খুঁজুন
, ,

চকরিয়ায় মায়ের খুনি ছেলে ও দুই পুত্রবধূ!

মেয়েকে জমি লিখে দেওয়ায় মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ, ছেলে-পুত্রবধূসহ গ্রেপ্তার ৩

এম.এইচ আরমান
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ
মেয়েকে জমি লিখে দেওয়ায় মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ, ছেলে-পুত্রবধূসহ গ্রেপ্তার ৩
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকায় ছেলের বাসায় আরফা খাতুন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে, দুই পুত্রবধূ ও গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে। মেয়েকে ৬৫ কড়া জমি হেবা করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রায় চার মাস পর নিহতের নাতি মো. পারভেজ উদ্দিন বাবু (২৯) বাদী হয়ে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করলে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মামলার তদন্তে এজাহারভুক্ত চার আসামির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরই মধ্যে মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার বাদী পারভেজ উদ্দিন চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পালাকাটা হাশেম মাস্টার পাড়ার রশিদ আহমদের ছেলে। তিনি নিহত আরফা খাতুনের মেয়ে জান্নাত আরা বেগমের ছেলে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—নিহতের ছোট ছেলে আবদুল আজিজ (৩৫), তাঁর স্ত্রী আকলিমা জান্নাত (২৬), নিহতের অপর ছেলে শামসুল আলমের স্ত্রী নাছরিন সোলতানা মুন্না (২৮) এবং বাসার গৃহকর্মী লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাছা এলাকার জয়নাব বেগম (২২)।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর বিকেল ৩টা থেকে পরদিন ১১ নভেম্বর সকাল ৬টার মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকার হাফেজ টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় ছেলের বাসায় আরফা খাতুনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

ছুরিকাঘাতে তাঁর পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, আরফা খাতুন তাঁর নিজ নামে থাকা ৬৫ কড়া জমি মেয়ে লায়লা বেগমের নামে এককভাবে হেবা করে দেওয়ায় ছেলে ও দুই পুত্রবধূ ক্ষুব্ধ হন। পরে কৌশলে তাঁকে ছেলের বাসায় বেড়াতে এনে কয়েকজন মিলে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
তবে ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বৃদ্ধা আরফা খাতুন ছেলেদের বাসায় বেড়াতে এসে আত্মহত্যা করেছেন—এমন কথা প্রচার করে তাঁর মরদেহ দ্রুত গ্রামের বাড়ি চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ দাফন করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে তখন কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে একপর্যায়ে ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছিল বলে মামলার বাদী দাবি করেন।

নাতির সন্দেহ, আদালতে মামলা
দাদির মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে নাতি পারভেজ উদ্দিন বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩ থেকে ৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক জানান, আদালত বাদীর ফৌজদারি নালিশি মামলা আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে চকরিয়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
পরে চকরিয়া থানা পুলিশ আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে জানায়, আরফা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় উল্লেখিত সময়ে চকরিয়া থানায় কোনো মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কিংবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ
মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে তদন্তকালে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রতীয়মান হলে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ক্ষমতা দেন আদালত।
মামলার তদন্তভার পান কক্সবাজার পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব পোদ্দার।

তদন্তে তিনজন গ্রেপ্তার
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুকের দাবি, তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন কৌশলে তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বৃদ্ধা আরফা খাতুন হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত চার আসামির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ সেপ্টেম্বর এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে নাছরিন সোলতানা মুন্না, জয়নাব বেগম ও আবদুল আজিজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এ সময় মামলার দুই সাক্ষী—নিহতের মেয়ে জান্নাত আরা বেগম ও নিহতের ভাতিজার স্ত্রী হামিদা বেগম—আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বাদীপক্ষের দাবি, তাঁদের জবানবন্দিতে সম্পত্তির জন্য আরফা খাতুনকে হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।
পরে আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক গ্রেপ্তার তিন আসামি—নিহতের ছেলে আবদুল আজিজ, অপর ছেলের স্ত্রী নাছরিন সোলতানা মুন্না এবং গৃহকর্মী জয়নাব বেগমকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পলাতক এক আসামি
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কক্সবাজার পিবিআইয়ের এসআই রাজীব পোদ্দার বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এজাহারভুক্ত চার আসামির বৃদ্ধা আরফা খাতুন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, নিহতের মেয়েসহ দুইজন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে আকলিমা জান্নাত পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মামলাটি বর্তমানে পিবিআইয়ের তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।