খুঁজুন
, ,

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আলোচিত ভূমির মালিক সচ্ছিদানন্দ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আলোচিত ভূমির মালিক সচ্ছিদানন্দ
শেয়ার করুন

সুগন্ধা পয়েন্ট সংলগ্ন আলোচিত জমি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রকৃত ভূমি মালিক সচ্ছিদানন্দ সেন গুপ্ত। তিনি জমির মালিকানা বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাঁর পাঠানো বক্তব্যটি হুবহু পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো:

“নৃপেন্দ্র মোহন সেন গুপ্ত—আমার পিতা—১৯৩৮ সালের ১৭ আগস্ট কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা মৌজার আরএস রেকর্ডভুক্ত মালিক হাসমত আলী (পিতা: জাফর আলী) এবং ফজল করিম (পিতা: ওয়াজ উদ্দিন) এর নিকট থেকে ৩.১৮ একর কৃষিজমি ক্রয় করেন।এই জমি আরএস খতিয়ান নম্বর ১২২৪/২০৪ (২.১০ একর) এবং ১২২৪/১৫১ (১.০৮ একর)-এর আওতায় রেকর্ডভুক্ত হয়। সর্বমোট জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩.১৮ একর। তৎকালীন সময়ে এ জমি এমআরআর খতিয়ান নম্বর ৬৮৮ ও ৬৮৯-এ চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত ও প্রচারিত হয়।

পরবর্তীতে, আরএস দাগ নম্বর ৫৪৬, ৯১১০ ও ৯১১১ থেকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৬৩-৬৪ অর্থবছরে ভূমি অধিগ্রহণ মামলার (এলএ মামলা নং ৩৯) মাধ্যমে ৩১ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয় এবং তার ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩১০০ টাকা আমার পিতা নৃপেন্দ্র মোহন সেন গুপ্ত উত্তোলন করেন। ফলে অবশিষ্ট জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ২.৭৭ একর।

এরপর, ১৯৯১ সালের ১৫ জানুয়ারি আমার (সচ্ছিদানন্দ সেন গুপ্ত) নামে উক্ত জমির নামজারি সম্পন্ন হয়। ২০১০ সালের ২০ মে পৃথকভাবে খতিয়ান নম্বর ৭৯০০ খোলা হয়, যার আওতায় ১.১০ একর জমি অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং আমি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) প্রদান করে আসছি।

পরবর্তীতে, ১৯৯২ সালের ১২ জানুয়ারি আমার নামে আরও একটি খতিয়ান (নং ৩২৪৭) অনুমোদিত হয়, যার আওতায় জমির পরিমাণ ১.৫৪ একর। সবশেষে, ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর খতিয়ান নম্বর ১৬০৫৭ চূড়ান্ত হয়। এই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত জমির খাজনা আমি ১৪৩২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ইলেকট্রনিক দাখিলা পদ্ধতিতে প্রদান করেছি।”**

সুতরাং, সচ্ছিদানন্দ সেন গুপ্তের পিতা নৃপেন্দ্র মোহন সেন গুপ্তের আমল থেকে জমির পরিমাণ ছিল ৩.১৮ একর। এর মধ্যে ৩১ শতক জমি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয়, ফলে অবশিষ্ট থাকে ২.৭৭ একর। অথচ নামজারি হয়েছে ২.৬৪ একর।
উক্ত জমির দাগ বি.এস দাগ নং ২০০০৩। যেহেতু খতিয়ানটি ১৯৯১-৯২ সালে করা হয় এবং পরবর্তী প্রায় ৩৫ বছর ধরে তা সরকারি স্বীকৃতি ও নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন করের আওতায় ছিল, তাই ২০২৪ সালে এসে হঠাৎ এটিকে “অবাস্তব” বলা একেবারেই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ১০৬৫৭/২০২৪ দায়ের করা হলে, আদালত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে উক্ত জমি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রমে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের কোনোপ্রকার নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এরপর সরকার পক্ষে মহামান্য সুপ্রিমকোর্ট আপীল বিভাগে আদেশের বিরুদ্ধে ১০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে আপিল করে। সেখানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট তিন মাসের জন্য (১০/১১/২০২৪–১০/০২/২০২৫) জমিতে কোনো নির্মাণকাজ না করার নির্দেশ দেন এবং হাইকোর্টকে মূল শুনানি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ প্রদান করেন।

এই অবস্থায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জমিতে লাল রঙের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙান। উক্ত বোর্ডে বাংলায় কিছু মন্তব্য লেখা হয়, যার কোনোটি আইনগত আদেশ নয়। একজন সহকারী কর্মকর্তা কীভাবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মন্তব্য করতে পারেন—তা প্রশ্নবিদ্ধ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।

সুপ্রিম কোর্টের তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে শেষ হয়। এরপর, রিটকারী সচ্ছিদানন্দ সেন গুপ্ত পুনরায় হাইকোর্টে আবেদন করলে, আদালত ৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে আবারও ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন, যা বলবৎ থাকবে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।

