প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জাতীয় বিতর্ক উৎসবের সমাপ্তি:
চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, মহসীন কলেজ ও ইস্পাহানী স্মৃতি বিদ্যালয়
তিন দিনব্যাপী ‘দ্বাদশ পিইউডিএস জাতীয় বিতর্ক উৎসব ২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (পিইউডিএস) আয়োজিত এ উৎসবে আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় এই তিন বিভাগে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিতার্কিকরা অংশ নেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে তিনটি বিভাগের ফাইনাল বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃকলেজ বিভাগের ফাইনালে বিতর্কের বিষয় ছিল এই সংসদ মনে করে, চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নের জন্য পাহাড় ও পরিবেশ সংরক্ষণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি দল যুক্তি দেয়, পাহাড় ও পরিবেশ ধ্বংস হলে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করবে। অন্যদিকে বিরোধী দল দাবি করে, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অপরিহার্য; তবে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ একসঙ্গে নিশ্চিত করা সম্ভব।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, প্রক্টর মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী এবং দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক মাসুদ বকুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিইউডিএসের চিফ মডারেটর জুলিয়া পারভীন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পিইউডিএসের মডারেটর সঞ্জয় বিশ্বাস, হিল্লোল সাহা, সাইফুদ্দিন মুন্না ও নিলুফার সুলতানা। স্বাগত বক্তব্য দেন পিইউডিএস সভাপতি ফজল আল মাহমুদ অয়ন ও সাধারণ সম্পাদক সিফাত নূর চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাবের শাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির বলেন, বিতর্ক কেবল প্রতিযোগিতা নয়; এটি যুক্তিবোধ, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের তথ্য ও যুক্তিনির্ভর চিন্তাশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ ইফতেখার মনির বলেন, জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
মাসুদ বকুল বলেন, যুক্তিচর্চা একটি আলোকিত সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। তরুণদের মধ্যে বিতর্কচর্চা যত বিস্তৃত হবে, তারা তত বেশি তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জুলিয়া পারভীন বলেন, জাতীয় পর্যায়ে যুক্তিচর্চা বিস্তারে পিইউডিএস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রতিযোগিতার ফলাফলে ষষ্ঠ আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় মির্জা আহমেদ ইস্পাহানী স্মৃতি বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয় সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। প্রতিযোগিতার সেরা বক্তা নির্বাচিত হন ডাঃ খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অমৃতা সিংহ এবং ফাইনালের সেরা বক্তা হন সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাদমান সারার।
ষষ্ঠ আন্তঃকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম এবং রানার্সআপ হয় চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ। প্রতিযোগিতা ও ফাইনালের সেরা বক্তা নির্বাচিত হন সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজের নুহা আলম।
দ্বাদশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (সিইউডিএস) এবং রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)। প্রতিযোগিতার সেরা বক্তা নির্বাচিত হন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ফারদিন আলাদিন এবং ফাইনালের সেরা বক্তা হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্নব মিত্র।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও বিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ জাতীয় বিতর্ক উৎসব যুক্তি, মেধা, নেতৃত্ব ও সুস্থ চিন্তাচর্চার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

আপনার মতামত লিখুন