বিক্রির জায়গা নেই। স্থানীয়দের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হয়। তাই মাছ ধরার আগ্রহও কমে গেছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘দ্বীপের পানি লবণাক্ত। প্রথম দিকে খাওয়া যেত না, এখন একটু অভ্যস্ত হয়েছি।’

ভাসানচরের বাজার কমিটির সভাপতি ও কাপড় ব্যবসায়ী নূর মোস্তফা বলেন, ‘আমরা এখানে ভালো আছি। দ্বীপ হলেও বাড়িঘর, বাজার—সব আধুনিকভাবে নির্মিত। সবচেয়ে বড় কথা, এখানে আরসা বা আরএসও’র মতো সংগঠনের হুমকি, চাঁদাবাজি, অপহরণ নেই। কক্সবাজারের ক্যাম্পে এসবের কারণে সাধারণ রোহিঙ্গাদের জীবন অতিষ্ঠ ছিল। অন্তত এখানে সেই যন্ত্রণা নেই।’

ভাসানচরে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখনো সেখানে লজিস্টিক ও অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সরকারের ফান্ড কমতে শুরু করে। এমনকি রাস্তার বাতি নষ্ট হলেও মেরামতের দায়িত্ব নিতে হয় নৌবাহিনীকে। যুক্তরাষ্ট্র ভাসানচরের জন্য কোনো অর্থায়ন করে না, আর অধিকাংশ দেশই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—ভাসানচরের জন্য কোনো অর্থ পাঠানো যাবে না।’

ভাসানচর ক্যাম্প নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত। সেখানে পৌঁছাতে হয় চট্টগ্রাম হয়ে সমুদ্রপথে। বঙ্গোপসাগরের উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে হাতিয়া উপজেলার কাছে দ্বীপটি অবস্থিত। প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার ১২০টি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করেছিল।

শ্যালকের অ্যাকাউন্টে লেনদেন করেন সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
শ্যালকের অ্যাকাউন্টে লেনদেন করেন সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল
শেয়ার করুন

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১১ শত কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। সংস্থাটি বলছে, দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ সম্পদের তথ্য গোপন করতে শ্যালকের ব্যাংক হিসাবে এসব সম্পদ জমা করেন। এ ঘটনায় মনিরুল, তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা ও শ্যালকসহ চারজনকে আসামি করে দুটি মামলা করেছে দুদক।

 

আওয়ামী শাসনামলজুড়ে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম। ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়ে পালানো এই কর্মকর্তার দুর্নীতি অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিপুল সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তার শ্যালক রেজাউল করিম শাহীনের ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার ৪৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য পায় সংস্থাটি। এছাড়া ২৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ মিললেও কোনো আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি শ্যালক শাহীন।

দুদকের উপ-পরিচালক মোজাম্মিল হোসেন জানান, মনিরুল ও তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা তাদের সম্পদ গোপন করতে শ্যালককে হস্তান্তর করেন। সিপাহী বাবা শাহীনকে ২৫ কোটি টাকা দান করেছেন দেখানো হয়েছে, যার কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।

একইভাবে মনিরুলের শ্যালক শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার হিসাবেও দুদক খুঁজে পেয়েছে ৫৮ কোটি টাকার বেশি মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য। এছাড়া অবৈধ সম্পদ পেয়েছে ১৫ কোটি টাকার বেশি।

এদিকে, সাবেক এই এসবি প্রধান মনিরুলের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি এনজিওতে অর্থ পাচার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলেও জানায় দুদক।

বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা
শেয়ার করুন

নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের কথা বললেও অন্যদের বেলায় জামায়াতে ইসলামী সেই নীতি অনুসরণ করতে চায় না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। পিরোজপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেছেন, বিরোধী দলে থাকতেই যারা একজন মানুষকে নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দেন, রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে পেলে তারা কী করবেন?

