খুঁজুন
, ,

এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে পেরেছি: বাণিজ্যমন্ত্রী

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে পেরেছি: বাণিজ্যমন্ত্রী
শেয়ার করুন

দ্রব্যমূল্য নিয়ে দেশের মানুষ সন্তুষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য কমানো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

 

ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান ফলাফল পাওয়া যাবে– এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

 

 

বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সিআইআই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।

 

 

দায়িত্ব পালনের ছয় মাসে বাজার ব্যবস্থাপনায় কতটা স্বস্তি এসেছে– এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্যে তিনি মোটেই সন্তুষ্ট নন। তবে দ্রব্যমূল্য কমানোর জন্য একাধিক বিষয় একসঙ্গে কাজ করতে হয়।

 

তিনি বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ, কম জ্বালানি ব্যয়, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং কম লজিস্টিক ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন থেকে খুচরা বাজারে পণ্য পৌঁছানোর পথে যে ব্যয় হয়, অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে সেই ব্যয় কমবে। উৎপাদনের জন্য জ্বালানির নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় একসঙ্গে কাজ করলেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি হবে।

 

দ্রব্যমূল্য কমানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এটি কোনো ক্যালেন্ডারের নির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে ঠিক করে দেওয়ার বিষয় নয়। উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ ও ঋণের সুদ কমানো, জ্বালানি ব্যয় কমানো, শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং পণ্য পরিবহনে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা প্রয়োজন।

 

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে গ্যাস সরবরাহের জন্য দুটি এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ ছিল। নতুন একটি এফএসআরইউ যুক্ত করতে দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ শুধু টার্মিনাল নির্মাণ করলেই হবে না, সেটিকে মূল গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করতে সাবসি পাইপলাইনও নির্মাণ করতে হয়। ইতোমধ্যে সরকার নতুন একটি এফএসআরইউ নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানো যায়, সেজন্যও সরকার কাজ করছে। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দ্রব্যমূল্যকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে বাজারে স্থিতিশীলতার উদাহরণ হিসেবে আগের বছরগুলোর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক একটি চার্ট দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এটা কারো একার কৃতিত্ব নয়। আল্লাহর বিশেষ মেহেরবানি, ভোক্তাদের শৃঙ্খলা এবং উৎপাদকদের একনিষ্ঠতার কারণে আমরা দ্রব্যমূল্য একটি স্থিতিশীলতার মধ্যে রাখতে পেরেছি।

 

সবজির দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি পর্যন্ত হওয়াকে কীভাবে স্থিতিশীল বলা হচ্ছে– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবজির উৎপাদন অনেকটাই মৌসুমি। সারা বছর একই পণ্য একই দামে সরবরাহের জন্য দেশে এখনো বৈজ্ঞানিক ও পরিকল্পিত গ্রিনহাউজ উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

 

পেঁয়াজের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে ৪০ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের চাহিদার তুলনায় বেশি। তারপরও বছরের কোনো কোনো সময়ে মৌসুমি ব্যবধানের কারণে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দেয়।

 

এই মৌসুমি ব্যবধান কমাতে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে মৌসুমি ঘাটতি কমাতে এ বছর চুক্তিভিত্তিক কৃষিসহ বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল পেতে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

 

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য কমানো কিংবা বাজারে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফেরানো তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপের বিষয় নয়, এর সঙ্গে উৎপাদন, জ্বালানি, ঋণ, অবকাঠামো, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার মতো বহু বিষয় জড়িত। এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব।

 

ভারতের সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া সীমান্ত হাটগুলো চালু এবং নতুন সীমান্ত হাট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে ফলাফল জানানো যাবে।

 

দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাণিজ্য যত বাড়বে, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পক্ষের জন্য তত বেশি লাভজনক হবে।

 

সিআইআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’