খুঁজুন
, ,

জ্বালানি সংকটে জাপান থেকে প্রায় ৩২ কোটি ডলারের জরুরি ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকটে জাপান থেকে প্রায় ৩২ কোটি ডলারের জরুরি ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ
শেয়ার করুন

জাপানের কাছ থেকে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন (প্রায় ৬৬০ কোটি মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশা করা হয়েছে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

একইসঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি ঋণ সহায়তার বিষয়টি স্বাগত জানিয়েছে দুই পক্ষ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

১৪ দফা যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে ‘বিগ-বি’ (বাংলাদেশ-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব) উদ্যোগকে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ বা ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি’ হিসেবে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে কাজ করবে দুই দেশ।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া, ঢাকায় মেট্রোরেল লাইন নির্মাণ এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দেশ।

 

যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত এটি কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে যোগদানের অনুরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান।

বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ স্থানান্তর ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং কার্যকর নিয়মকানুন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। খাদ্য, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পে বিনিয়োগ এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

 

জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি ঋণ সহায়তার বিষয়টি স্বাগত জানিয়েছে দুই পক্ষ। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে।

 

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের উন্নয়ন সহায়তায় একটি টহলজাহাজ এবং নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহলবোট দেওয়ার বিষয়টিও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় মিয়ানমারের সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা, গাজা পুনর্গঠন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ।

 

যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নে গত পাঁচ দশকে জাপানের অবদানের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান

মাকে ভিডিওতেও এনে বাবার বিরুদ্ধে ১৮ বিয়ের অভিযোগ তাশরীফের

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
মাকে ভিডিওতেও এনে বাবার বিরুদ্ধে ১৮ বিয়ের অভিযোগ তাশরীফের
শেয়ার করুন

নিজের মাকে ভিডিওতে এনে বাবার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের অভিযোগ তুললেন আলোচিত বক্তা ও সামাজিক মাধ্যমে ‘উসকানি’ দেওয়া জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। ভিডিওতে তাশরীফের মা পরিচয় দেওয়া এক নারী অভিযোগ করেছেন হেদায়েতুল্লাহ ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ে করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তাশরীফের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক ভিডিওতে এসব অভিযোগ করেন তার মা। ভিডিওতে ওই নারী বলেন, তাশরীফ তার বাবার ভরণ-পোষণ বা খোঁজখবর নেন না বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার দাবি, তাশরীফ প্রতি মাসে বাবাকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দেন। তবে সম্প্রতি পারিবারিক ঝগড়াঝাটির কারণে দু-তিন মাস ধরে সেই টাকা দেওয়া হচ্ছে না।

তাশরীফের মা অভিযোগ করেন, তার বাবা চান না ছেলে তার চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকুক। তিনি বলেন, মানুষের বিভিন্ন কথায় তাশরীফের বাবার সঙ্গে ছেলের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। মানুষ তাকে বলে, তোর ছেলে এত উপরে থাকবে আর তুই এভাবে থাকবি কেন। মানুষের এসব কথা শুনে তিনি তাশরীফের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন।’

এ সময় তাশরীফের বাবা মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ একাধিক বিয়ে করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, তিনি হেদায়েতুল্লাহর ঘরে থাকাকালে সাতটি বিয়ে করেছেন এবং পরে শুনেছেন, সব মিলিয়ে তিনি ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ে করেছেন।

তাশরীফের বিরুদ্ধে তার বাবার অভিযোগকে ‘সাজানো ষড়যন্ত্র’ বলেও মন্তব্য করেন তার মা। তিনি অভিযোগ করেন, তাশরীফ বাবার বাড়িতে গেলে ঠিকমতো খাবারও পান না। একই সঙ্গে নিজের ওপর স্বামীর নির্যাতন এবং বাবার বাড়ি থেকে সম্পদ আনার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

তাশরীফের বিরুদ্ধে নিজের অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ জানান, তিনি কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন এবং অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছেন। তার দাবি, ছেলের ছোটবেলায় শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে তাকে চিকিৎসা করিয়েছেন। ছেলের কাছে টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু ছেলে জমি কেনার কথা বলে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে মানুষের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। তবে চিকিৎসার পরও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি এবং এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি। এখন তোমার সব হইছে, পর হইলাম আমি। সে আজকে আমার খোঁজখবর লয় না, আমারে সে দেহে না, আমারে টাকা-পয়সা দেয় না। আমি কষ্টের ভিতরে আছি।’

এ ছাড়া ছেলের পরামর্শে ইমামতির চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেন হেদায়েতুল্লাহ। তার দাবি, তাশরীফ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য দোয়া চেয়ে তাকে ক্ষমা করতে বলেন। পরে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে ইমামতির চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন। ছেলের কথায় চাকরি ছাড়লেও পরে তাকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হেদায়েতুল্লাহ আরও বলেন, ছেলের ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেও তিনি সহযোগিতা পাননি। ছেলেকে বারবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

