খুঁজুন
, ,

সামান্য এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কেউই

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
সামান্য এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কেউই
শেয়ার করুন

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে (এক্সিট পোল) গভীর রাতে নাটকীয় মোড় এসেছে।

ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বিরোধী জোট এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া যায়। তবে পরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট অল্প ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

চ্যানেল টুয়েলভের বরাতে আল জাজিরার খবরে জানা যায়, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫২ আসনে এগিয়ে আছে। আর সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯ আসনে এগিয়ে আছে। আরব লিস্ট এগিয়ে আছে ১৯ আসনে।

এর ফলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) নিশ্চিত করতে পারছে না।

আরব দলগুলো যেহেতু নেতানিয়াহুর সম্পূর্ণ বিরোধী, তাই লিকুদের আসন বাড়লেও নেতানিয়াহুর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ৬১ আসনে পৌঁছানো এখনও অসম্ভব। ঠিক একইভাবে আরব দলগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া আইজেনকোটের পক্ষেও জোট গড়া সহজ নয়।

তবে ইসরায়েলের প্রধান সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান ইলেভেন এবং চ্যানেল থার্টিনের খবরে জানা যায়, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী শিবির এবং আইজেনকোটের বিরোধী শিবির—উভয় পক্ষই ৫১টি আসনে জিতেছে।

নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি আগের অনুমানের চেয়ে আসন বাড়িয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ ২৭টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের দল ‘ইয়াশার’ পাচ্ছে ২১টি আসন। এর ফলে একক দল হিসেবে পার্লামেন্টে লিকুদের বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা নিশ্চিত হয়েছে।

এদিকে কান ইলেভেনের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি দুটি আসন বাড়িয়ে ২৭টিতে পৌঁছালেও তাদের মিত্র উগ্র ডানপন্থী ওতজমা ইয়েহুদিত একটি আসন হারিয়ে ৬টিতে নেমেছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বামপন্থী ডেমোক্র্যাট দল একটি আসন হারিয়ে ৯টিতে নেমে এসেছে।

লিকুদের প্রধান কার্যালয়ে উল্লাস

জরিপের এই নতুন ফলের পর জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির প্রধান কার্যালয়ে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। দলীয় কার্যালয়ে একে একে শীর্ষ নেতারা আসতে শুরু করলে কর্মীরা নেচে-গেয়ে এবং ব্যালট পেপার শূন্যে উড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।

জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আমিচাই চিকলি কার্যালয়ে ঢুকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও করমর্দন করেন।

নেতানিয়াহুকে রাজনীতি ছাড়ার আহ্বান আইজেনকোটের

ফল ঘোষণার পর নিজের দলীয় কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন বিরোধী জোটের নেতা ও ইয়াশার দলের প্রধান গাদি আইজেনকোট। তিনি জনগণকে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং নেতানিয়াহুর ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।’

আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে মানুষের অনাস্থা মেনে নিয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার আহ্বান জানান।

আইজেনকোট ঘোষণা দেন, তিনি সবাইকে নিয়ে একটি দায়িত্বশীল জায়োনিস্ট সরকার গঠন করতে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তাঁর সরকার সবার জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করবে এবং হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল করতে কাজ করবে। একই সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা প্রধানদের উদ্দেশে তিনি কোনো ব্যক্তির স্বার্থে নয়, বরং শুধুমাত্র রাষ্ট্র ও নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘মিথ্যা ও ব্যর্থতার যুগ এবার শেষ হয়েছে।’

অচলাবস্থার অবসান ঘটেনি

দুই প্রধান নেতাই এখন নিজেকে বিজয়ী দাবি করে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট চাইবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে দেশটিকে আবারও নতুন নির্বাচনের দিকেই এগিয়ে যেতে হবে।

 