পত্রিকায় বলা হয়েছে, এটি “১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমি”—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এই জমি কখনোই খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এটি একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন, রেকর্ডীয়, বৈধ জমি, যার ধারাবাহিকতা রয়েছে:১৯৩৮ সালের ক্রয়সূত্রে
আরএস খতিয়ান,এমআরআর খতিয়ান,সর্বশেষ সৃজিত বি.এস খতিয়ান পর্যন্ত।

ঝিলংজা মৌজার দাগ নং ২০০০৩ এর আওতায় ২ একর ৬৪ শতক জমি রিটকারী সচ্ছিদানন্দ সেন গুপ্তের নামে চূড়ান্তভাবে প্রচারিত আছে। এবং তিনি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করেছেন।
পত্রিকায় আরও বলা হয়েছে, “নিষেধাজ্ঞা ছিল, এখন নেই”—এ কথাটিও ভুল তথ্য। সত্য হচ্ছে, মহামান্য হাইকোর্ট রিট পিটিশন নং ১০৬৫৭/২০২৪ এর প্রেক্ষিতে ৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রদান করেন, যা এখনো বলবৎ রয়েছে।

যে কারণে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন:

১৯৭৭ সালের ১৫ নভেম্বর, জমির মালিক নৃপেন্দ্র মোহন সেন গুপ্ত সম্পর্কে একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়—যে তিনি “ভারত চলে গেছেন”। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে তার ২.৭৭ একর জমির মধ্যে ২.০৩ একর জমি (ক্রমিক নং ৩১, তারিখ: ১৫/১১/১৯৭৭) অবৈধভাবে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয় এবং দখল নেওয়া হয়।

এই বেআইনি অর্পিত তালিকাভুক্তের বিরুদ্ধে, নৃপেন্দ্র মোহন সেন গুপ্তের একমাত্র পুত্র হিসেবে আমি, সচ্ছিদানন্দ সেন গুপ্ত, মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করি। উল্লেখ্য, নৃপেন্দ্র মোহন সেন গুপ্ত ছিলেন একজন বাংলাদেশের নাগরিক। ১৯৮৬ সালে তাঁর মৃত্যু হলে আমি—তাঁর একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে—উক্ত জমির বৈধ মালিক হই উত্তরাধিকার সূত্রে।

আমার জমি ঘিরে যত জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্র ঘটনার সূচনা যেভাবে:

বিগত সরকারের শাসনামলে, সায়েরা খাতুন নামের এক নারীর নামে গায়েবিভাবে জাল দলিল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আমার পৈতৃক জমি দখলের পরিকল্পনা করে।

এই ষড়যন্ত্রের নেতৃত্বে ছিলেন:কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী
মহেশখালী উপজেলার সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. নুরুল আমিনের পুত্র আতাউল্লাহ।তাদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন:সাবেক সংসদ সদস্য সায়মন সরওয়ার কমল,জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এমনকি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতা ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আরও অনেকে।

তাদের সক্রিয় সহযোগিতায়, আমার প্রায় ৩০ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে “টং” ও “স্বপ্ন” নামের স্থাপনা নির্মাণ করা হয় এবং তা এখনো অবৈধভাবে জবরদখল অবস্থায় রয়েছে।

জমি উদ্ধারের জন্য আমি ভূমি দখল প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং ১১১৮/২০২৫ দায়ের করি। মামলাটি বর্তমানে কক্সবাজার মডেল থানার তদন্তাধীন, এবং এতে ওই সিন্ডিকেটের প্রত্যেককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ভুয়া দলিল তৈরিতে সহায়তাকারী তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি), কক্সবাজার সদর—আরিফ উল্লাহ নিজামী এবং সংশ্লিষ্ট জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে আমি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করি। দুদক অভিযোগটি গ্রহণ ও অনুমোদন করেছে এবং বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ছাড়া জড়িতদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট তপ্তরে জালিয়াতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি।

অতএব, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার ভিত্তিতে কোনো সংবাদ প্রকাশ করা হলে তা শুধু প্রকৃত মালিককে হয়রানি করে না, বরং আদালতের আদেশেরও পরিপন্থী—যা আইনগতভাবে আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে।

আমি সাংবাদিক সমাজের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুরোধ করছি—তারা যেন সংবাদ প্রকাশের আগে যথাযথ তথ্য যাচাই করে, পক্ষপাতহীন ও বস্তুনিষ্ঠভাবে গণমাধ্যমের মহান দায়িত্ব পালন করেন। আপনারা জাতির বিবেক—আপনাদের কলমে যেন সর্বদা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা পায়।

প্রবাদকারী ও ব্যাখ্যাকারী:

সচ্চিদানন্দ সেন গুপ্ত, পিতা: নৃপেন্দ্র মোহন সেন গুপ্ত পরিচয়: বীর মুক্তিযোদ্ধা ও
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’