খুঁজুন
, ,

রিমান্ডে চোখ বেঁধে জামায়াতকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে: আখতারুজ্জামান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
রিমান্ডে চোখ বেঁধে জামায়াতকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে: আখতারুজ্জামান
শেয়ার করুন

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জানান, তার চোখ বেঁধে জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে।

তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে পুলিশ কেন জানতে চাইবে? বাংলাদেশের আইন পুলিশকে এমন এখতিয়ার দেয়নি।’

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, জনগণের পক্ষে, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে এবং ইসলামের পক্ষে কথা বলার সাহস মহান আল্লাহ তাকে দিয়েছেন। বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন, একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ করার এখতিয়ার পুলিশকে কে দিয়েছে?

তিনি বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির প্রতিবাদ করেছিলাম। এজন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আমার কথা হয়। আমি তাদের স্পষ্টভাবে বলি, আমাকে গ্রেপ্তার করতে হলে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখাতে হবে। কারণ আমি কোনো অন্যায় করিনি এবং আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো কিছু মেনে নেব না। একপর্যায়ে আমাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেপ্তারে বিষয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই; কিন্তু আমার প্রশ্ন, আমাকে রিমান্ডে নেওয়া হলো কেন?

আখতারুজ্জামান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা পুলিশের দায়িত্ব নয়। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ অবশ্যই তদন্ত করবে এবং অপরাধের তথ্য উদ্ঘাটন করবে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনুসন্ধানের নামে জিজ্ঞাসাবাদ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর আমাকে উচ্চ আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে জামিন পাওয়ার পরও বিষয়টি চেম্বার আদালতে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের আইনি ব্যবস্থা পরিচালনা করতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এভাবে দেশ পরিচালনা করতে চাইলে বাংলাদেশের মানুষ তা গ্রহণ করবে না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে যাব। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবো, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও তাকে চিন্তা করতে হবে।

প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী ভাই-বোনদের সমস্যা সমাধানে আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের জন্য একটি রিসিপশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রবাসীদের সমস্যা, অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার মুক্তিলাভের পর সংবর্ধনা আয়োজন এবং কারাভোগের সময়ে পাশে থাকার জন্য জামায়াতে ইসলামী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমার সংগ্রামে যারা সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

ফটোসাংবাদিককে আটকে বিএনপি নেতা বললেন ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
ফটোসাংবাদিককে আটকে বিএনপি নেতা বললেন ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক’
শেয়ার করুন

ঢাকার নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের কবিরপুর এলাকায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন দৈনিক আগামীর সময়ের ফটোসাংবাদিক মহুবার রহমান। একটি পোশাক কারখানার সামনে ছবি তুলতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যবস্থাপকের তোপের মুখে পড়েন তিনি। কেড়ে নেওয়া হয় তার মোবাইল ফোন। পরে তাকে আটকে রেখে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে। ওই নেতা এসে ফটোসাংবাদিককে প্যান্ট খুলে তল্লাশির হুমকি দেন।

 

ঘটনাটি আজ মঙ্গলবার দুপুরের। এদিন ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। কবিরপুর এলাকায় ছবি ও ভিডিও নিতে গিয়েছিলেন মহুবার। গিয়ে দেখতে পান টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক সেখানে। কাজে ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকদের অনেকেই। প্রথমে ইকোটেক্স গার্মেন্টসের সামনে তাদের কর্মস্থলে ফেরার ছবি নেন। আশানুরূপ না হওয়ায় যান একটু দূরে, পলমল গার্মেন্টসের সামনে। সেখানে চলছিল দুপুরের খাবারের বিরতি। শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরোবার সময় সড়ক বিভাজকে দাঁড়িয়ে ছবি ও ফুটেজ নেন তিনি।

 

এমন সময় কারখানার এক নিরাপত্তাকর্মী মহুবারকে ছবি তোলা শেষে দেখা করে যেতে বলেন। পরে ফটকের সামনে গেলে তার কাছে ছবি তোলার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। মহুবার প্রশ্ন করেন, কারখানার বাইরের ছবি তুলতে অনুমতি নিতে হবে কেন? তিনি শুধু শ্রমিকদের বের হওয়ার ছবি ও ফুটেজ নিয়েছেন।

 

এরপর কারখানার ব্যবস্থাপকদের একজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানিয়ে মহুবার বলেন, ‘ওই ব্যবস্থাপক আমাকে পাশের একটি ফটকের সামনে নিয়ে যান। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও ছাড়েনি। তিনি আমাকে কারখানার ভেতরে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। রাজি না হওয়ায় পাশের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে আমাকে আটকে রেখে ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। মুছে দেওয়া হয় ফোনে থাকা ছবি ও তাদের কথোপকথনের ভিডিও।’

 

এ সময় ওই ব্যবস্থাপক ফোন করে সেখানে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে আসতে বলেন। মহুবারের অভিযোগ, ‘ওই নেতা এসে বলে, ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক।’ পরে আমার ব্যাগ খুলে ক্যামেরাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হয়। তবে ক্যামেরায় নেওয়া ছবিগুলো পরীক্ষা করা হয়নি।’