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তাসনিম জারা জানান, গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। তিনি সরকারি গেজেটভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবে তার দাফন ঘিরে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাসনিম জারা লেখেন, ‘আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে কবর খুঁড়তে কাউকে ডেকে আনতে হয় না। খবর পেয়ে পাড়ার ছেলেরা কোদাল হাতে নিজেরাই চলে আসে। কেউ বাঁশ কেটে আনে, কেউ চাটাই। মৃত মানুষের দাফনে দেরি করতে নেই, এটা শুনেই বড় হয়েছি।’

 

তিনি অভিযোগ করেন, মানিক পশারীর মৃত্যুর পর স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন এবং মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দেন, তাকে পিরোজপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এতে মরদেহ নিয়ে দিনভর উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে হয় পরিবারকে।

 

মৃতের মেয়ে সীমু আক্তারের বক্তব্য তুলে ধরে তাসনিম জারা জানান, বাড়িতে প্রথমে একটি কবর খোঁড়া হলেও কয়েকজন এসে তা ভরাট করে দেন। পরে সীমু আক্তার তার ফুফুদের নিয়ে নতুন করে কবর খোঁড়েন। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অন্য কেউ কবর খুঁড়তে এগিয়ে আসেননি।

 

তিনি লেখেন, ‘যে কোদাল পাড়ার ছেলেদের হাতে থাকার কথা, সেদিন তা ছিল মৃত ব্যক্তির মেয়ে আর বোনেদের হাতে।’

 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতের পর পুলিশ পাহারায় পরিবারের সদস্যদের খোঁড়া কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়া পরিবারের বাইরের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

 

পোস্টে তাসনিম জারা আরও উল্লেখ করেন, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তাকে গার্ড অব অনার ও পিরোজপুরে দাফন করতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন। অথচ দাফনের পর একই নেতা দাবি করেন, জামায়াতের নেতারা লাশের রাজনীতি করেন না।

 

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, কোনো ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের নিষ্পত্তি দাফন আটকে দিয়ে কিংবা মাইকে ঘোষণা দিয়ে করা যায় না।

 

তিনি লেখেন, ‘মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, সেই প্রশ্ন আপনি চাইলে তুলতে পারেন। তোলার জায়গাও আছে। যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান আছে, আদালত আছে।’

 

মৃত ব্যক্তির প্রতি সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণত জানাজার আগে মৃতের পরিবারের সদস্যরা তার ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু পিরোজপুরের ঘটনায় সেই সুযোগও পায়নি মানিক পশারীর পরিবার। এমনকি নিজের গ্রামে তার জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

জামায়াতের ভূমিকার সমালোচনা করে তাসনিম জারা লেখেন, ‘পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না’ এই কথাটা ওনারা এমনভাবে বলেন, যেন এই মাটির দলিল ওনাদের নামে লেখা। যেন একজন মানুষ নিজের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে শুয়ে থাকবেন কি না, সেই অনুমতিও তাদের কাছ থেকে নিতে হবে।’

 

একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় দল হিসেবে জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। অথচ এখন সেই দলের নেতাকর্মীরাই কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন কিংবা কার কবর কোথায় হবে, তা নির্ধারণ করতে চাইছেন।

 

তাসনিম জারা আরও বলেন, একসময় জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশেও দেশ ছাড়ার স্লোগান দেওয়া হতো। এমন বক্তব্য কতটা অন্যায়, তা তাদের বোঝার কথা। কিন্তু বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেই তারা সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

পোস্টের শেষাংশে জামায়াতের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাসনিম জারা লেখেন, ‘নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে জামায়াত ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, ডিউ প্রোসেস আর মানবিক মর্যাদার কথা বলেন। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে সেটা করতে নারাজ।’

 

তিনি আরও লেখেন, ‘ভোটের আগে আর বক্তৃতায় ইনসাফের কথা বলেন। কিন্তু একজন মৃত মানুষের সঙ্গে ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। বিরোধীদলে থাকতেই নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ওনাদের হাতে গেলে কী করবেন?’

 

তবে তাসনিম জারার এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাদের কোনো নতুন বক্তব্য ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।

এইচএসসির ফল প্রকাশের দুই দিন আগে ঢাকা বোর্ডের সচিবকে ‍কুমিল্লায় বদলি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের দুই দিন আগে ঢাকা বোর্ডের সচিবকে ‍কুমিল্লায় বদলি
শেয়ার করুন

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে নতুন সচিব পদে নিযুক্ত হন অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার। তিনি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ পদে কর্মরত ছিলেন। ১৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছিল, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারকে বোর্ডটির সচিব পদে নিযুক্ত করা হয়।