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, রয়টার্স, আল–জাজিরা

অভিযোগ— মাদ্রাসায় জিপিএ-৫ বেশি পায়, আমি বললাম আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার পরীক্ষা একই প্রশ্নে হবে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
অভিযোগ— মাদ্রাসায় জিপিএ-৫ বেশি পায়, আমি বললাম আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার পরীক্ষা একই প্রশ্নে হবে
শেয়ার করুন

মাদ্রাসায় জিপিএ-৫ বেশি পাওয়ার অভিযোগের কারণ অনুসন্ধানেই আগামীতে স্কুল ও মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষায় একই প্রশ্নপত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন,‘মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ পাওয়া যায়। সকলে আমাকে বলল, এটার কী ব্যবস্থা করা যায়? আমি বললাম, আগামী দিন থেকে মাদ্রাসা ও স্কুল একই প্রশ্ন হবে। নাকি আলাদা হবে? কেন? আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা ইউনিভার্সিটিসহ সব জায়গায় ভর্তি হয় একই সাবজেক্টে, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই এরপর থেকে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় আগামীতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তারপরে দেখব মাদ্রাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়, তারপর এক্সামিন করব।’

 

জিডি করেও বাঁচতে পারেনি ছাত্রদল নেতা, প্রত্যাহার থানার ওসি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
জিডি করেও বাঁচতে পারেনি ছাত্রদল নেতা, প্রত্যাহার থানার ওসি
শেয়ার করুন

নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গুরুদাসপুর থানার ওসি আবদুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওসি আবদুল হান্নানকে জনস্বার্থে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিআইজির কার্যালয়ে যোগদানের জন্য আদেশ জারির দিনই তাকে গুরুদাসপুর থানা থেকে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩২)। হেলমেট পরা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন শাকিলের বাবা। তবে সোমবার পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

 

এদিকে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে ঢাকার পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শাকিলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাতে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

 

এদিকে শাকিল হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে মঙ্গলবার বিকালে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। একই দিন মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল।

 

স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, মিন্টুর সঙ্গে প্রবাসী রাসেলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। শাকিল হত্যাকাণ্ডে মিন্টুর পাশাপাশি রাসেলেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এমন সন্দেহ থেকে জানাজায় অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, ১৪ অক্টোবর তার ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন তিনি। তার অভিযোগ, সংসদ সদস্যের নির্দেশে প্রথমে মামলার এজাহারে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পরে তা বাদ দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের ছেলে মিন্টুকে গ্রেফতার করা হলেও অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

 

নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে জিডি করেছিলেন শাকিল

 

গত ২০ এপ্রিল নিজের ফেসবুক আইডিতে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে একটি পোস্ট দেন শাকিল। সেখানে তিনি লেখেন, আমি আমার জীবন নিয়ে সংশয়ে আছি খুবই। আমাকে মারার জন্য এক বড় ভাই বিভিন্ন চক্র ও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করতেছে। যারা আমাকে মারতে পারবে, তাদের নাকি অনেকগুলো টাকা দেওয়া হবে। এই বিষয়ে আমি ওসির সঙ্গে কথা বলে থানায় একটা ডাইরি (সাধারণ ডায়েরি) করেছি এবং তাদের নাম উল্লেখ করা আছে। আমার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে এই ডায়েরি (জিডি) অনুযায়ী মামলা করে দেবেন।

 

শাকিলের ওই পোস্টের বিষয়ে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে শাকিল হত্যা মামলার তদন্ত চলছে।

 

শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, হুমকি পাওয়ার পর তার ছেলে থানায় জিডি করেছিলেন। এরপরও পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের পরও অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। ছেলের হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন রবিউল ইসলাম।

 

এ বিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখারের আলম বলেন, গুরুদাসপুর থানার ওসি আবদুল হান্নানকে জনস্বার্থে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ডিএনসিসির টেন্ডারনামা