 

এরপর ফোনটি ফেরত দিলেও তাকে জোর করে কারখানার ভেতরে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট অবরুদ্ধ রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেন, ‘দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাবার কথা ছিল। তবে তিনি আগেই ছাড়া পান।’ এ ঘটনায় অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দফাদার এখন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’, মহল্লাদার হবেন ‘গ্রাম পুলিশ’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
দফাদার এখন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’, মহল্লাদার হবেন ‘গ্রাম পুলিশ’
শেয়ার করুন

ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে সরকার। এখন থেকে ইউনিয়ন পরিষদের ‘দফাদার’ পরিচিত হবেন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ নামে আর ‘মহল্লাদার’ পরিচয় পাবেন ‘গ্রাম পুলিশ’ নামে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দীনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৯৬ ও ৪৮ ধারায় দেয়া ক্ষমতাবলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫-এর সংশোধন করা হয়েছে।

সংশোধনী অনুযায়ী, মূল বিধিমালার সর্বত্র ব্যবহৃত ‘দফাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: রিয়াদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: রিয়াদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল
শেয়ার করুন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাম্মি আহম্মেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার মামলায় আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পিটিআই। আগামী ১০ নভেম্বর মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আদালত সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।

 

সম্প্রতি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) ফিরোজ আহমেদ মুন্সী এই চার্জশিট দাখিল করেন।

 

চার্জশিটের বাকি আসামিরা হলেন- জানে আলম অপু, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন এবং অপর আসামি এক জন শিশু। মামলার ছয় আসামিই এখন জামিনে আছেন।

 

এছাড়াও, এই মামলায় আসামিদের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গুলশান থানায় মামলাটি করেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শাম্মী আহম্মেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর (৭৫)।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদীর গুলশান-২-এর ৮৩ নম্বর সড়কের বাসায় তার স্ত্রী সাবেক এমপি শাম্মি আহম্মেদকে গ্রেপ্তারে পুলিশের সঙ্গে অভিযান চালান আসামিরা। তাকে না পেয়ে পুলিশ চলে যায়। এরপর আবার সেই বাসায় গিয়ে শাম্মির স্বামীকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন আসামিরা।

 

২৬ জুলাই বিকেলে বাকি ৪০ লাখ টাকা আনতে ওই বাসায় যান আসামিদের কয়েকজন। বাদী তৎক্ষণাৎ গুলশান থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আবদুর রাজ্জাক, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন ও কিশোর আমিনুল ইসলামকে আটক করে। পরে গ্রেপ্তার হন জানে আলম অপু।

 

চার্জশিটে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আসামিরা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করতেন।

 

সমন্বয়ক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তারা নিয়মিত থানায় যাতায়াত করতেন। বিভিন্ন মামলার আসামি আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও তাদের অবস্থান–সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে সহযোগিতা করে পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তারা।

 

পরে মামলার আসামিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অগোচরে বিভিন্ন লোকজনকে আওয়ামী লীগের দোসর, সহযোগী বা সমর্থক আখ্যা দেন এবং তাদের মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি ও চাঁদা গ্রহণ করেন।

 

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আসামি আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ চাঁদার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দিতে তিনি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন।

 

বিভিন্ন সময় ‘ফ্যাসিবাদী লোকজনকে’ গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

 

জবানবন্দিতে রিয়াদ বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই রাতে শাম্মী আহমেদ গুলশানের বাসায় আছেন, এমন খবর পেয়ে তারা থানায় যান। পরে পুলিশের একটি দল তাদের সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে শাম্মীকে পাওয়া যায়নি।

 

রিয়াদ আদালতকে বলেন, বাসা থেকে ফেরার সময় জানে আলম অপু একটি ইয়ারপড নিয়ে এসেছিলেন। সেই ইয়ারপডে লেখা ছিল ‘শাম্মি ইয়ারপড’। সেটি ফেরত দেওয়ার জন্য তারা পরে আবার ওই বাসায় যান। অপু পানি খাওয়ার অজুহাতে ভেতরে ঢোকেন।

 

এরপর বাদীকে বলা হয়, তারা বুঝতে পারছেন তার স্ত্রী বাসায় আছেন এবং তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হবে। বাদী টাকা দিতে রাজি হলে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। বাদী ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তারা তাতে রাজি হন। পরে সেই টাকা নিয়ে তারা তার বাসায় গিয়ে সমান ভাগ করে নেন।

 

বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের বিষয়ে রিয়াদ বলেন, ২৬ জুলাই বিকেল ৫টায় তিনি ইব্রাহিম হোসেন, সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাবকে ওই বাসায় পাঠান।

 

তার ভাষ্যমতে, পুলিশ তাকে ফাঁদে ফেলার জন্য বাসায় যেতে বলে। তখন তিনি গোলচত্বরে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের কথা বিশ্বাস করে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বাদী থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে তাদের হাতেনাতে আটক করে।

 

জবানবন্দির শেষে রিয়াদ বলেছেন, ‘আমি গরিবের ছেলে। আমি টাকার লোভ সামলাতে পারিনি। আমি ক্ষমা চাই।’