খুঁজুন
, ,

মাদকবিরোধী র‍্যালিতে মাদক মামলার আসামি, জানতেন না পুলিশও

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ
মাদকবিরোধী র‍্যালিতে মাদক মামলার আসামি, জানতেন না পুলিশও
শেয়ার করুন

মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে আয়োজিত র‍্যালি ও সমাবেশে অংশ নিয়েছেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফোরকান উল্লাহ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার মতিঝিল ও পল্টন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা থাকার তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে নানা মন্তব্য।

 

গত ২২ আগস্ট ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে রামু থানার উদ্যোগে আয়োজিত মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশে অংশ নেন ফোরকান উল্লাহ। মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল কর্মসূচির উদ্দেশ্য।

কর্মসূচিতে ফোরকান উল্লাহর অংশগ্রহণের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো মাদক মামলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

 

 *দুটি মাদক মামলা* 

মামলার নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল মতিঝিল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় ফোরকান উল্লাহকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। মামলার এফআইআর নম্বর ৩৫/১৭৪। নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই পল্টন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। ওই মামলার এফআইআর নম্বর ৩৮/৩০৭। এ মামলাতেও ফোরকান উল্লাহ আসামি।

তবে দুটি মামলার বর্তমান আইনগত অবস্থান কী, সেগুলোর বিচারিক কার্যক্রম কোন পর্যায়ে রয়েছে কিংবা কোনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় হয়েছে কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, ২০১৭-১৮ সালের দিকে ফোরকান উল্লাহর বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলা থাকার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছিলেন। তবে মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তাঁদেরও বিস্তারিত জানা নেই।

 *‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ দাবি ফোরকানের* 

মাদক মামলার বিষয়ে জানতে ফোরকান উল্লাহর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তাঁর দাবি, তিনি ওই মামলাগুলোতে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে পরে তিনি প্রতিবেদককে ফোন করেন। এ সময় তিনি সরাসরি দেখা করে কথা বলার অনুরোধ জানান।

 *‘বিষয়টি আগে জানা ছিল না’* 

ফোরকান উল্লাহর বিরুদ্ধে মাদক মামলা থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে রামু উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল বশর বাবু বলেন, ‘এ বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক মামলা থাকার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে সিনিয়রদের অবহিত করে সাংগঠনিকভাবে আলোচনা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অনেক মানুষ অংশ নেন। সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে চেনা সম্ভব হয় না। তিনি এ থানায় নতুন যোগদান করেছেন, তাই সবার সঙ্গে এখনো পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়নি।

ওসি আরও বলেন, ‘দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। তবে বিট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আয়োজকদের বলা হয়েছিল, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি যেন কর্মসূচিতে অংশ না নেন।’

ফোরকান উল্লাহর বিরুদ্ধে মাদক মামলা থাকার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না বলেও জানান ওসি।

 *মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে সতর্কতার দাবি* 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীর মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আয়োজকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে, তাঁদের মামলার বর্তমান আইনগত অবস্থান যাচাই করে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

তাঁদের দাবি, ফোরকান উল্লাহর বিরুদ্ধে থাকা মাদক মামলাগুলোর বর্তমান আইনগত অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মামলাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও আদালতের কার্যক্রম যাচাই করে প্রকৃত তথ্য সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা
শেয়ার করুন

নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের কথা বললেও অন্যদের বেলায় জামায়াতে ইসলামী সেই নীতি অনুসরণ করতে চায় না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। পিরোজপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেছেন, বিরোধী দলে থাকতেই যারা একজন মানুষকে নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দেন, রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে পেলে তারা কী করবেন?

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তাসনিম জারা জানান, গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। তিনি সরকারি গেজেটভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবে তার দাফন ঘিরে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাসনিম জারা লেখেন, ‘আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে কবর খুঁড়তে কাউকে ডেকে আনতে হয় না। খবর পেয়ে পাড়ার ছেলেরা কোদাল হাতে নিজেরাই চলে আসে। কেউ বাঁশ কেটে আনে, কেউ চাটাই। মৃত মানুষের দাফনে দেরি করতে নেই, এটা শুনেই বড় হয়েছি।’

 

তিনি অভিযোগ করেন, মানিক পশারীর মৃত্যুর পর স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন এবং মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দেন, তাকে পিরোজপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এতে মরদেহ নিয়ে দিনভর উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে হয় পরিবারকে।

 

মৃতের মেয়ে সীমু আক্তারের বক্তব্য তুলে ধরে তাসনিম জারা জানান, বাড়িতে প্রথমে একটি কবর খোঁড়া হলেও কয়েকজন এসে তা ভরাট করে দেন। পরে সীমু আক্তার তার ফুফুদের নিয়ে নতুন করে কবর খোঁড়েন। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অন্য কেউ কবর খুঁড়তে এগিয়ে আসেননি।

 

তিনি লেখেন, ‘যে কোদাল পাড়ার ছেলেদের হাতে থাকার কথা, সেদিন তা ছিল মৃত ব্যক্তির মেয়ে আর বোনেদের হাতে।’

