খুঁজুন
, ,

‘টেসলার’ চার্জেই যাচ্ছে দেশের ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ!

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
‘টেসলার’ চার্জেই যাচ্ছে দেশের ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ!
শেয়ার করুন

গত ৯ আগস্ট দেশের ইতিহাসে সব রেকর্ড ভেঙে লোডশেডিং ছাড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। প্রচণ্ড গরমে গ্রামের পর গ্রাম অন্ধকার, চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। তবে এই তীব্র সংকটের মাঝেও রাত ১২টা বাজলেই এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটে দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডে। যেখানে মধ্যরাতে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ ব্যবহার কমার কথা ১ থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট, সেখানে গ্রিডের ওপর হঠাৎ তৈরি হয় এক বিশাল অদৃশ্য চাপ।কোথায় যাচ্ছে এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ? অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিদিন গ্রাস করছে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা বা অটোরিকশা—যা স্থানীয়ভাবে ‘টেসলা’ নামেও পরিচিত। মূল মিটার বাইপাস করে অবৈধ লাইনে চার্জ দেওয়ার কারণে এই খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ কীভাবে গায়েব হচ্ছে?

যেভাবে হচ্ছে বিদ্যুৎ চুরি

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মফস্বল ও অলিতে-গলিতে এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা চললেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শিথিলতার সুযোগে এসব বাহনের সংখ্যা রাতারাতি বৃদ্ধি পায় এবং একপর্যায়ে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলোতেও উঠে আসে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মতে, দেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০ লাখ। তবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য বলছে, এই সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। এর মধ্যে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই চলছে প্রায় ২০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা।

গত ৯ আগস্ট দেশের ইতিহাসে সব রেকর্ড ভেঙে লোডশেডিং ছাড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। প্রচণ্ড গরমে গ্রামের পর গ্রাম অন্ধকার, চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। তবে এই তীব্র সংকটের মাঝেও রাত ১২টা বাজলেই এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটে দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডে। যেখানে মধ্যরাতে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ ব্যবহার কমার কথা ১ থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট, সেখানে গ্রিডের ওপর হঠাৎ তৈরি হয় এক বিশাল অদৃশ্য চাপ।

‎কোথায় যাচ্ছে এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ? অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিদিন গ্রাস করছে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা বা অটোরিকশা—যা স্থানীয়ভাবে ‘টেসলা’ নামেও পরিচিত। মূল মিটার বাইপাস করে অবৈধ লাইনে চার্জ দেওয়ার কারণে এই খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ কীভাবে গায়েব হচ্ছে?

যে ভাবে চুরি হচ্ছে বিদুৎ

‎গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মফস্বল ও অলিতে-গলিতে এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা চললেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শিথিলতার সুযোগে এসব বাহনের সংখ্যা রাতারাতি বৃদ্ধি পায় এবং একপর্যায়ে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলোতেও উঠে আসে।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মতে, দেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০ লাখ। তবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য বলছে, এই সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। এর মধ্যে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই চলছে প্রায় ২০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা।

‎এসব অটোরিকশার একেকটিতে থাকে ৪ থেকে ৬টি ১২-ভোল্টের ব্যাটারি, যেগুলো চার্জ দিতে ১ ঘণ্টায় প্রয়োজন হয় প্রায় ১ হাজার ১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ। অর্থাৎ, ৮ ঘণ্টা চার্জে থাকলে একেকটি রিকশায় খরচ হয় প্রায় ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ।

‎সিপিডির গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে শুধু এই রিকশা চার্জ করার পেছনে। কিন্তু বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধভাবে অনিয়ন্ত্রিত সংযোগ নেওয়ার কারণে এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের কোনো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। শুধু রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলেই এভাবে অবৈধভাবে চার্জ দেওয়া অটোরিকশার সংখ্যা কয়েক হাজার।

‎২১ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম

অবৈধ সংযোগের কারণে সরকার একদিকে বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে এই খাতের পেছনের অবৈধ লেনদেনের আকার দাঁড়িয়েছে বছরে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকায়। সিপিডির তথ্যমতে, রাজধানীজুড়ে থাকা ২০ লাখ অটোরিকশার প্রতিটি থেকে গ্যারেজ ভাড়া ও চার্জ বাবদ দিনে গড়ে আদায় করা হয় ১০০ টাকা। এতে কেবল ঢাকাতেই দিনে লেনদেন হয় ২০ কোটি টাকা, যা বছরে গিয়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকায়। সেই হিসাবে পুরো দেশে গ্যারেজকেন্দ্রিক এই অবৈধ লেনদেনের পরিমাণ বছরে ২১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।