তাশরীফের বিরুদ্ধে আলোচিত দীপু দাস হত্যায় সামাজিক মাধ্যমে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি চড়কাণ্ডে আলোচিত শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধেও সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দিয়ে উসকানি দিয়েছিলেন, পরে ক্ষমা চান তাশরীফ।

ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ, সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ, সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
শেয়ার করুন

ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী রোড শাখা থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন। দুদকের পিপি মোকাররম হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের নামে ইসলামী ব্যাংকের নগরের বহদ্দারহাট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। পরে ২০১৭ সালের ১৫ মে হিসাবটি জুবলী রোড শাখায় স্থানান্তর করা হয়।

 

ওই বছরের ১৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ৫০০ কোটি টাকা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণের আবেদন করেন। পরে ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির সুপারিশে ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, ঋণের অর্থ ছাড় করতে ক্লাসিক ট্রেডিং নামে একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে আরামিট গ্রুপের হিসাব বিভাগের এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের নাম ব্যবহার করা হয়। তবে দুদকের অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির নির্ধারিত ঠিকানায় কোনো কার্যালয়, গুদাম বা ওয়্যারহাউসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, ক্লিংকার, জিপসাম, লাইমস্টোন ও স্ল্যাগসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের কথা উল্লেখ করে ভুয়া ইনভয়েস ও অন্যান্য কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। বাস্তবে পণ্য সরবরাহ না করেই এসব নথির ভিত্তিতে ২৭টি বাই-মুরাবাহা ডিলের বিপরীতে পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়।

 

পে-অর্ডারের অর্থ প্রথমে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) স্টেশন রোড শাখায় ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের হিসাবে জমা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ঘুরে অর্থের একটি অংশ আরামিট সিমেন্টের হিসাবে স্থানান্তর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়।

 

মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও আরামিট গ্রুপের মালিক সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার স্ত্রী রুকমীলা জামান ছাড়াও আরামিট সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, এজিএম একেএম মারুফ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার কয়েকজন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় প্রতারণা, জালিয়াতি, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ এনেছে।

অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের

আমি তোমার যত্ন নেব’ বলেই ‘ধর্ষণ’ করেন ট্রাম্প

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
আমি তোমার যত্ন নেব’ বলেই ‘ধর্ষণ’ করেন ট্রাম্প
শেয়ার করুন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড ও মডেল বিয়াট্রিস কিউল। ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তার ওপর এই নির্যাতন চালান বলে ডেমোক্র্যাটদের এক তদন্তকারী দলের কাছে তিনি দাবি করেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভুয়া খবর বলে আখ্যা দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, ট্রাম্প অ্যাপস্টাইন সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের উন্মোচিত প্রতিবেদনটিকে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাফল্যের ওপর ভর করে তৈরি হওয়া রিপাবলিকানদের ঊর্ধ্বমুখী গতি থেকে আমেরিকানদের মনোযোগ সরানোর জন্য উন্মাদ ডেমোক্র্যাটদের একটি মরিয়া চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে হোয়াইট হাউস।

ডেমোক্র্যাটিক কমিটির কর্মচারীদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের সাক্ষাৎকারে ২৪ বছর বয়সে ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের প্রথম সাক্ষাতের কথা জানান কিউল। তিনি জানান, ট্রাম্প তাকে ভিসা ও নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার যত্ন নেব।’ পরবর্তীতে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি তাকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যান।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রবেশ মাত্রই ট্রাম্প কিউলকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন; এই প্রক্রিয়ায় তার পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের একাধিক স্থানে রক্তপাত ও আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়।’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিউল এই ধর্ষণকে ‘নৃশংস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘটনার পর ট্রাম্প তাকে বিছানার ধারে বসিয়ে পুনরায় ভিসা ও ভর্তির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং চুপ থাকতে বলে বলেন, ‘শো চলতেই হবে।’

 

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেইলিমেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিউল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি আমাকে ঠোঁটে ও ঘাড়ে চুমু খেয়েছিলেন। তিনি আমার পোশাক তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আমার শরীরের সর্বত্র স্পর্শ করছিলেন।’ তবে সেই সময় কিউল জানান, তিনি কথা বলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তার উচ্চতার কারণে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন।

২০ বছর আগেই কিউল তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে এই ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন বলে ডেইলিমেইল উল্লেখ করে এবং তখন ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটের অভিযোগটি ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

 

কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জেমি রাসকিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পাঁচজন নারী অ্যাপস্টাইনের উপস্থিতিতে বা তার সান্নিধ্যে সরাসরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন; অন্যরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, অ্যাপস্টাইন বা ম্যাক্সওয়েল তাদের ট্রাম্পের কাছে পাচারের চেষ্টা করেছিলেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করতে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এই অপরাধগুলো ধামাচাপা দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

 

আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো। নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের অ্যাপস্টাইন সংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে দেখা দেওয়া মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকান প্রার্থীদের রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে।

 

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ।