খুঁজুন
, ,

চকরিয়ায় মায়ের খুনি ছেলে ও দুই পুত্রবধূ!

মেয়েকে জমি লিখে দেওয়ায় মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ, ছেলে-পুত্রবধূসহ গ্রেপ্তার ৩

এম.এইচ আরমান
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ
মেয়েকে জমি লিখে দেওয়ায় মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ, ছেলে-পুত্রবধূসহ গ্রেপ্তার ৩
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকায় ছেলের বাসায় আরফা খাতুন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে, দুই পুত্রবধূ ও গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে। মেয়েকে ৬৫ কড়া জমি হেবা করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রায় চার মাস পর নিহতের নাতি মো. পারভেজ উদ্দিন বাবু (২৯) বাদী হয়ে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করলে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মামলার তদন্তে এজাহারভুক্ত চার আসামির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরই মধ্যে মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার বাদী পারভেজ উদ্দিন চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পালাকাটা হাশেম মাস্টার পাড়ার রশিদ আহমদের ছেলে। তিনি নিহত আরফা খাতুনের মেয়ে জান্নাত আরা বেগমের ছেলে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—নিহতের ছোট ছেলে আবদুল আজিজ (৩৫), তাঁর স্ত্রী আকলিমা জান্নাত (২৬), নিহতের অপর ছেলে শামসুল আলমের স্ত্রী নাছরিন সোলতানা মুন্না (২৮) এবং বাসার গৃহকর্মী লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাছা এলাকার জয়নাব বেগম (২২)।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর বিকেল ৩টা থেকে পরদিন ১১ নভেম্বর সকাল ৬টার মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকার হাফেজ টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় ছেলের বাসায় আরফা খাতুনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

ছুরিকাঘাতে তাঁর পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, আরফা খাতুন তাঁর নিজ নামে থাকা ৬৫ কড়া জমি মেয়ে লায়লা বেগমের নামে এককভাবে হেবা করে দেওয়ায় ছেলে ও দুই পুত্রবধূ ক্ষুব্ধ হন। পরে কৌশলে তাঁকে ছেলের বাসায় বেড়াতে এনে কয়েকজন মিলে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
তবে ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বৃদ্ধা আরফা খাতুন ছেলেদের বাসায় বেড়াতে এসে আত্মহত্যা করেছেন—এমন কথা প্রচার করে তাঁর মরদেহ দ্রুত গ্রামের বাড়ি চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ দাফন করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে তখন কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে একপর্যায়ে ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছিল বলে মামলার বাদী দাবি করেন।

নাতির সন্দেহ, আদালতে মামলা
দাদির মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে নাতি পারভেজ উদ্দিন বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩ থেকে ৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক জানান, আদালত বাদীর ফৌজদারি নালিশি মামলা আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে চকরিয়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
পরে চকরিয়া থানা পুলিশ আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে জানায়, আরফা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় উল্লেখিত সময়ে চকরিয়া থানায় কোনো মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কিংবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ
মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে তদন্তকালে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রতীয়মান হলে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ক্ষমতা দেন আদালত।
মামলার তদন্তভার পান কক্সবাজার পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব পোদ্দার।

তদন্তে তিনজন গ্রেপ্তার
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুকের দাবি, তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন কৌশলে তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বৃদ্ধা আরফা খাতুন হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত চার আসামির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ সেপ্টেম্বর এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে নাছরিন সোলতানা মুন্না, জয়নাব বেগম ও আবদুল আজিজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এ সময় মামলার দুই সাক্ষী—নিহতের মেয়ে জান্নাত আরা বেগম ও নিহতের ভাতিজার স্ত্রী হামিদা বেগম—আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বাদীপক্ষের দাবি, তাঁদের জবানবন্দিতে সম্পত্তির জন্য আরফা খাতুনকে হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।
পরে আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক গ্রেপ্তার তিন আসামি—নিহতের ছেলে আবদুল আজিজ, অপর ছেলের স্ত্রী নাছরিন সোলতানা মুন্না এবং গৃহকর্মী জয়নাব বেগমকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পলাতক এক আসামি
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কক্সবাজার পিবিআইয়ের এসআই রাজীব পোদ্দার বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এজাহারভুক্ত চার আসামির বৃদ্ধা আরফা খাতুন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, নিহতের মেয়েসহ দুইজন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে আকলিমা জান্নাত পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মামলাটি বর্তমানে পিবিআইয়ের তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