‎তাহলে প্রশ্ন ওঠে, রোড পারমিটবিহীন এসব রিকশায় অবৈধভাবে চার্জ দেওয়ার এই প্রক্রিয়া মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে কীভাবে চলছে? অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর মূলে রয়েছে অবৈধ লাইনম্যান ও স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। রিকশাগুলো অবৈধ হওয়ায় চালকদের ঘাটে ঘাটে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়, যা ওই সিন্ডিকেটের জন্য এক বিশাল আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।

‎বুয়েটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অবৈধ হলেও চালকেরা চাঁদা দিয়েই সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন। ঘাটে ঘাটে বিশাল এক অর্থনীতি জড়িয়ে আছে। তাই এই খাত নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সরকারকে অত্যন্ত কৌশলী হতে হবে।’

কর্মসংস্থান বনাম দুর্ঘটনার ঝুঁকি

‎এই অটোরিকশা খাত এখন দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রধান কর্মসংস্থানের আশ্রয়। তৈরি পোশাক খাত বা অন্যান্য পেশায় চাকরি হারানো মানুষেরা কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই খুব সহজে এখানে যুক্ত হতে পারছেন। প্যাডেল রিকশার চেয়ে এতে শারীরিক শ্রম কম, পরিচালনার খরচ কম এবং দৈনিক আয় প্রায় দ্বিগুণ।

‎তা ছাড়া মাত্র ৭০ থেকে ৭২ হাজার টাকায় একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরি করা যায়, যেখানে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা কিনতে লাগে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। গবেষণায় দেখা গেছে, দ্রুত যাতায়াত ও কম ভাড়ার কারণে প্রায় ৮২ শতাংশ যাত্রী এই রিকশাকেই প্রধান বাহন হিসেবে বেছে নেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ চালকের পরিবার এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।

তবে মুদ্রার অপর পিঠটি অত্যন্ত ভয়াবহ। বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি এটি সড়ক নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব চালকের প্রায় ৭৫ শতাংশেরই যান চালানোর কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই। ফলে অটোরিকশার কারণে সড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার অভাবে শুধু এক বছরেই অটোরিকশা সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

‎সমাধানের পথ কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতারাতি এই বাহন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যেমন সম্ভব নয়, তেমনই সমীচীনও হবে না। কারণ, এর সঙ্গে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের রুটি-রোজি জড়িত। প্রতিদিন সড়ক থেকে কয়েকটি রিকশা জব্দ করে এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান মিলবে না। বরং অবৈধ যন্ত্রাংশ আমদানিকারক, রিকশার বডি প্রস্তুতকারক এবং বিদ্যুৎ চুরির সিন্ডিকেটের ওপর সরকারের কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।

‎সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো যদি যৌথভাবে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগ করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তবেই তা ফলপ্রসূ হবে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা সরাসরি অটোরিকশার এসব অবৈধ গ্যারেজে কঠোর অভিযান চালানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

ব্যাটারিচালিত রিকশা একদিকে যেমন লাখ লাখ মানুষের জীবিকার উৎস, অন্যদিকে এটি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড ও সরকারি রাজস্বের জন্য এক বিরাট ক্ষতের কারণ। তাই এই সংকটের সমাধান রিকশা নিষিদ্ধ করা নয়; বরং বিদ্যুৎ চুরির সিন্ডিকেট ভেঙে এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে এনে একে নিয়মে নিয়ে আসাই এখন সময়ের দাবি।

‎একদিকে বিদ্যুৎ-সংকটে সাধারণ মানুষের হাহাকার, অন্যদিকে অবৈধ সিন্ডিকেটের হাজার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য—সরকার কি পারবে এই ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ ব্যবহারকে নিয়মের মধ্যে আনতে? উত্তরটা সময়ের ওপরই নির্ভর করছে।

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসায় নিজের কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পর ‘ভবিষ্যতের চিন্তায়’ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন শাহজালাল রুমি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগে তিনি বাসা ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভবনটির কেয়ারটেকার। তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা জানা যায়নি।

ভবনটির কেয়ারটেকার জানান, টঙ্গীর মাদ্রাসায় ওই ঘটনার পর থেকেই রুমি হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায়ও ছিলেন তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন রুমি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে রুমির বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখা যায়। কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে ভয়ের কারণে রুমির পরিবারের সদস্যরা বাসায় থাকছেন না।

 

হাবিবুর রহমান আরও জানান, যে মেয়েটির সঙ্গে এসব ঘটেছে, সেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রুমি এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে আমাদের জানিয়ে গেছেন।

রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি তার বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের বয়স চার বছর। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী।

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রুমি এবং তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমি ফেসবুক লাইভে একাধিকবার তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রুমি। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

 

ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে রুমি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

 

পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, রুমি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

 

তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

 

মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়

 

ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা এবং রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকেরা সেখানে যাচ্ছেন।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।