খুঁজুন
, ,

চকরিয়ায় অন্তত ৫ মিনিট ট্রেনের যাত্রাবিরতি চান ৮ উপজেলার বাসিন্দারা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
চকরিয়ায় অন্তত ৫ মিনিট ট্রেনের যাত্রাবিরতি চান ৮ উপজেলার বাসিন্দারা
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও আশপাশের আট উপজেলার যাত্রীদের জন্য আসন বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সর্বস্তরের জনসাধারণ।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে চকরিয়া রেলস্টেশন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

 

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, চকরিয়াসহ আশপাশের আট উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। অথচ চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষ রেলসেবার পূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ট্রেনে যাতায়াতের জন্য অনেককে বিকল্প পথ বেছে নিতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তাদের দাবি, চকরিয়া রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি চকরিয়া ও আশপাশের আট উপজেলার যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত আসন বরাদ্দ রাখতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হবে।

 

মানববন্ধনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ বদরী বলেন, ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় চকরিয়াসহ আশপাশের আট উপজেলার লাখ লাখ মানুষ রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জনস্বার্থে চকরিয়া রেলস্টেশনে অবিলম্বে ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্তত ৫ মিনিটের জন্য ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলোকে চকরিয়া স্টেশনে থামানোর দাবি জানান তিনি। অন্যথায়, চকরিয়ায় ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার দাবিতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মানববন্ধনের আয়োজকদের পক্ষে মাতামুহুরী উপজেলা যুবদল নেতা মামুনুর রশীদ বলেন, আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা হলে চকরিয়াসহ আশপাশের আট উপজেলার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। তাই জনস্বার্থে এ দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

 

এদিকে মানববন্ধনের খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার রেলওয়ে পুলিশের জিআরপি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চকরিয়া রেলস্টেশনে পৌঁছায়। এ সময় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

 

রেলওয়ে পুলিশের জিআরপি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে। তবে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কিংবা রেলওয়ের সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ আবদুল মন্নান বলেন, রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি চকরিয়া থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি চকরিয়া স্টেশন অতিক্রম করে। এ সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

 

স্থানীয়রা বলছেন, ঢাকা-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় পর্যটননগরী কক্সবাজার উপকৃত হলেও চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, লামা, আলীকদম, বাঁশখালীসহ আশপাশের উপজেলার মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না। এসব এলাকার যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে কক্সবাজার সদর কিংবা চট্টগ্রাম শহরে যেতে হয়। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অথচ চকরিয়া স্টেশনে কয়েক মিনিটের যাত্রাবিরতি চালু হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ সরাসরি রেলসেবার আওতায় আসবেন।

ঢাকা-বরিশাল ১৪১ কিমির ভাড়া ৪০০ টাকা, কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনের ৯৫ কিমির ৪২০০!

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
ঢাকা-বরিশাল ১৪১ কিমির ভাড়া ৪০০ টাকা, কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনের ৯৫ কিমির ৪২০০!
শেয়ার করুন

ঢাকা থেকে বরিশালের দূরত্ব প্রায় ১৪১ কিলোমিটার। এ পথে লঞ্চে যাতায়াতে ভাড়া প্রায় ৪০০ টাকা। অন্যদিকে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ৯৫ কিলোমিটার হলেও পর্যটকদের আসা-যাওয়ায় জাহাজভাড়া গুনতে হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। দূরত্বের তুলনায় ভাড়ার এমন ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পর্যটক ও ভ্রমণপ্রেমীরা। তাদের অভিযোগ, জাহাজভাড়ার পাশাপাশি রিসোর্টের কক্ষভাড়া ও খাবারের খরচও পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

 

এ পরিস্থিতিতে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের ভাড়া ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বৈঠক বসার কথা জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম।

 

তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে আজ বিকেল ৩টায় বৈঠক হবে। বৈঠকে আলোচনা শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

পর্যটকদের অভিযোগ, টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার পর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাতায়াতের ব্যয় বেড়েছে। পর্যটন মৌসুমে সীমিত সময়ের জন্য দ্বীপটিতে ভ্রমণের সুযোগ থাকায় যাতায়াত, আবাসন ও খাবারের খরচ মিলিয়ে ভ্রমণ অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

 

লঞ্চভাড়ার সঙ্গে তুলনা

ভ্রমণপ্রেমীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে বরিশালের দূরত্ব প্রায় ১৪১ কিলোমিটার এবং লঞ্চভাড়া প্রায় ৪০০ টাকা। অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের দূরত্ব প্রায় ৯৫ কিলোমিটার হলেও আসা-যাওয়ার জাহাজভাড়া ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