জুলাই হত্যা মামলার আসামি পাঁচ আ.লীগ নেতাকে ৮০৫ কোটির কাজ দিল ডিএনসিসি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
জুলাই হত্যা মামলার আসামি পাঁচ আ.লীগ নেতাকে ৮০৫ কোটির কাজ দিল ডিএনসিসি
শেয়ার করুন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন যুবলীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাই। সাত মাসের মাথায় জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে যান। সেখান থেকে যান নেপালে। পরে দেশে ফিরে সক্রিয় হন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিংয়ে। ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলিস্তান থেকে গ্রেপ্তার হন। মুগদা থানায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার এই আসামি এখন ডিএনসিসির সবচেয়ে বড় ঠিকাদার। আবদুল হাইসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ৮০৫ কোটি টাকার কাজ দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৫ অক্টোবর। এই এক বছর তিন মাসে ২ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ দিয়েছে ডিএনসিসি। এই সময়ে কাজ পাওয়া ১৯৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৫টির হাতে গেছে মোট কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ।

 

আবদুল হাইয়ের মতো আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট অন্য ঠিকাদাররাও ডিএনসিসির বড় অঙ্কের কাজ পেয়েছেন। শুধু পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার ছয় প্রতিষ্ঠানকেই দেওয়া হয়েছে ৮০৫ কোটি টাকার কাজ। এটি একই সময়ে দেওয়া মোট কাজের প্রায় ২৯ শতাংশ।

 

পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার ছয় প্রতিষ্ঠান

 

ডিএনসিসির কাজ পাওয়া পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো মাইশা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, এইচ এম হেলাল অ্যান্ড কোং লিমিটেড, আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড, এম এস আলিফ ট্রেডার্স, ইউটোফিয়া কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও জনি এন্টারপ্রাইজ। এর সবকটির মালিকদের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে।

 

আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে মুগদা থানায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে। এ ছাড়া পল্টন মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুটি মামলা আছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুলিস্তান ও পল্টন এলাকায় মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া এবং অর্থ জোগানোর অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় এই দুই মামলা হয়।

 

মুগদা থানার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও সেটি গোপন করে পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিনে মুক্তি পান আবদুল হাই। তার প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এখন ডিএনসিসির বড় ঠিকাদার।

 

আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচারের একই ঠিকানায় রয়েছে এম এস আলিফ ট্রেডার্স। কাগজে-কলমে দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক আলাদা। এম এস আলিফ ট্রেডার্সের লাইসেন্স আবদুল হাইয়ের ভাতিজা এবং অফিসের কর্মচারী আবু বক্কর সিদ্দিকের নামে। ওই লাইসেন্স ব্যবহার করে এবং আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মাধ্যমে একক ও যৌথভাবে কাজ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে গত ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এভাবে ডিএনসিসি থেকে ৫৭টি দরপত্রে ৩০২ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে তারা।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, নয়াপল্টনের ইনার সার্কুলার রোডের ৫০/১ নম্বর রিজ আহমেদ স্কয়ারের ১১ তলায় একই ফ্লোরে চারটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। এগুলো হলো আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড, এম এস আলিফ ট্রেডার্স, জান্নাত ট্রেডার্স এবং ওয়াই এন্ড এস ট্রেডিং। সবকটির লাইসেন্স নেওয়া হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে।

 

এম এস আলিফ ট্রেডার্সের স্বত্বধিকারী মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিকি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমি চাচার কোম্পানিতে স্টাফ হিসেবে আছি। এম এস আলিফ ট্রেডার্সের লাইসেন্স আমার নামে করা। বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানও আমাদের নামে।’

 

একই ঠিকানায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়ে কথা হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আতাহার আলী খানের সঙ্গে। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘একই ভবনের একই ফ্লোর ব্যবহার করে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেওয়া অনৈতিক। করপোরেশন থেকে এ ধরনের লাইসেন্স দেওয়া হয় না। এটি খতিয়ে দেখতে হবে যে তারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একই ঠিকানায় একাধিক লাইসেন্স নিয়েছে কি না। এমন হয়ে থাকলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের পর আবদুল হাই ভারত ও নেপালে পলাতক ছিলেন। পরে দেশে ফিরে সরকারবিরোধী নানা তৎপরতা শুরু করেন।

 

মাইশা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মালিক মোহাম্মদ পারভেজ কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। মিরপুর মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে।

 

এইচ এম হেলাল অ্যান্ড কোং লিমিটেডের মালিক এইচ এম হেলাল। তিনি ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানের ছোট ভাই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তাদের পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উত্তরা পশ্চিম থানায় হেলালের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়। এজাহারে তাকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ঠ পাগলা মিজান। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী ও আসাদগেট এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগ আছে তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। তখন আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহকারী হিসেবে পাগলা মিজানের নাম সামনে আসে। হেলালের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলে পাগলা মিজানের প্রভাবে ডিএনসিসি ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে একচেটিয়া টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

জনি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দিলীপ কুমার ঘোষ। ভাটারা থানায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার এজাহারে তাকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দিলীপ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্তের ব্যবসায়িক অংশীদার।

 

ইউটোফিয়া কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ৬০ ভাগ শেয়ারের মালিক ফরিদ আহমেদ ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। বাকি ৪০ ভাগ স্ত্রী রামেহা আহমেদ রোজা নামে দিয়ে তাকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে রাখা হয়েছে। ফরিদের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে।

 

২ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার কাজ

 

ই-জিপির তথ্য ও এশিয়া পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে গত ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডিএনসিসিতে ৫৬৮টি কার্যাদেশ হয়েছে। এসব কাজের মোট মূল্য ২ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫২৫টি দরপত্রে ২ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকার কাজ হয়েছে উন্মুক্ত দরপদ্ধতিতে (ওটিএম)।

 

সীমিত দরপদ্ধতিতে (এলটিএম) হয়েছে ৬৪ লাখ টাকার একটি কাজ। এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সিঙ্গেল সোর্স ও আরএফকিউ (কোটেশন চেয়ে কাজ দেওয়ার পদ্ধতি) পদ্ধতিতে ৪২টি কাজ হয়েছে ২০ কোটি ৪৮ লাখ টাকায়।

 

এসব দরপত্রে কাজ করেছে ১৯৩টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১০৪টি প্রতিষ্ঠান একটি করে কাজ পেয়েছে। একাধিক কাজ করেছে ৮৯টি। তাদের মধ্যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান ২৪০টি দরপত্রে ১ হাজার ৯১০ কোটি টাকার কাজ করেছে। এটি মোট কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ আওয়ামী লীগ নেতাদের বা তাদের ঘনিষ্ঠদের প্রতিষ্ঠান।

 

এশিয়া পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এক বছর তিন মাসে ডিএনসিসিতে এইচ এম হেলাল অ্যান্ড কোং লিমিটেড ২৪টি দরপত্রে ১৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার কাজ করেছে। মাইশা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ১৩টি দরপত্রে ১৫৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার কাজ করেছে। আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড করেছে ১২৮ কোটি ১১ লাখ টাকার কাজ।

 

আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এবং এম এস আলিফ ট্রেডার্স যৌথভাবে ১৪টি দরপত্রে ১৩৮ কোটি ১১ লাখ টাকার কাজ করেছে। এম এস আলিফ ট্রেডার্স এককভাবে ১৯টি দরপত্রে করেছে ৩৬ কোটি টাকার কাজ। দুই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা নয়াপল্টনের ইনার সার্কুলার রোডের ৫০/১ রিজ আহমেদ স্কয়ারের ১১ তলা।

 

জনি এন্টারপ্রাইজ চারটি দরপত্রে ৯৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং আটটি দরপত্রে ১০৬ কোটি টাকার, জামান কনসোর্টিয়াম ১১টি দরপত্রে ৯৮ কোটি ২৫ লাখ টাকার এবং এমআর এন্টারপ্রাইজ পাঁচটি দরপত্রে ৮৪ কোটি ১১ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে জামান কনসোর্টিয়ামের মালিক মো. কামরুজ্জামান ভূঁইয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।