আ. লীগের দখলে অর্ধেক, বাকি অর্ধেকে বিএনপিপন্থিদের মার্কেট নির্মাণ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
আ. লীগের দখলে অর্ধেক, বাকি অর্ধেকে বিএনপিপন্থিদের মার্কেট নির্মাণ
শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের পূর্বদেলুয়ায় ‘ক’ গেজেট ভুক্ত সরকারি জায়গার অর্ধেক আগে দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) স্থানীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে। এবার বাকি অর্ধেক জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট শরিফুল ইসলাম ও আইয়ুব আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

সরকারি জায়গায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানো হলেও সেটি খুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এরপরও নির্মাণকাজ চলমান থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের পূর্বদেলুয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পূর্বদেলুয়া মৌজায় প্রায় ২৯ শতাংশ সরকারি জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ জায়গা আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলী দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাকি ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছেন বিএনপিপন্থি শরিফুল ইসলাম ও আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন। ইতোমধ্যে ভবনের একতলার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়টি একাধিকবার বড়হর ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জায়গাটি সরকারি সম্পত্তি উল্লেখ করে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে সেই সাইনবোর্ড খুলে ফেলে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভবন মালিক ও বিএনপি-সংশ্লিষ্ট শরিফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মানুষজন হুমকি দিয়েছিল, তাই নায়েব ব্যানার টানিয়ে দিয়েছিল। নায়েব কাগজ দেখে বলছে সব ঠিক আছে। আমরা মামলা করেছি কেসের নথি জমা দিয়েছি। রায় তাড়াতাড়ি পাবো। আমরা ১৫ কিনেছি, ১৫ই খাই। গেজেটে এসেছে তাই সমস্যা।

 

তিনি আরও বলেন, এইসব বিষয়ে নিউজ করার দরকার নেই। আমরা ভাই ভাই, আমি আমিনের কাজ করছি। সামান্য এই বিষয় নিয়ে নিউজ করার দরকার নাই।

 

এবিষয়ে বড়হর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মো. মঈন উদ্দীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ওনারা (শরিফুল ইসলাম গং) জোর করে ভবন নির্মাণ করেছেন। তারা তো বিএনপিই করে, আগে অর্ধেক আওয়ামী লীগ দখল করেছিল। এখন বিএনপি ক্ষমতায় আছে, ওরা বিএনপি করে, তাই ওরা তুলেছে এই। জায়গা তো আমাদেরই। এটি সরকারি জায়গা, আমরা সাইনবোর্ড দিয়েছিলাম। তবে রাতের আঁধারে সেটি তুলে দেওয়া হয়েছে। ওরা যে সরিয়ে ফেলেছে, সেই রিপোর্টও এসিল্যান্ড অফিসে দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে উল্লাপাড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ফোন করলেও তারা রিসিভড করেননি।

 

তবে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা. নুর নাহার বেগম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় দখলের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। তদন্ত করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বলে দেব। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তবে দখলদারকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যালকের অ্যাকাউন্টে লেনদেন করেন সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
শ্যালকের অ্যাকাউন্টে লেনদেন করেন সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল
শেয়ার করুন

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১১ শত কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। সংস্থাটি বলছে, দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ সম্পদের তথ্য গোপন করতে শ্যালকের ব্যাংক হিসাবে এসব সম্পদ জমা করেন। এ ঘটনায় মনিরুল, তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা ও শ্যালকসহ চারজনকে আসামি করে দুটি মামলা করেছে দুদক।

 

আওয়ামী শাসনামলজুড়ে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম। ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়ে পালানো এই কর্মকর্তার দুর্নীতি অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিপুল সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তার শ্যালক রেজাউল করিম শাহীনের ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার ৪৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য পায় সংস্থাটি। এছাড়া ২৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ মিললেও কোনো আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি শ্যালক শাহীন।

দুদকের উপ-পরিচালক মোজাম্মিল হোসেন জানান, মনিরুল ও তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা তাদের সম্পদ গোপন করতে শ্যালককে হস্তান্তর করেন। সিপাহী বাবা শাহীনকে ২৫ কোটি টাকা দান করেছেন দেখানো হয়েছে, যার কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।

একইভাবে মনিরুলের শ্যালক শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার হিসাবেও দুদক খুঁজে পেয়েছে ৫৮ কোটি টাকার বেশি মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য। এছাড়া অবৈধ সম্পদ পেয়েছে ১৫ কোটি টাকার বেশি।

এদিকে, সাবেক এই এসবি প্রধান মনিরুলের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি এনজিওতে অর্থ পাচার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলেও জানায় দুদক।

বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা
শেয়ার করুন

নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের কথা বললেও অন্যদের বেলায় জামায়াতে ইসলামী সেই নীতি অনুসরণ করতে চায় না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। পিরোজপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেছেন, বিরোধী দলে থাকতেই যারা একজন মানুষকে নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দেন, রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে পেলে তারা কী করবেন?

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তাসনিম জারা জানান, গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। তিনি সরকারি গেজেটভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবে তার দাফন ঘিরে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাসনিম জারা লেখেন, ‘আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে কবর খুঁড়তে কাউকে ডেকে আনতে হয় না। খবর পেয়ে পাড়ার ছেলেরা কোদাল হাতে নিজেরাই চলে আসে। কেউ বাঁশ কেটে আনে, কেউ চাটাই। মৃত মানুষের দাফনে দেরি করতে নেই, এটা শুনেই বড় হয়েছি।’

 

তিনি অভিযোগ করেন, মানিক পশারীর মৃত্যুর পর স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন এবং মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দেন, তাকে পিরোজপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এতে মরদেহ নিয়ে দিনভর উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে হয় পরিবারকে।

 

মৃতের মেয়ে সীমু আক্তারের বক্তব্য তুলে ধরে তাসনিম জারা জানান, বাড়িতে প্রথমে একটি কবর খোঁড়া হলেও কয়েকজন এসে তা ভরাট করে দেন। পরে সীমু আক্তার তার ফুফুদের নিয়ে নতুন করে কবর খোঁড়েন। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অন্য কেউ কবর খুঁড়তে এগিয়ে আসেননি।

 

তিনি লেখেন, ‘যে কোদাল পাড়ার ছেলেদের হাতে থাকার কথা, সেদিন তা ছিল মৃত ব্যক্তির মেয়ে আর বোনেদের হাতে।’

 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতের পর পুলিশ পাহারায় পরিবারের সদস্যদের খোঁড়া কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়া পরিবারের বাইরের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

 

পোস্টে তাসনিম জারা আরও উল্লেখ করেন, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তাকে গার্ড অব অনার ও পিরোজপুরে দাফন করতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন। অথচ দাফনের পর একই নেতা দাবি করেন, জামায়াতের নেতারা লাশের রাজনীতি করেন না।

 

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, কোনো ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের নিষ্পত্তি দাফন আটকে দিয়ে কিংবা মাইকে ঘোষণা দিয়ে করা যায় না।

 

তিনি লেখেন, ‘মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, সেই প্রশ্ন আপনি চাইলে তুলতে পারেন। তোলার জায়গাও আছে। যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান আছে, আদালত আছে।’

 

মৃত ব্যক্তির প্রতি সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণত জানাজার আগে মৃতের পরিবারের সদস্যরা তার ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু পিরোজপুরের ঘটনায় সেই সুযোগও পায়নি মানিক পশারীর পরিবার। এমনকি নিজের গ্রামে তার জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

জামায়াতের ভূমিকার সমালোচনা করে তাসনিম জারা লেখেন, ‘পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না’ এই কথাটা ওনারা এমনভাবে বলেন, যেন এই মাটির দলিল ওনাদের নামে লেখা। যেন একজন মানুষ নিজের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে শুয়ে থাকবেন কি না, সেই অনুমতিও তাদের কাছ থেকে নিতে হবে।’

 

একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় দল হিসেবে জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। অথচ এখন সেই দলের নেতাকর্মীরাই কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন কিংবা কার কবর কোথায় হবে, তা নির্ধারণ করতে চাইছেন।

 

তাসনিম জারা আরও বলেন, একসময় জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশেও দেশ ছাড়ার স্লোগান দেওয়া হতো। এমন বক্তব্য কতটা অন্যায়, তা তাদের বোঝার কথা। কিন্তু বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেই তারা সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

পোস্টের শেষাংশে জামায়াতের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাসনিম জারা লেখেন, ‘নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে জামায়াত ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, ডিউ প্রোসেস আর মানবিক মর্যাদার কথা বলেন। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে সেটা করতে নারাজ।’

 

তিনি আরও লেখেন, ‘ভোটের আগে আর বক্তৃতায় ইনসাফের কথা বলেন। কিন্তু একজন মৃত মানুষের সঙ্গে ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। বিরোধীদলে থাকতেই নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ওনাদের হাতে গেলে কী করবেন?’

 

তবে তাসনিম জারার এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাদের কোনো নতুন বক্তব্য ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।