খুঁজুন
, ,

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কান্নার রোল, পাঁচ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কান্নার রোল, পাঁচ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল
শেয়ার করুন

এক মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন আবুধাবি প্রবাসী নোয়াখালীর তাহের হোসেন। ৮ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি লন্ড্রি দোকানে কাজ করেন তিনি। ২ বছর পর স্ত্রী-সন্তান আর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে রুটি-রুজির তাগিদে পুনরায় ফিরছিলেন কর্মস্থলে। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পৌঁছান আবুধাবি বিমানবন্দরে। সে দেশের ইমিগ্রেশন পার হতে গিয়েই আকাশ ভেঙে পড়ে তাহেরের মাথায়। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার (তাহের) ভিসা বাতিল হয়ে গেছে। ফলে তার প্রবেশের অনুমতি নেই। ফিরতে হবে বাংলাদেশেই। এমন খবরে বিমানবন্দরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তাহের। চোখের সামনে ভেসে ওঠে পরিবারের মুখ, ঋণের বোঝা, আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। শেষপর্যন্ত অনিশ্চয়তা আর হতাশা সঙ্গী করে শুক্রবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আবার ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি।

তাহের হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ২ বছর পর পরিবারের সঙ্গে ১ মাস কাটিয়ে কাজে ফিরছিলাম। আবুধাবিতে নেমে জানতে পারি আমার ভিসা বাতিল। মনে হলো সব শেষ হয়ে গেছে। বিমানবন্দরেই বসে পড়ি। এখন কীভাবে সংসার চলবে, কেমন করে ঋণ শোধ করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

এমন ঘটনা শুধু তাহের হোসেনের একার নয়। হঠাৎ ভিসা বাতিলের আতঙ্কে দিন কাটছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রায় ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিকের। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্রমবাজারে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অনেকের কর্মভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। এমন ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ছুটিতে দেশে এসে অনেক প্রবাসী কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশে বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারছেন, তাদের ভিসা কার্যকর নেই। তাহেরের মতো অনেকে আমিরাতের বিমানবন্দরে নেমে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় জানছেন, তাদের ভিসা বাতিল হয়ে গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও অনেকের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। এমন বাস্তবতায় ভিসা বাতিলের আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই তড়িঘড়ি করে কর্মস্থলে ফিরতে চাইছেন অনেক প্রবাসী। কিন্তু সেই সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। প্রবাসীদের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একমুখী বিমান টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে কোথাও কোথাও প্রায় এক লাখ টাকায় পৌঁছে গেছে। ফলে ভিসা হারানো বা বাতিলের আশঙ্কার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া দিতে গিয়েও আর্থিক হয়রানির মুখে পড়ছেন তারা।

এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। পাকিস্তান, নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একই ধরনের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। ঠিক কী কারণে এটি হচ্ছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। আশা করি খুব শিগগিরই এর কারণ জানতে পারব। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফিরলে কূটনৈতিক চ্যানেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ২২ জুলাই থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। দেশে এখন বেশ কয়েক হাজার প্রবাসী শ্রমিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ফিরতে চান এমন প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক প্রবাসী অনলাইনে তাদের ‘স্ট্যাটাস’ যাচাই করে দেখেছেন, তাদের ভিসা ‘ক্যানসেল’ দেখাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই বাংলাদেশ দূতাবাসে ধরনা দিচ্ছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ভিসা বাতিলের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়ায় ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ হয়নি। কেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হচ্ছে, সে কারণও স্পষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসীরা। তারা বলছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও কোনো সুস্পষ্ট তথ্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রবাসী শওকত আলী মীরন যুগান্তরকে বলেন, আগামী সপ্তাহে ছুটিতে বাংলাদেশে যাওয়ার কথা। সে অনুযায়ী আগেই বিমান টিকিট কেটে রেখেছি। কিন্তু এখন শুনছি দেশে গেলে নাকি ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে। কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না। একদিকে ভিসা হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে কষ্টার্জিত টাকায় কেনা টিকিটও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা। গত ২ দিন ধরে দূতাবাসে যোগাযোগের চেষ্টা করছি, কিন্তু কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছি না। কেউ কোনো তথ্য বা দিকনির্দেশনাও দিচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধানে দূতাবাস কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ প্রবাসীর আবেদনের তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সেগুলোও পর্যায়ক্রমে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

ভিসা বাতিলের শঙ্কায় নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে কর্মস্থলে ফিরতে চাইলেও নতুন বিপদ তাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। একমুখী (ওয়ানওয়ে) বিমান টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে এয়ারলাইন্সগুলো। আগে যে টিকিট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন একই টিকিটের দাম বেড়ে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকারও বেশি হয়েছে।

ভিসা বাতিল হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহপ্রবাসী এসএম করিম। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে দেশে এসেছিলেন তিনি। সাধারণ প্রবাসীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে জরুরি ভিত্তিতে কর্মস্থলে ফিরতে চাইলেও উচ্চমূল্যের বিমান টিকিটের কারণে ফিরতে পারছেন না।

এসএম করিম যুগান্তরকে বলেন, টিকিটের জন্য পরিচিত এক ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। কয়েকদিন আগেও যে টিকিট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন একই টিকিটের জন্য ৯৫ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। যে টাকা নিয়ে এসেছি খরচ করে ফেলেছি। এখন কিভাবে টিকিট কাটব বুঝতে পারছি না।

ভিসা বাতিলের ঘটনায় আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস সোমবার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে জানায়, এটি কারিগরি ত্রুটি নাকি অন্য কোনো বিশেষ কারণে ঘটছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়া প্রবাসীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কোনো ব্যক্তি, দালাল বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যেন আর্থিক লেনদেন না করা হয়। দূতাবাস আরও জানিয়েছে, ভিসাসংক্রান্ত যে কোনো জটিলতায় প্রবাসীদের সরকারি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।