তাদের প্রশ্ন, তুলনামূলক কম দূরত্বের সমুদ্রপথে যাতায়াতে এত বেশি অর্থ কেন ব্যয় করতে হবে? জাহাজের ধরন, পরিচালন ব্যয় ও সেবার মানে পার্থক্য থাকলেও ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

রিসোর্ট ও খাবারের দাম নিয়েও অভিযোগ

শুধু জাহাজভাড়া নয়, সেন্টমার্টিনে রিসোর্টের কক্ষভাড়া ও রেস্তোরাঁর খাবারের দাম নিয়েও অভিযোগ রয়েছে পর্যটকদের। তাদের দাবি, পর্যটন মৌসুমে চাহিদা বাড়ার সুযোগে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হয়। ফলে এক রাত দুই দিনের ভ্রমণে জনপ্রতি অন্তত ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে তাদের অনেকে আশঙ্কা করছেন। তবে প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করে যাতায়াত, আবাসন ও খাবারের ধরন এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর।

 

পর্যটকদের মতে, দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় এই দ্বীপে ভ্রমণ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে জাহাজের টিকিটের মূল্য, রিসোর্টের কক্ষভাড়া ও খাবারের মূল্যতালিকা তদারকি করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ভাড়া বা মূল্য আদায়ের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা

ভ্রমণপ্রেমীরা ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে নুসা পেনিদা দ্বীপে যাতায়াতের উদাহরণও টানছেন। তাদের দাবি, ওই রুটে দ্রুতগতির বোটে যাতায়াতের খরচ তুলনামূলক কম। তবে দুই দেশের নৌযানের ধরন, পরিচালন ব্যয় ও সেবার মান ভিন্ন হওয়ায় সঠিক তুলনার জন্য নির্ভরযোগ্য ভাড়ার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

 

পর্যটকদের অভিযোগ, যাতায়াত ও আবাসন ব্যয় বেশি হলে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণের আগ্রহ কমতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকে নজর

সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াত ব্যয় ও সেবার মান নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যকর নজরদারি চান পর্যটকেরা।

অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণের অভিযোগ, মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেলের কাজ বন্ধ করল প্রশাসন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণের অভিযোগ, মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেলের কাজ বন্ধ করল প্রশাসন
শেয়ার করুন

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকার অভিযোগে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রকল্প এলাকায় নিষেধাজ্ঞার ব্যানার টাঙিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টাঙানো ব্যানারে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের কারণে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে জমিটি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এ সময় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানও উপস্থিত ছিলেন।

 

লতাচাপলী মৌজায় প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছিল। সেখানে মসজিদ ও কনভেনশন হল নির্মাণের পাশাপাশি প্রায় ছয় একর জমির উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

তবে ইস্তানবুলের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মনির মুসুল্লীর দাবি, প্রকল্পের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণের অনুমতি চেয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরেও আবেদন করা হয়েছে। কুয়াকাটা পৌরসভা থেকে অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এ ঘটনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

 

এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধও রয়েছে। স্থানীয় চার ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানা দাবি করে পটুয়াখালী যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করেছেন। অন্যদিকে কুয়াকাটার বালিয়াতলীর রাখাইন সম্প্রদায়ের কয়েকজনও জমিটির মালিকানা দাবি করেছেন। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড তাঁদের পূর্বপুরুষদের নামে রয়েছে।

 

এর আগে প্রকল্পটির বিনিয়োগ ও জমির পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসন অনুমোদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তবে জমির মালিকানা ও প্রকল্পের অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শেয়ার করুন

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যকে সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।’ আইজিপি অসতর্কতাবশত এমন কথা বলেছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।’

 

গতকাল সোমবার রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।

 

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি (আইজিপি) সহজ–সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন। এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না, এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কাস্টডিয়াল ডেথ (পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু) সহ্য করবে না।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এ পর্যন্ত ক্রসফায়ারে মৃত্যু এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে অপরাধ দমন এবং আইনের যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার যা যা দরকার, সব করবে।

 

এর আগে আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যে বিএনপি দীর্ঘদিন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সেই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে।

 

গতকাল সোমবার ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’— আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের এই বক্তব্যের পরপর তাৎক্ষণিকভাবে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ জানায়।

 

আইজিপির বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর একটি ব্যাখ্যা দেয়। তাতে বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে তিনি শব্দটি ব্যবহার করেছেন।