 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতের পর পুলিশ পাহারায় পরিবারের সদস্যদের খোঁড়া কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়া পরিবারের বাইরের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

 

পোস্টে তাসনিম জারা আরও উল্লেখ করেন, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তাকে গার্ড অব অনার ও পিরোজপুরে দাফন করতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন। অথচ দাফনের পর একই নেতা দাবি করেন, জামায়াতের নেতারা লাশের রাজনীতি করেন না।

 

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, কোনো ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের নিষ্পত্তি দাফন আটকে দিয়ে কিংবা মাইকে ঘোষণা দিয়ে করা যায় না।

 

তিনি লেখেন, ‘মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, সেই প্রশ্ন আপনি চাইলে তুলতে পারেন। তোলার জায়গাও আছে। যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান আছে, আদালত আছে।’

 

মৃত ব্যক্তির প্রতি সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণত জানাজার আগে মৃতের পরিবারের সদস্যরা তার ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু পিরোজপুরের ঘটনায় সেই সুযোগও পায়নি মানিক পশারীর পরিবার। এমনকি নিজের গ্রামে তার জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

জামায়াতের ভূমিকার সমালোচনা করে তাসনিম জারা লেখেন, ‘পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না’ এই কথাটা ওনারা এমনভাবে বলেন, যেন এই মাটির দলিল ওনাদের নামে লেখা। যেন একজন মানুষ নিজের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে শুয়ে থাকবেন কি না, সেই অনুমতিও তাদের কাছ থেকে নিতে হবে।’

 

একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় দল হিসেবে জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। অথচ এখন সেই দলের নেতাকর্মীরাই কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন কিংবা কার কবর কোথায় হবে, তা নির্ধারণ করতে চাইছেন।

 

তাসনিম জারা আরও বলেন, একসময় জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশেও দেশ ছাড়ার স্লোগান দেওয়া হতো। এমন বক্তব্য কতটা অন্যায়, তা তাদের বোঝার কথা। কিন্তু বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেই তারা সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

পোস্টের শেষাংশে জামায়াতের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাসনিম জারা লেখেন, ‘নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে জামায়াত ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, ডিউ প্রোসেস আর মানবিক মর্যাদার কথা বলেন। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে সেটা করতে নারাজ।’

 

তিনি আরও লেখেন, ‘ভোটের আগে আর বক্তৃতায় ইনসাফের কথা বলেন। কিন্তু একজন মৃত মানুষের সঙ্গে ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। বিরোধীদলে থাকতেই নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ওনাদের হাতে গেলে কী করবেন?’

 

তবে তাসনিম জারার এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাদের কোনো নতুন বক্তব্য ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।

এইচএসসির ফল প্রকাশের দুই দিন আগে ঢাকা বোর্ডের সচিবকে ‍কুমিল্লায় বদলি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের দুই দিন আগে ঢাকা বোর্ডের সচিবকে ‍কুমিল্লায় বদলি
শেয়ার করুন

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে নতুন সচিব পদে নিযুক্ত হন অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার। তিনি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ পদে কর্মরত ছিলেন। ১৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছিল, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারকে বোর্ডটির সচিব পদে নিযুক্ত করা হয়।

উখিয়ায় পাহাড় কাটার অভিযোগে মাটিভর্তি ডাম্পারসহ আটক ১

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় পাহাড় কাটার অভিযোগে মাটিভর্তি ডাম্পারসহ আটক ১
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহারের অভিযোগে মাটিভর্তি একটি ডাম্পার জব্দ করেছে বন বিভাগ। এ সময় পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ডাম্পারটির চালক আবুল কাশেমকে আটক করা হয়।

 

সোমবার ভোরে উখিয়া বন রেঞ্জের আওতাধীন হলদিয়া পালং বনবিটের পশ্চিম হলদিয়া পালং এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোর ৬টার দিকে উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল পশ্চিম হলদিয়া পালং এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে দোছড়ি বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান রনি, ইসমাইল, ইলিয়াস ও আলীসহ বন বিভাগের একদল কর্মী অংশ নেন।

 

অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে মাটিভর্তি একটি ডাম্পার জব্দ করা হয়। একই সময় পাহাড় কাটার কাজে ডাম্পারটি ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এর চালক আবুল কাশেমকে আটক করা হয়। তিনি পশ্চিম হলদিয়া পালং এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে।

 

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা ও সরকারি বনভূমি থেকে মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের মাধ্যমে পরিবেশ ও বনসম্পদের ক্ষতি করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান মাটিভর্তি ডাম্পার জব্দ ও চালককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাহাড় কাটার অভিযোগে জব্দ করা ডাম্পারটি বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটক চালকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে কক্সবাজার কারাগারে পাঠানো হবে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে কিংবা ভোররাতে পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের ঘটনা ঘটছে। এতে পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পাহাড় কাটা বন্ধে বন বিভাগের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বনভূমি, পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি কিংবা মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।