খুঁজুন
, ,

কবে খুলবে ইয়াঙ্গুন-টেকনাফ বাণিজ্যপথ?

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
কবে খুলবে ইয়াঙ্গুন-টেকনাফ বাণিজ্যপথ?
শেয়ার করুন

আগে নাফ নদীপথে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব থেকে পণ্য আসতো টেকনাফ স্থলবন্দরে। জাহাজ ও নৌযানের আনাগোনায় সরগরম থাকতো বন্দর এলাকা। কর্মব্যস্ত থাকতেন শত শত শ্রমিক ও ব্যবসায়ী। কিন্তু মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও আরাকান আর্মির দীর্ঘ সংঘাতের কারণে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে এই বাণিজ্যপথ।

 

এর মধ্যে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা মংডুর সঙ্গে গত চার মাস ধরে সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানি চালু হলেও আগের কর্মচাঞ্চল্য ফেরেনি টেকনাফ স্থলবন্দরে। বরং এ সময়ে আমদানির তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি পণ্য রফতানি হয়েছে।

বন্দর ও কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে মংডু থেকে টেকনাফে ১ হাজার ৮২৭ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে মংডুতে রফতানি হয়েছে ৪ হাজার ৮০৭ মেট্রিক টন পণ্য। একই সময়ে আমদানি থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৮ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ৫৩৬ টাকা।

 

ব্যবসায়ীদের দাবি, মংডুর সঙ্গে সীমিত বাণিজ্যে চাহিদা কম থাকায় বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে না। মূল বাণিজ্য ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াবের সঙ্গে হওয়ায় ওই রুট দুটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও বন্দরসংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রশ্ন—কবে ফিরবে ইয়াঙ্গুন-আকিয়াবের সেই পুরোনো বাণিজ্য?

 

বন্দরে নেই আগের কর্মচাঞ্চল্য

 

সরেজমিনে দেখা যায়, টেকনাফ সদরের কেরুনতলী এলাকায় স্থলবন্দরে আগের তুলনায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা অনেক কম। মংডু থেকে আসা ঘাটে মাছবোঝাই একটি ছোট নৌকা নোঙর করে আছে। অন্যদিকে টেকনাফ থেকে মংডুতে পাঠানোর জন্য আলু, কেক, প্লাস্টিকের চেয়ার, ময়দা, ডিম ও টাইলসসহ বিভিন্ন পণ্য ট্রাক থেকে ট্রলারে তোলা হচ্ছে।

 

আগের সেই কর্মচাঞ্চল্য নেই

 

টেকনাফ স্থলবন্দরের শ্রমিক নেতা আজগর আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌আগে বন্দরে ৮০০ থেকে ১ হাজার শ্রমিক নিয়মিত কাজ করতেন। এখন মাত্র ১০০ থেকে ২০০ শ্রমিক কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে মূল বাণিজ্য বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের দুর্দিন যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যেও হতাশা বিরাজ করছে।

 

আমদানির চেয়ে চার গুণ রফতানি

 

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে মিয়ানমারের মংডুর সঙ্গে সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। এ সময়ে দেড় হাজারের বেশি ট্রাকে বিভিন্ন পণ্য বাণিজ্য হয়েছে।

 

মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত মংডু থেকে ১ হাজার ৮২৭ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়। এসব পণ্য থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৮ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ৫৩৬ টাকা।

 

অন্যদিকে একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে মংডুতে রফতানি হয়েছে ৪ হাজার ৮০৭ মেট্রিক টন পণ্য। এসব পণ্যের মূল্য প্রায় ৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা বা ৩২ লাখ ৫৩ হাজার ৫২১ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ চার মাসে মংডুর সঙ্গে আমদানির তুলনায় রফতানির পরিমাণ প্রায় চার গুণ।

 

বাংলাদেশ থেকে মংডুতে রফতানি হচ্ছে আলু, ময়দা, ডিম, প্লাস্টিকের চেয়ার, টাইলস, ছাতা, স্যান্ডেল ও সাইকেলের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য। বিপরীতে মিয়ানমার থেকে আসছে কাঠ, আইএনসি, কাঁকড়া ও নাইল্যা শুঁটকিসহ বিভিন্ন পণ্য।

 

বাণিজ্য বন্ধের শুরু যেভাবে

 

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের ১৬ জানুয়ারি ইয়াঙ্গুন থেকে টেকনাফের উদ্দেশে আসার পথে নাফ নদীতে পণ্যবাহী তিনটি বোট আটক করে আরাকান আর্মি। ১৬ দিন পর বোটগুলো ছেড়ে দেওয়া হলেও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে এরপর থেকে ইয়াঙ্গুন-আকিয়াব রুটে বাণিজ্য বন্ধ রাখে মিয়ানমার সরকার।

স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘সীমান্ত বাণিজ্যের মূল অংশ ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব বন্দরের সঙ্গে। সংঘাতের কারণে এসব রুট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা হতাশায় রয়েছেন। তবে গত চার মাস ধরে মংডুর সঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি চলছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকে বকেয়া থাকা এফডিডি ড্রাফটগুলো রসুন ও আদা ছাড়া অন্যান্য পণ্যের বিপরীতে খালাসের অনুমতি দেওয়া হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরতো। বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

 

১৫ শতাংশ কার্যক্রম সচল

 

টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট টেকনাফ লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ইয়াঙ্গুন-আকিয়াব থেকে পণ্য আসা-যাওয়া বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানও লোকসানে রয়েছে। বর্তমানে মংডুর সঙ্গে সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানি চলছে। বলতে গেলে, বন্দরের মাত্র ১৫ শতাংশ কার্যক্রম সচল রয়েছে। বাণিজ্যপথ চালু না হওয়ায় বন্দরের আয় ও কর্মসংস্থান—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধাক্কা লেগেছে।’

 

কমেছে রাজস্বও

 

টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব থেকে পণ্য আসা বন্ধ থাকলেও মংডুর সঙ্গে গত চার মাস ধরে বাণিজ্য চলছে। এতে সরকার ৮ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ৫৩৬ টাকার বেশি রাজস্ব পেয়েছে। তবে ইয়াঙ্গুন-আকিয়াব বাণিজ্য বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে।’

 

তিনি জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪৯ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি থেকে সরকার প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল। পরের অর্থবছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানি কমে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টনে নেমে আসে। ওই সময়ে রাজস্ব আদায় হয় প্রায় ৯১ কোটি টাকা। মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।’

 

পুরোপুরি সচল করতে সরকারের চেষ্টা চলছে

 

মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব বন্দর থেকে পণ্য আসা বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে ইয়াঙ্গুন ও আকিয়াব বন্দর থেকে পণ্য আসা বন্ধ রয়েছে। তবে মংডুর সঙ্গে থেমে থেমে বাণিজ্য চলছে। স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি সচল করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।